ভালোবাসার মন্ত্র: সময়-সম্মান

যা জানা জরুরি
- দাম্পত্য টিকিয়ে রাখতে দামি উপহার, বিদেশভ্রমণ কিংবা চমকপ্রদ আয়োজনের প্রয়োজন নেই।
- বরং সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করে পরস্পরের জন্য সময় বের করা এবং একে অপরকে সম্মান করা।
- এমনই সহজ মন্ত্র দিলেন বলিউড অভিনেতা বিবেক ওবেরয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দাম্পত্য টিকিয়ে রাখতে দামি উপহার, বিদেশভ্রমণ কিংবা চমকপ্রদ আয়োজনের প্রয়োজন নেই। বরং সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করে পরস্পরের জন্য সময় বের করা এবং একে অপরকে সম্মান করা। এমনই সহজ মন্ত্র দিলেন বলিউড অভিনেতা বিবেক ওবেরয়।
সম্প্রতি মির্চি প্লাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৪৭ বছর বয়সি অভিনেতা বলেন, ভালোবাসা নিঃসন্দেহে সুন্দর অনুভূতি। কিন্তু সময় এবং সম্মান ছাড়া সেই ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না। তাঁর মতে, কাউকে সত্যিই ভালোবাসলে স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর সঙ্গে সময় কাটাতে ইচ্ছে করে। তাই স্ত্রী বা সঙ্গী যদি আপনার সময় চান, সেটিকে বিরক্তির কারণ না ভেবে সৌভাগ্য হিসেবেই দেখা উচিত। কারণ, তিনি আসলে আপনার সঙ্গটাই চাইছেন।
সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের নির্যাতনই মেনে নেওয়া উচিত নয় বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন বিবেক। তাঁর মতে, নির্যাতন মানেই শুধু শারীরিক আঘাত নয়—কথার আঘাতও সমান ভাবে ক্ষতিকর। মতবিরোধ হতেই পারে, কিন্তু সেই সময় দু’জন কী ভাবে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলছেন, সেটিই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনেকটা ঠিক করে দেয়। বিবেকের কথায়, বিবাহ আসলে দুই সমান মানুষের বন্ধন।
মনোচিকিৎসক ও জীবনচর্যা প্রশিক্ষক ডেলনা রাজেশও বিবেকের বক্তব্যের সঙ্গে একমত। তাঁর মতে, সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে অনেকেই দামি উপহার, জমকালো আয়োজন, আবেগঘন বার্তা কিংবা সমাজমাধ্যমে ভালোবাসার প্রদর্শনকে গুরুত্ব দেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসবের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্ন এবং পাশে থাকার অভ্যাস।
ডেলনার মতে, ভালোবাসা শুধু মুখের কথায় প্রকাশ পায় না। সঙ্গীর সঙ্গে থাকলে তিনি নিজেকে সম্মানিত, নিরাপদ এবং গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন কি না—সেটিই সম্পর্কের আসল স্বাস্থ্য বোঝায়। অর্থ আবার উপার্জন করা যায়, হারানো জিনিস হয়তো কোনও দিন ফিরে পাওয়া সম্ভব, কিন্তু চলে যাওয়া সময় আর ফিরে আসে না। তাই দামি উপহারের চেয়ে একসঙ্গে খাওয়া, দীর্ঘ সময় গল্প করা, কোথাও ঘুরতে যাওয়া কিংবা নিছক পাশাপাশি বসে কাটানো একটি নির্ভার সন্ধ্যার স্মৃতি অনেক বেশি মূল্যবান হয়ে ওঠে।
তবে একই ঘরে থাকলেই একসঙ্গে সময় কাটানো হয় না। দু’জন পাশাপাশি বসে থেকেও যদি একজন ফোনে আর অন্য জন কাজে ডুবে থাকেন, তা হলে মানসিক দূরত্ব থেকেই যায়। বরং মাত্র ২০ মিনিট মন দিয়ে পরস্পরের কথা শোনাও সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে পারে। অর্থাৎ, সময়ের পরিমাণের চেয়ে সেই সময়ে আপনি কতটা মন দিয়ে সঙ্গীর পাশে আছেন, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দম্পতিদের জন্য ডেলনার পরামর্শও বেশ সহজ। প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট ফোন ও টেলিভিশন দূরে রেখে শুধু পরস্পরের সঙ্গে কথা বলুন। আলোচনার বিষয় যেন শুধু সংসারের খরচ, কাজ বা দৈনন্দিন দায়িত্বে আটকে না থাকে। বরং জানতে চান, কী তাঁকে আনন্দ দিয়েছে, কী কষ্ট দিয়েছে, কী নিয়ে তিনি চিন্তিত বা আশাবাদী।
সঙ্গীর ছোট প্রচেষ্টার প্রশংসা করা, তর্কের সময় তাঁর মর্যাদা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত দুর্বলতাকে কখনও ঝগড়ার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করাও সম্পর্কের জন্য জরুরি। আর মাঝেমধ্যে একটি প্রশ্নই হয়তো অনেকটা বদলে দিতে পারে সম্পর্কের আবহ—“এই সপ্তাহে কী করলে তুমি নিজেকে আরও ভালোবাসা আর যত্ন পাওয়া মানুষ বলে অনুভব করবে?”
শেষ পর্যন্ত বিবেক ও ডেলনার পরামর্শের সারকথা একটাই—ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে সব সময় বড় কিছু করার প্রয়োজন নেই। সময় দিন, মন দিয়ে শুনুন, সম্মান করুন—বাকিটা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



