‘২৬ বছর মুছবে না!’

যা জানা জরুরি
- একটি আর্থিক বিরোধ কি মুছে দিতে পারে ২৬ বছরের অভিনয়জীবন?
- চেক প্রত্যাখ্যানের মামলায় আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই যাঁরা তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবন ও সুনামকে প্রশ্নের মুখে ফেলছেন, তাঁদের কড়া জবাব দিলেন অভিনেতা।
- তাঁর বক্তব্য, একটি আর্থিক বা আইনি সঙ্কট দিয়ে কোনও শিল্পীর গোটা জীবন, পরিচয় এবং অবদানকে মাপা যায় না।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
একটি আর্থিক বিরোধ কি মুছে দিতে পারে ২৬ বছরের অভিনয়জীবন? জবাবটা স্পষ্ট—না। অন্তত অভিনেতা রাজপাল যাদবের তাই বিশ্বাস। চেক প্রত্যাখ্যানের মামলায় আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই যাঁরা তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবন ও সুনামকে প্রশ্নের মুখে ফেলছেন, তাঁদের কড়া জবাব দিলেন অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য, একটি আর্থিক বা আইনি সঙ্কট দিয়ে কোনও শিল্পীর গোটা জীবন, পরিচয় এবং অবদানকে মাপা যায় না।
এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজপাল নিজেকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ‘একনিষ্ঠ ছাত্র’ এবং দায়িত্বশীল শিল্পী বলে উল্লেখ করেন। তাঁর প্রশ্ন, “তহবিল নিয়ে সমস্যা হয়েছে বলেই একজন শিল্পীর গোটা জীবনপঞ্জিকে কী ভাবে বাজি রাখা যায়?” মানুষের ভালবাসাকেই নিজের সবচেয়ে বড় পরিচয় বলে দাবি করে অভিনেতা জানান, দেশের যে বিমানবন্দরেই যান, বহু মানুষ তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে এগিয়ে আসেন।
রাজপালের বক্তব্য, পাঁচ কোটি, দশ কোটি, একশো কোটি কিংবা আড়াইশো কোটি টাকা দিয়েও তাঁকে কেনা সম্ভব নয়। কারণ, ছোটবেলা থেকেই তিনি নিজেকে অভিনয় ও শিল্পের কাছে সমর্পণ করেছেন। অর্থ দিয়ে তাঁর শিল্পীসত্তার মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। জীবনে সাফল্য যেমন এসেছে, তেমনই কঠিন সময়ও এসেছে। কিন্তু কোনও পরিস্থিতিতেই অভিনয় এবং দর্শকদের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা বদলায়নি।
নিজের অভিনয়-দর্শনের শিকড়ের কথাও তুলে ধরেছেন রাজপাল। ভারতীয় নাট্যধারার ঐতিহ্য এবং ভরত মুনির শিক্ষা তাঁর শিল্পীসত্তাকে গভীর ভাবে প্রভাবিত করেছে বলে জানান তিনি। তাঁর কাছে জীবন নিজেই এক মঞ্চ, আর মানুষ সেই মঞ্চের যাত্রী। তাই একজন শিল্পীর বিচার হওয়া উচিত তাঁর গোটা কাজের ভিত্তিতে, কোনও একটি আর্থিক বিপর্যয় দিয়ে নয়।
এমনকি ২০০০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নিজের অভিনয়জীবনের কাজ ও অর্জনকে নথিবদ্ধ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন অভিনেতা। সেই কাজ সম্পূর্ণ করতে আরও এক থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি।
রাজপালের এই বক্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আর্থিক বিরোধ। নিজের পরিচালিত ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’ তৈরির জন্য ২০১০ সালে সংস্থাটির কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। সুদ ও অন্যান্য দায় যোগ হয়ে পরবর্তী সময়ে সেই বকেয়া প্রায় নয় কোটি টাকায় পৌঁছয়। ঋণ শোধের জন্য দেওয়া একাধিক চেক বাউন্স করায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়।
গত ১০ জুলাই দিল্লি হাই কোর্ট সাতটি চেক প্রত্যাখ্যানের মামলায় রাজপালের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। প্রতিটি মামলায় তিন মাসের সাধারণ কারাদণ্ড দেওয়া হলেও সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি মামলায় ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা করে জরিমানাও ধার্য হয়েছে। উচ্চতর আদালতে আবেদন করার সুযোগ দিতে অবশ্য তাঁকে দু’মাসের সুরক্ষা দেওয়া হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, একাধিক সুযোগ ও প্রতিশ্রুতির পরেও রাজপাল বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি। ফলে আইনি লড়াই এখনও শেষ হয়নি।
তবে রাজপালের বার্তা স্পষ্ট—জীবনে ধাক্কা এসেছে, কিন্তু তিনি হারিয়ে যাননি। ছবি নির্মাণে আর্থিক ক্ষতি, ব্যক্তিগত বিপর্যয় কিংবা পেশাগত কঠিন সময়—কোনও কিছুই তাঁকে শিল্পের পথ থেকে সরাতে পারেনি। আইনি মামলার শেষ কথা আদালত বলবে, কিন্তু তাঁর ২৬ বছরের শিল্পীজীবনের মূল্যায়ন করবেন দর্শকরাই—এটাই যেন রাজপালের শেষ কথা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



