বেকারত্ব, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগে বিলম্বকে ইস্যু করে যুবসমাজকে সংগঠিত করতে কংগ্রেসের তৎপরতা
হাইলাইটস:
- জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রয়াগরাজে ছাত্র-যুব সমাবেশে যোগ দেবেন রাহুল গান্ধী।
- প্রশ্নপত্র ফাঁস, সরকারি চাকরির নিয়োগে বিলম্ব ও বেকারত্বকে সামনে রেখে প্রচার শুরু করেছে কংগ্রেস।
- আগামী ১৫ দিন জুড়ে ক্যাম্পাস, কোচিং কেন্দ্র ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক জনসংযোগ চালাবে দল।
- উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যুব ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই উদ্যোগকে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর প্রয়াগরাজ সফরকে ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করেছে কংগ্রেস। জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে চলা ছাত্র-যুব সমাবেশকে সামনে রেখে দল ইতিমধ্যেই এক মাসব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু করেছে। লক্ষ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস, সরকারি চাকরির নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা, বেকারত্ব এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যা নিয়ে ক্ষুব্ধ তরুণদের সংগঠিত করা।
কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশের সাধারণ সম্পাদক অনিল যাদবকে এই কর্মসূচির সমন্বয়কারী করেছে। দলীয় কর্মীরা আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে পথসভা, পথনাটক, প্রচারপত্র বিলি, মশাল মিছিল এবং ছাত্র-শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি একটি ‘মিসড কল’ প্রচারও চালানো হবে, যার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন।
কংগ্রেসের মতে, প্রয়াগরাজ ঐতিহাসিকভাবে ছাত্ররাজনীতির অন্যতম কেন্দ্র। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তাকে বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনায় রূপ দিতে চাইছে দল। শুধু নিজেদের ছাত্র সংগঠন নয়, অন্যান্য সংগঠনের ছাত্র, প্রাক্তন ছাত্রনেতা এবং শিক্ষাবিদদেরও এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই প্রচারাভিযান রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রদের কণ্ঠস্বর’ কর্মসূচিরই সম্প্রসারণ। রাজস্থানের কোটায় প্রথম সমাবেশ করার পর এবার উত্তরপ্রদেশে সেই কর্মসূচি নিয়ে আসছেন তিনি। এরপর পাটনা ও দিল্লিতেও অনুরূপ ছাত্র সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তরুণ ভোটারদের মধ্যে সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করাই কংগ্রেসের অন্যতম লক্ষ্য। প্রয়াগরাজে কংগ্রেসের সাংসদ উজ্জ্বল রমন সিংয়ের জয়ের পর দল এই অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক জমি তৈরি করতে চাইছে। সূত্রের খবর, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাও এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেন, যদিও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।