খবর

NEET প্রশ্নফাঁসে ফের পরীক্ষা, সেই তিক্ত স্মৃতি মনুষীর

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • মুম্বই: আজ তিনি বলিউডের পরিচিত মুখ, প্রাক্তন মিস ওয়ার্ল্ডও।
  • কিন্তু একসময় তাঁর পরিচয় ছিল আর পাঁচজন মেডিক্যাল পড়ুয়ার মতোই—একজন NEET পরীক্ষার্থী।
  • আর সেই পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসই একসময় নতুন করে পরীক্ষার হলে বসতে বাধ্য করেছিল মনুষী ছিল্লারকে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

মুম্বই: আজ তিনি বলিউডের পরিচিত মুখ, প্রাক্তন মিস ওয়ার্ল্ডও। কিন্তু একসময় তাঁর পরিচয় ছিল আর পাঁচজন মেডিক্যাল পড়ুয়ার মতোই—একজন NEET পরীক্ষার্থী। আর সেই পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসই একসময় নতুন করে পরীক্ষার হলে বসতে বাধ্য করেছিল মনুষী ছিল্লারকে।

সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খানের সঙ্গে এক পডকাস্টে সেই কঠিন সময়ের স্মৃতি ভাগ করে নেন মনুষী। জানান, ২০১৫ সালের NEET প্রশ্নফাঁসের জেরে তাঁকেও ফের প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে হয়েছিল। মাসের পর মাস প্রস্তুতির পর আচমকা ফের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হওয়া যে কতটা মানসিক চাপের, তা নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই জানেন তিনি।

মনুষীর কথায়, এই অভিজ্ঞতার একটা ব্যক্তিগত দিক যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে দেশের অগণিত পরীক্ষার্থীর বাস্তবতা। সেই সময় NEET-এর প্রস্তুতির জন্য এক বছরের মতো সময় ধরে কুচিপুড়ি নাচ শেখা এবং ছবি আঁকার মতো প্রিয় কাজও ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি।

মাসের পর মাস পড়াশোনার পর যখন জানানো হল আরও ৪৫ দিন অপেক্ষা করে ফের পরীক্ষা দিতে হবে, তখন পরিস্থিতিটা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। মনুষীর কথায়, তখন মনে হচ্ছিল—আর কতটা মানসিক শক্তি বাকি আছে?

তবে সেই কঠিন সময়েও পরিবার তাঁকে মানসিকভাবে সামলে রেখেছিল। বাবা-মায়ের উৎসাহে প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা শরীরচর্চা করতেন তিনি। কখনও বাস্কেটবল খেলতেন, কখনও জিমে যেতেন। পড়াশোনার প্রবল চাপের মাঝেও এই সময়টা তাঁকে মানসিকভাবে স্বস্তি দিত।

‘আমি ভাগ্যবান ছিলাম’

নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে মনুষী অবশ্য মনে করিয়ে দেন, তাঁর পরিস্থিতি অনেকের তুলনায় সুবিধাজনক ছিল। কারণ, প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর পরিবার যে একই রকম সহায়তা দিতে পারে না, সেটি খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন তিনি।

NEET-এর প্রস্তুতির সময় এমন অনেক পড়ুয়ার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল, যাঁদের পরিবার ঋণ নিয়ে কোচিংয়ের খরচ চালিয়েছে। কেউ আবার অন্য শহরে গিয়ে ছোট পেয়িং গেস্টে থেকে পড়াশোনা করেছেন। কারও জীবনের সমস্ত সময়, শক্তি ও প্রত্যাশা যেন আটকে ছিল ওই একটি পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে।

তাই নিজের অভিজ্ঞতাকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় বলে মনে করেন না মনুষী। বরং সেই সময়ে অন্য পরীক্ষার্থীদের সংগ্রাম তাঁকে বুঝিয়েছিল, একই পরীক্ষার চাপ সবার উপর সমানভাবে পড়ে না।

সেই স্মৃতি ফের কেন?

২০২৬ সালের NEET-UG নিয়ে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহেই মনুষীর পুরনো অভিজ্ঞতা ফের সামনে এসেছে। চলতি বছরের পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্কের জেরে তদন্ত, পুনঃপরীক্ষা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি জোরদার হয়। শেষ পর্যন্ত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।

ফলে এক দশকেরও বেশি পুরনো সেই স্মৃতি যেন নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। মনুষীর গল্প শুধু একজন তারকার পরীক্ষার অভিজ্ঞতা নয়—এটি এমন এক পরীক্ষাব্যবস্থার কথাও মনে করিয়ে দেয়, যেখানে একটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ধাক্কায় হাজার হাজার পড়ুয়ার এক বছরের পরিশ্রম, মানসিক শক্তি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মুহূর্তে অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles