Table of Contents
হাইলাইটস
- সেরা ফিচার ফিল্ম: ‘আর্টিকেল ৩৭০’
- সেরা অভিনেত্রী: ইয়ামি গৌতম (প্রথম জাতীয় পুরস্কার)
- যুগ্ম সেরা অভিনেতা: কার্তিক আরিয়ান ও মাম্মুট্টি
- সেরা পরিচালক: রাজকুমার পেরিয়াসামি (‘আমরণ’)
- সেরা বাংলা ছবি: ‘চলচিত্র এখন’
- বিশেষ উল্লেখ: ধনুষ (‘ক্যাপ্টেন মিলার’)
ভারতের ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণায় এ বছর কার্যত বাজিমাত করল ‘আর্টিকেল ৩৭০’। শনিবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে CBFC-র ছাড়পত্রপ্রাপ্ত ছবিগুলিকে এবারের পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় সম্মান সেরা ফিচার ফিল্ম বিভাগে জিতেছে ‘আর্টিকেল ৩৭০’। শুধু সেরা ছবিই নয়, এই সিনেমার জন্য ইয়ামি গৌতম জিতেছেন জীবনের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। একই ছবির জন্য শাশ্বত সচদেব পেয়েছেন সেরা সঙ্গীত পরিচালকের সম্মান। সব মিলিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পুরস্কার জিতে এবারের আসরের সবচেয়ে সফল ছবির তকমা পেল ‘আর্টিকেল ৩৭০’।
যুগ্ম সেরা অভিনেতা কার্তিক ও মাম্মুট্টি
এবারের সেরা অভিনেতা বিভাগে যৌথভাবে পুরস্কৃত হয়েছেন কার্তিক আরিয়ান এবং মাম্মুট্টি।
‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’ ছবিতে প্যারালিম্পিক্সের স্বর্ণজয়ী মুরলীকান্ত পেটকরের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথমবার জাতীয় পুরস্কার জিতলেন কার্তিক। অন্যদিকে ‘ব্রহ্মযুগম’-এ অনবদ্য অভিনয়ের সুবাদে নিজের কেরিয়ারের চতুর্থ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘরে তুললেন মালয়ালম সুপারস্টার মাম্মুট্টি।
‘আমরণ’ ও ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’-রও বড় সাফল্য
‘আমরণ’ ছবির জন্য রাজকুমার পেরিয়াসামি নির্বাচিত হয়েছেন সেরা পরিচালক। একই ছবি আরও দুটি কারিগরি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে—জি ভি প্রকাশ পেয়েছেন সেরা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সম্মান এবং আর কালাইভানন জিতেছেন সেরা সম্পাদনার পুরস্কার।
অন্যদিকে ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ জিতেছে সেরা জনপ্রিয় বিনোদনধর্মী চলচ্চিত্র এবং সেরা প্রোডাকশন ডিজাইন বিভাগে পুরস্কার।
এদিকে ‘ক্যাপ্টেন মিলার’ নির্বাচিত হয়েছে জাতীয়, সামাজিক ও পরিবেশগত মূল্যবোধ প্রচারে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে। একই ছবির জন্য ধনুষ পেয়েছেন বিশেষ উল্লেখ (Special Mention) সম্মান।
অভিনয় ও কারিগরি বিভাগে বিজয়ীরা
- সেরা পার্শ্ব অভিনেতা: সঞ্জয় মিশ্র (ভক্ষক)
- সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী: রূপশ্রী ভারকাডি (মিথ্যা) ও সচনা নামিদাস (মহারাজা)
- সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য: সুকুমার (পুষ্পা ২)
- সেরা সংলাপ: ভেঙ্কি আটলুরি (লাকি ভাস্কর)
