Home খবর জেলে রণক্ষেত্র, নিহত ২৬

জেলে রণক্ষেত্র, নিহত ২৬

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
7 views 2 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো কারাগারে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৬ জন নিহত।
  • নিহতদের মধ্যে সাত জন কারারক্ষী; শতাধিক বন্দি ও নিরাপত্তাকর্মী আহত।
  • দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক চক্রের সংঘর্ষ থেকেই সহিংসতার সূত্রপাত বলে পুলিশের দাবি।
  • পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবাহিনীর ড্রোন ও হেলিকপ্টার মোতায়েন।
  • ঘটনার তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন।

শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো কারাগারে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক চক্রের সংঘর্ষ রীতিমতো রক্তক্ষয়ী দাঙ্গার রূপ নিল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই ঘটনায় অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাত জন কারারক্ষী। এছাড়া শতাধিক বন্দি ও নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এটিকে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে ভয়াবহ কারাগার-দাঙ্গাগুলির একটি বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজধানী কলম্বোর উত্তরে অবস্থিত নেগোম্বো কারাগারে রবিবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাতভর চলা সহিংসতার পর আহতদের নেগোম্বো সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে প্রথমে ২৩ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হলেও পরে বিচারমন্ত্রী হর্ষণা নানায়াক্কারা আরও তিন জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেন। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬।

বিচারমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধী গোষ্ঠীর সদস্যদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর কথায়, “নিহতরা বন্দি হোক বা অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকুক, মানুষের মৃত্যু কখনওই কাম্য নয়।”

সংঘর্ষের জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা কারাগারে। একসময় মহিলা বন্দিদের একটি অংশ পাশের ভবনের ছাদে উঠে মুক্তির দাবি জানায়। সেই সময় ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়লে কয়েক জন মহিলা বন্দিও আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারা কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার বিমানবাহিনীকেও নামানো হয়। নজরদারির জন্য মোতায়েন করা হয় ড্রোন ও হেলিকপ্টার। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালীন একাধিকবার গুলির শব্দ শোনা যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, কয়েক জন বন্দি কারারক্ষীদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়েছিল, যার জেরেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

ঘটনার তদন্তে সরকার অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি দাঙ্গার কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকগুলি খতিয়ে দেখবে।

কারা দফতরের মুখপাত্র চামিন্দা গজনায়াকে জানিয়েছেন, সংঘর্ষে কোনও বিদেশি বন্দি ক্ষতিগ্রস্ত হননি। সোমবার কারাগারের বাইরে বহু বন্দির পরিবারের সদস্যদের ভিড় জমে যায়। নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

২০২০ সালের ডিসেম্বরেও অতিমারির সময় শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে দাঙ্গায় ১১ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর অতিরিক্ত ভিড় কমাতে বহু বন্দিকে মুক্তি দিয়েছিল সরকার। তবু সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলিতে বর্তমানে প্রায় ৪১ হাজারের বেশি বন্দি রয়েছেন, যা নির্ধারিত ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ। অতিরিক্ত ভিড়, অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই এই ভয়াবহ দাঙ্গার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles