হাইলাইটস
- মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারাল ভারত।
- বল হাতে ১০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়িকা দীপ্তি শর্মা।
- স্মৃতি মন্ধানার ৬৮ রানের ইনিংসে ভারত তোলে ১৭০/৬।
- ৭৫/৪ অবস্থান থেকে ধসে পড়ে পাকিস্তান, অলআউট ১০৬।
- ভারতের স্পিন আক্রমণের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ পাকিস্তানি ব্যাটারদের।
মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আলাদা উত্তেজনা। প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আবেগ এবং চাপ—সব মিলিয়ে এই ম্যাচ সব সময়ই বিশেষ। বার্মিংহামের মাটিতে রবিবার সেই চিরচেনা লড়াইয়ে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল ভারত। ব্যাট হাতে স্মৃতি মন্ধানার অনবদ্য অর্ধশতরান এবং বল হাতে দীপ্তি শর্মার বিধ্বংসী স্পেলের সৌজন্যে পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারতীয় দল।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতের শুরুটা খুব একটা মসৃণ ছিল না। পাকিস্তানের বোলাররা প্রথম কয়েক ওভারে চাপ তৈরি করেন। তবে বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইনিংস গড়ে তোলেন স্মৃতি মন্ধানা। শুরুতে ধৈর্যের সঙ্গে খেললেও পরে আক্রমণাত্মক মেজাজে রান তুলতে থাকেন তিনি। তাঁর ৬৮ রানের ইনিংস ভারতের ব্যাটিংয়ের ভিত গড়ে দেয়।
অধিনায়ক Harmanpreet Kaurও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। স্মৃতির সঙ্গে তাঁর জুটি ভারতের ইনিংসকে স্থিতিশীলতা দেয়। মাঝের ওভারে যখন দ্রুত উইকেট পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল, তখন এই জুটিই পাকিস্তানের পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়।
শেষ দিকে উইকেটরক্ষক ব্যাটার Richa Ghosh মাত্র ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে স্কোরবোর্ডে গতি আনেন। তাঁর কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ও বড় শট ভারতের সংগ্রহকে ১৭০/৬-এ পৌঁছে দেয়। টি-২০ বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এই রান যে লড়াই করার মতো স্কোর, তা তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকেই চাপে পড়ে। ভারতীয় বোলাররা লাইন ও লেংথে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রান তোলার রাস্তা বন্ধ করে দেন। যদিও এক সময় পাকিস্তান ৭৫/৪ অবস্থায় ছিল এবং ম্যাচে টিকে থাকার চেষ্টা করছিল, কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের বিপর্যয়।
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দীপ্তি শর্মা। নিজের অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে তিনি পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত গুঁড়িয়ে দেন। মাত্র ১০ রান খরচ করে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি বিশ্বকাপের মঞ্চে স্মরণীয় এক স্পেল উপহার দেন। তাঁর বলের গতি, টার্ন এবং নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের সামনে পাকিস্তানি ব্যাটাররা কোনও উত্তর খুঁজে পাননি।
দীপ্তির আঘাতে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে। যে দলটি এক সময় ম্যাচে লড়াই করার আশা দেখাচ্ছিল, তারা মাত্র ৩.৪ ওভারের মধ্যে শেষ ছয় উইকেট হারিয়ে বসে। শেষ পর্যন্ত ১০৬ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।
তবে এই জয় শুধু দীপ্তির একার নয়। ভারতের স্পিন বিভাগ সামগ্রিকভাবে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। দীপ্তির পাশাপাশি Shafali Verma এবং Shree Charaniও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তিন স্পিনার মিলিয়ে মোট ৯টি উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিংকে কার্যত ধ্বংস করে দেন।
ভারতের এই জয় শুধু দুই পয়েন্ট এনে দিল না, দলের আত্মবিশ্বাসও অনেক বাড়িয়ে দিল। বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচে বড় জয় পাওয়া সব সময় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এমন আধিপত্যপূর্ণ পারফরম্যান্স দলের মনোবলকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে।
এই ম্যাচ আরও একবার দেখিয়ে দিল যে ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের বহুমুখী স্পিন আক্রমণ। ব্যাটিংয়ে গভীরতা থাকলেও বড় টুর্নামেন্টে ম্যাচ জেতানোর কাজটা প্রায়ই করে বোলাররা। বার্মিংহামে সেটাই প্রমাণ করলেন দীপ্তি শর্মা ও তাঁর সঙ্গীরা।
বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন দাপুটে জয় ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্যও স্পষ্ট বার্তা—এই দল শুধু অংশ নিতে আসেনি, শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবেই মাঠে নেমেছে। আর যদি দীপ্তি শর্মা এভাবেই বল করতে থাকেন, তাহলে ভারতের বিশ্বকাপ স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।