হাইলাইটস:
- ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালুর নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট।
- আদালতের পর্যবেক্ষণ, নিট (NEET) পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রের উদ্বেগের কারণ আর প্রাসঙ্গিক নয়।
- কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করতে সরকারের আর কোনও আপত্তি নেই।
- প্রধান বিচারপতির একটি মৌখিক মন্তব্যকে ঘিরে ব্যঙ্গাত্মক সামাজিক মাধ্যম উদ্যোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।
বাংলাস্ফিয়ার: মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করার নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি স্বরণ কান্ত শর্মার বেঞ্চ দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের আবেদন মঞ্জুর করে জানায়, কেন্দ্র যে কারণে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করেছিল, সেই কারণ এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়, কারণ নিট (NEET) পরীক্ষা ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে।
কেন্দ্রের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, সরকারের মূল উদ্বেগ ছিল, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে করা পোস্ট নিট পরীক্ষার সময় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় সেই আশঙ্কা আর নেই।
আদালতও একই মত প্রকাশ করে জানায়, কেন্দ্রের উল্লেখ করা মূল কারণটির আর কোনও ভিত্তি নেই। ফলে আবেদন মঞ্জুর করে অ্যাকাউন্ট বন্ধের নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়। সলিসিটর জেনারেলও স্পষ্ট জানান, অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করতে কেন্দ্রের কোনও আপত্তি নেই।
এর আগে আদালত কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের পর্যালোচনা কমিটিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিল। একই সঙ্গে আবেদনকারী অভিজিৎ দিপককে ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ একটি ব্যঙ্গাত্মক সামাজিক মাধ্যম উদ্যোগ, যার সূচনা হয় দেশের প্রধান বিচারপতির একটি মৌখিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি অনলাইন সক্রিয়তার আড়ালে ব্যবস্থার উপর আক্রমণ চালানো কিছু বেকার যুবককে ‘ককরোচ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
পরে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন, তাঁর মন্তব্যটি আসলে ভুয়ো ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশেই করা হয়েছিল। তবে সেই মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলি অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ অনুসারী পেয়ে যায়। এরপরই সেগুলি স্থগিত করা হয়েছিল।