হাইলাইটস
- ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালাল মার্কিন বাহিনী।
- বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান বলে দাবি সেন্টকমের।
- কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডের।
- প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে ‘কাজ শেষ’ করতে আরও বড় সামরিক অভিযান চালানো হবে।
- যুদ্ধবিরতির স্মারক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কূটনৈতিক আলোচনা বন্ধ করার হুমকি তেহরানের।
- হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ফের চরমে পৌঁছেছে। যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই শনিবার ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের ধারাবাহিক হামলার প্রত্যক্ষ জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ঘাঁটি, ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার সক্ষমতার ওপর নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌচলাচল নিরাপদ রাখাই এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য।
এই সংঘাত এমন এক সময়ে আরও তীব্র হল, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছিল। দীর্ঘ সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, এমন সময় আসতে পারে যখন যুক্তরাষ্ট্র আর সংযম দেখাবে না। প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে ‘অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ’ করা হবে। তাঁর আরও দাবি, সে পরিস্থিতি তৈরি হলে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড জানায়, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। গার্ডের দাবি, কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটি এবং বাহরাইনের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিসহ আটটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। ইরানের দাবি, মার্কিন হামলা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে। ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি স্মারকের প্রথম ধারার লঙ্ঘন হওয়ায় সব ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া স্থগিত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। তেহরানের ভাষ্য, ভবিষ্যতে যে কোনও ধরনের মার্কিন আগ্রাসনের জবাব হবে ‘চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়ার মতো’।
অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার ইরানের হামলার পরও তেহরানকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শনিবার ভোরে একটি একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ কিকু-তে আঘাত হানে। ওই জাহাজে ২০ লক্ষেরও বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল এবং সেটি হরমুজ প্রণালির কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিল। সেই হামলার জবাব হিসেবেই নতুন সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি সেন্টকমের। সেন্টকম আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। মার্কিন বাহিনী সর্বক্ষণ প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সও আগেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন— হিংসার জবাব হিংসাতেই দেওয়া হবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট যে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। একই সঙ্গে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের নিয়ন্ত্রণ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্য আরও গভীর হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।