বাবা সুপারস্টার, ছেলে এবার পরিচালকের চেয়ারে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা বিজয়ের ছেলে জেসন সঞ্জয় খুব শিগগিরই পরিচালনায় পা রাখতে চলেছেন। সুন্দীপ কিশন অভিনীত ‘সিগমা’ দিয়েই শুরু হচ্ছে তাঁর নতুন যাত্রা। আর ছবির মুক্তির আগে প্রথম সাক্ষাৎকারেই এমন এক উত্তর দিলেন জেসন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চর্চা।
যদি কখনও হলিউড তারকা জেসন স্ট্যাথামের সঙ্গে ছবি করার সুযোগ পান, তাহলে তামিল ইন্ডাস্ট্রি থেকে কাকে তাঁর সঙ্গে জুটি বাঁধাবেন? প্রশ্নের উত্তর দিতে এক মুহূর্তও সময় নেননি জেসন—বাবা বিজয়।
বিহাইন্ডউডস টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ‘সিগমা’ দেখে স্ট্যাথাম যদি তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চান, তাহলে তামিল ইন্ডাস্ট্রি থেকে কাকে ছবিতে নিতে চাইবেন? জেসনের সোজাসাপ্টা উত্তর, “আমার বাবা। ওঁর সঙ্গে স্ট্যাথামের দারুণ জুটি হবে।”
এরপর অবশ্য নিজেই হেসে যোগ করেন, “এই উত্তর শুনে সবাই আবার মিম বানাতে শুরু করবে।”
অভিনেতা নয়, পরিচালক কেন?
বাবার মতো অভিনেতা হওয়ার পথে না হেঁটে পরিচালনাকে পেশা হিসেবে বেছে নিলেন কেন জেসন? তাঁর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে শৈশবেই।
ছোটবেলা থেকেই বাবার শুটিং সেটে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ধীরে ধীরে সেটের পরিবেশ তাঁর কাছে এতটাই পরিচিত হয়ে যায় যে সিনেমার জগতটাই হয়ে ওঠে স্বাভাবিক এক পরিসর।
জেসনের কথায়, ছোটবেলা থেকেই সেটে যাওয়া তাঁর জীবনের অংশ ছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।
তবে পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন অবশ্য একেবারে শুরু থেকেই ছিল না। বরং তাঁর স্বপ্নের তালিকায় একসময় ছিল বিমান ও ক্রিকেট—দুই-ই!
জেসন জানান, প্রথমে তিনি পাইলট হতে চেয়েছিলেন। পরে ক্রিকেটার হওয়ার ইচ্ছেও হয়েছিল। কিন্তু একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে পৌঁছনোর পর সিনেমার প্রতি আগ্রহ বাড়তে শুরু করে। কলেজে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেন, চলচ্চিত্র নির্মাণই শিখবেন।
গল্প বলার নেশা থেকেই পরিচালনা
অভিনয়ের প্রতি কেন আগ্রহ তৈরি হয়নি? জেসনের মতে, তাঁর আসল টান বরাবরই ছিল গল্প বলা।
ছোটবেলা থেকেই বন্ধুদের সঙ্গে নানা ঘটনা গল্পের মতো করে বলতে ভালোবাসতেন। পরে সেই গল্পগুলো লিখে রাখার অভ্যাসও তৈরি হয়। ধীরে ধীরে লেখালেখি শখে পরিণত হয়। আর সেই শখই তাঁকে নিয়ে যায় চলচ্চিত্র নির্মাণের দিকে।
চলচ্চিত্র নির্মাণ শেখার জন্য এরপর কানাডায় পাড়ি দেন জেসন। সেখানে গিয়েই আরও পরিষ্কার হয়ে যায়, ক্যামেরার সামনে নয়, ক্যামেরার পেছনেই নিজের ভবিষ্যৎ দেখতে চান তিনি।
কানাডায় হাতেকলমে শিক্ষা
কানাডায় পড়াশোনার সময় শুধু ক্লাসরুমের শিক্ষাতেই আটকে থাকেননি জেসন। তাঁর অধ্যাপকের মাধ্যমে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করার সুযোগ পান। স্টার্টআপ সংস্থাগুলির জন্য বিজ্ঞাপন তৈরির সেই কাজেই পান বাস্তব অভিজ্ঞতা।
জেসনের কথায়, সেই কাজ করতে করতেই তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের নানা দিক হাতে-কলমে শেখার সুযোগ হয়।
তবে তাঁর চলচ্চিত্রবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আরও একটি অভিজ্ঞতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ—টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব।
একাধিকবার সেখানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন জেসন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নানা ধরনের ছবি দেখার সুযোগ পেয়েছেন। আর সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর সিনেমা দেখার দৃষ্টিভঙ্গিকে অনেকটাই বদলে দেয়।
টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে নিবিন পলির সঙ্গে দেখা
টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে কাজ করার সময় অভিনেতা নিবিন পলির সঙ্গেও দেখা হয়েছিল জেসনের। সেখানে প্রদর্শিত হয়েছিল পলির ছবি ‘মুথোন’।
জেসনের কথায়, সেই সময় বিভিন্ন ধরনের ছবি দেখা এবং চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষের সঙ্গে মেশার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতাগুলিই ধীরে ধীরে তাঁর চলচ্চিত্রবোধকে আরও পরিণত করেছে।
এবার সেই শেখা ও অভিজ্ঞতারই পরীক্ষা হতে চলেছে ‘সিগমা’-য়। আর পরিচালক হিসেবে জেসন সঞ্জয়ের প্রথম ছবি মুক্তির আগেই তাঁর স্ট্যাথাম-বিজয় জুটি নিয়ে মন্তব্য যে ভক্তদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলাই যায়।