হাইলাইটস

  • প্রাক্তন সেচমন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা মানস ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
  • অভিযোগকারীর দাবি, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে ৫ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল।
  • নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চাকরি হলেও অল্পদিনের মধ্যেই তা বাতিল হয়ে যায়।
  • থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে, তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
  • অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন মানস ভুঁইয়া।

বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা মানস ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৫ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চাকরি স্থায়ী হওয়ার আগেই তা বাতিল হয়ে যায়। এরপরই সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরির জন্য আবেদনকারীকে প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে কয়েক দফায় অর্থ লেনদেন হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য, চাকরিতে যোগদানের সুযোগ মিললেও মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই নিয়োগ বাতিল হয়ে যায়। এরপর অর্থ ফেরতের দাবি জানানো হলেও কোনও সুরাহা হয়নি।

এই ঘটনার জেরে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। পুলিশ অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগকারীর বয়ান, আর্থিক লেনদেন এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগেরও চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মানস ভুঁইয়া। তাঁর দাবি, অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এই অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে। তিনি একে “ষড়যন্ত্র” বলে অভিহিত করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মদতেই তাঁর নাম টেনে আনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত, তখন প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রাক্তন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রতারণা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে মানস ভুঁইয়ার নাম জড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটির রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যায় না। তদন্তের অগ্রগতির উপরই নির্ভর করবে অভিযোগের সত্যতা কতটা এবং আদৌ কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না। আপাতত অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই বিষয়টি রাজনৈতিক এবং আইনি দুই ক্ষেত্রেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।