হাইলাইটস
- পুণেতে কেতন আগরওয়ালের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিশাল মোমবাতি মিছিল।
- নিহতের বাবা-মা, দাদু ও পরিবারের সদস্যদের আবেগঘন উপস্থিতি।
- অভিযুক্ত সিয়া গোয়াল ও চেতন চৌধুরীর সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের দাবি।
- আবাসনের বাসিন্দারাও ‘জাস্টিস ফর কেতন’ স্লোগানে সরব।
- পুলিশ তদন্তে সম্পর্ক, ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিত হত্যার নানা দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলাস্ফিয়ার: পুণের বহুচর্চিত কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ড ঘিরে ক্ষোভ ও শোক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। শনিবার সন্ধ্যায় পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকার লোধা বেলমন্ডো আবাসনে শতাধিক বাসিন্দা মোমবাতি মিছিল করে নিহত তরুণ রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানান। সেই মিছিলে অংশ নেন কেতনের বাবা-মা, দাদু এবং পরিবারের অন্য সদস্যরাও। তাঁদের একটাই দাবি— অভিযুক্ত সিয়া গোয়াল ও চেতন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক।
মিছিলে আবেগপ্রবণ হয়ে কেতনের বাবা বলেন, তাঁদের বাড়িতে খুব শিগগিরই নতুন বউ আসার কথা ছিল। সেই আনন্দের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু তার বদলে ছেলের মরদেহ ঘরে ফিরেছে। তাঁর কথায়, এই ক্ষতির কোনও প্রতিকার নেই। তাই আইনের সর্বোচ্চ শাস্তিই হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
কেতনের দাদুও গভীর বেদনা প্রকাশ করে বলেন, তাঁরা যাঁদের বিশ্বাস করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাঁদেরই হাতে পরিবারটি প্রতারিত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় শুধু একজন তরুণের প্রাণ যায়নি, ভেঙে গিয়েছে একটি পরিবারের ভবিষ্যতের সব স্বপ্ন। তিনি বলেন, দোষীদের কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়।
মোমবাতি হাতে আবাসনের বাসিন্দারা ‘জাস্টিস ফর কেতন’ এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দেন। তাঁদের বক্তব্য, এটি শুধু একটি পরিবারের লড়াই নয়; সমাজে নারকীয় অপরাধের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদও। শান্তিপূর্ণ এই পদযাত্রায় বহু নারী, প্রবীণ এবং তরুণ-তরুণী অংশ নেন।
এদিকে তদন্তেও নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত সিয়া গোয়াল ও চেতন চৌধুরীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং সেই সম্পর্কের জেরেই কেতনকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়ে থাকতে পারে। তদন্তকারীরা মোবাইল ফোনের তথ্য, মুছে ফেলা বার্তা এবং দুই অভিযুক্তের যোগাযোগের নথি খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি তাঁদের পরিচয়ের সূত্র ও পারিবারিক সম্পর্ক নিয়েও তদন্ত চলছে।
পুলিশের দাবি, ঘটনাটি আকস্মিক নয়; বরং পরিকল্পিত হতে পারে। সেই কারণেই ডিজিটাল ফরেনসিক, কল রেকর্ড, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে পুরো ঘটনার ক্রম পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।
কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর পর মহারাষ্ট্রজুড়ে এই মামলা ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। পরিবারের দাবি, তাঁরা বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখলেও বিচার যেন দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং অপরাধীদের এমন শাস্তি দেওয়া হয়, যা ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেবে। শনিবারের মোমবাতি মিছিল সেই দাবিকেই আরও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এল।