হাইলাইটস

  • অসমের অধিকাংশ এলাকা থেকে নেতিবাচক ভ্রমণ সতর্কতা তুলে নিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
  • মুখ্যমন্ত্রী Himanta Biswa Sarma জানিয়েছেন, ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের নাগরিকরা এখন অনেক বেশি সহজে অসম সফর করতে পারবেন।
  • তবে আফস্পা (AFSPA) বলবৎ থাকা তিনটি জেলা—চরাইদেও, শিবসাগর এবং তিনসুকিয়া—এখনও এই ছাড়ের বাইরে।
  • রাজ্য সরকার এখন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকেও একই ধরনের ভ্রমণ সতর্কতা প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করছে।
  • পর্যটন, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অসমের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে একটি বড় ইতিবাচক বার্তা এল ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে। দীর্ঘদিনের নেতিবাচক ভ্রমণ সতর্কতা প্রত্যাহার করে ইইউ জানিয়ে দিয়েছে যে রাজ্যের অধিকাংশ অংশে বিদেশি নাগরিকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে আর আগের মতো কড়াকড়ি নেই। এই খবর প্রকাশ্যে আনেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী Himanta Biswa Sarma।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ইইউ ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের নাগরিকরা এখন অসমে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক কম বিধিনিষেধের মুখোমুখি হবেন।

তবে এই সিদ্ধান্ত পুরো রাজ্যের জন্য প্রযোজ্য নয়। আফস্পা বলবৎ থাকা তিনটি জেলা—চরাইদেও, শিবসাগর এবং তিনসুকিয়া—এখনও ভ্রমণ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। ওই অঞ্চলগুলিকে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সংবেদনশীল বলে বিবেচনা করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তকে “অসমের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার বড় স্বীকৃতি” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী হিংসার ঘটনা অনেকটাই কমেছে। ইইউর এই পদক্ষেপ সেই পরিবর্তনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বহন করছে।

পর্যটন শিল্পের জন্যও এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান, মানস অভয়ারণ্য, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা, চা-বাগান এবং অসমের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে এসেছে। কিন্তু বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ সতর্কতা অনেক পর্যটককে সফর পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখত। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপ থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুধু পর্যটন নয়, বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এবং বিদেশি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলি কোনও অঞ্চলে বিনিয়োগের আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেয়। ইইউর এই অবস্থান পরিবর্তন অসমকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগে Australia এবং Japan-ও অসম সম্পর্কিত তাদের ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল বা প্রত্যাহার করেছিল। এবার ইইউর সিদ্ধান্ত সেই ধারাকেই আরও শক্তিশালী করল।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন রাজ্য সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—তাদের ভ্রমণ সতর্কতাও প্রত্যাহার করানো। যদি সেটিও সম্ভব হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অসম আরও বড় সুবিধা পাবে।

সম্প্রতি অসম সফরে আসা ইইউ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রাজ্য সরকারের বৈঠকও এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সফরের পর থেকেই দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে এবং বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়; এটি অসমের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্থার ভোট হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রাজ্য সরকার আশা করছে, এর ফলে আগামী কয়েক বছরে বিদেশি পর্যটক, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা—তিন ক্ষেত্রেই নতুন গতি আসবে।