হাইলাইটস:
- তোলাবাজি ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ গ্রেপ্তার।
- দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ওড়িশার পুরী থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
- তদন্তকারীদের দাবি, ব্যবসায়ী ও নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
- অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা ছিল বলে জানা গিয়েছে।
- তাকে পশ্চিমবঙ্গে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের অন্য সদস্যদের খোঁজ করা হবে।
বাংলাস্ফিয়ার: তোলাবাজি ও চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত এক প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে ওড়িশার পুরী থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পলাতক ছিলেন বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। আদালতের নির্দেশ এবং গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে তার গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। অবশেষে পুরীর একটি আবাসন থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী, ঠিকাদার এবং নির্মাণ সংস্থাগুলির কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কিংবা কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা তোলা হত। কয়েকজন অভিযোগকারী আনুষ্ঠানিকভাবে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তের অগ্রগতিতে উঠে আসে যে, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে নিজের অবস্থান গোপন করে রাজ্যের বাইরে ছিলেন। তার মোবাইল ফোনের অবস্থান, আর্থিক লেনদেন এবং ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরেই পুলিশ পুরীতে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। এরপর স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, এই মামলাটি শুধু একজন ব্যক্তিকে ঘিরে নয়, বরং একটি বৃহত্তর তোলাবাজি চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। সেই কারণেই গ্রেপ্তার হওয়া প্রাক্তন কাউন্সিলরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, আদায় করা অর্থ কোথায় যেত, কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক স্তরে কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির ভূমিকা ছিল কি না।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর একাধিক দুর্নীতি, নিয়োগ কেলেঙ্কারি এবং তোলাবাজির অভিযোগে তদন্ত জোরদার হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই গ্রেপ্তারিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধীরা দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা অনেকেই এখন আইনের জালে ধরা পড়ছেন। অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, আইনের চোখে কেউই ঊর্ধ্বে নন। প্রাথমিক তদন্তে যা তথ্য মিলেছে, তার ভিত্তিতেই গ্রেপ্তারি হয়েছে। আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে। তদন্ত এগোলে আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।