- সেরা চিত্রগ্রহণ: শেহনাদ জলাল (ব্রহ্মযুগম)
- সেরা অ্যাকশন পরিচালনা: অনল আরাসু (মহারাজা)
- সেরা পোশাক পরিকল্পনা: দীপালি নূর ও শীতল শর্মা (পুষ্পা ২)
- সেরা কোরিওগ্রাফি: বিজয় গাঙ্গুলি (স্ত্রী ২)
- সেরা গীতিকার: মনোজ মুন্তাশির (ময়দান)
- সেরা শব্দ পরিকল্পনা: মানস চৌধুরী (ভুল ভুলাইয়া ৩)
রণদীপ হুডার প্রথম পরিচালনাতেই জাতীয় স্বীকৃতি
অভিনেতা রণদীপ হুডা তাঁর পরিচালিত প্রথম ছবি ‘স্বাতন্ত্র্য বীর সাভারকর’-এর জন্য সেরা নবাগত পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি বলেন, এই ছবি তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন ও আবেগঘন প্রকল্প ছিল এবং এই সম্মান পুরো টিমের।
ধনুষের জোড়া সাফল্য
অভিনেতা হিসেবে ‘ক্যাপ্টেন মিলার’-এর জন্য বিশেষ উল্লেখ পাওয়ার পাশাপাশি পরিচালক হিসেবেও সাফল্য পেলেন ধনুষ। তাঁর পরিচালিত ‘রায়ান’ নির্বাচিত হয়েছে সেরা তামিল চলচ্চিত্র।
আঞ্চলিক ছবির বিভাগে সেরারা
- সেরা বাংলা ছবি: চলচিত্র এখন
- সেরা মালয়ালম ছবি: ফেমিনিচি ফাতিমা
- সেরা তেলুগু ছবি: কমিটি কুররোল্লু
- সেরা কন্নড় ছবি: মিথ্যা
- সেরা তামিল ছবি: রায়ান
- সেরা অসমীয়া ছবি: জুইফুল
- সেরা মারাঠি ছবি: মুক্কাম পোস্ট বম্বিলওয়াড়ি
- সেরা ওড়িয়া ছবি: লাহারি
- সেরা গুজরাটি ছবি: মারান
- সেরা মণিপুরি ছবি: সুনীতা
- সেরা কোঙ্কনি ছবি: মোগ আসুম
- সেরা তুলু ছবি: ইম্বু
- সেরা গড়ওয়ালি ছবি: ঢোলি
অ-ফিচার বিভাগে কারা জিতলেন?
- সেরা অ-ফিচার চলচ্চিত্র: ভাঙ্গার
- সেরা তথ্যচিত্র: রাম-নামি
- সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি: হামসফর
- সেরা পরিচালক: আনন্দ এল রাই (স্ট্যাচু অফ ইউনিটি – একতা কা প্রতীক)
- সেরা অ্যানিমেশন: টাচড অ্যাজ ওয়াটার
- সেরা শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক ছবি: ম্যায়ন নিদা
- সামাজিক ও পরিবেশগত মূল্যবোধ প্রচারে সেরা অ-ফিচার চলচ্চিত্র: পিপলানত্রী: আ টেল অব ইকো ফেমিনিজম
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পুরস্কার
- সেরা শিশু চলচ্চিত্র: ৩৫ চিন্না কথা কাডু
- সেরা শিশু শিল্পী: ঋদ্ধিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, তপোময় দেব, গীতাশ্রী চক্রবর্তী, অরুন্দেব পোথুলা ও অতীশ এস. শেট্টি
- বিশেষ উল্লেখ: ধনুষ (ক্যাপ্টেন মিলার) এবং সুরেন জি (মেইয়াঝাগান)
- সিনেমা বিষয়ক সেরা বই: নানিরুভুদে নিমাগাগি নাদিরুভুদে নানাগাগি: কন্নড় সিনেমাদা তত্ত্ব মত্তু রাজকীয়
- সেরা চলচ্চিত্র সমালোচক: সঞ্জীব শ্রীবাস্তব
এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে একদিকে যেমন ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সবচেয়ে বড় বিজয়ী হয়ে উঠেছে, তেমনই ইয়ামি গৌতমের প্রথম জাতীয় পুরস্কার, কার্তিক আরিয়ানের প্রথম সেরা অভিনেতার সম্মান এবং মাম্মুট্টির চতুর্থ জাতীয় পুরস্কার এবারের আসরকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।