Home Sports লর্ডসে ইতিহাস ভারতের, ২৭০ রানে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে প্রথম টেস্ট জয়; অনার্স বোর্ডে ক্রান্তি-ইয়াস্তিকার নাম

লর্ডসে ইতিহাস ভারতের, ২৭০ রানে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে প্রথম টেস্ট জয়; অনার্স বোর্ডে ক্রান্তি-ইয়াস্তিকার নাম

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
17 views 2 minutes read
A+A-
Reset

নয়াদিল্লি, ১৩ জুলাই:
মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের শতাব্দীপ্রাচীন সদর দফতর লর্ডস। ক্রিকেটের ‘মক্কা’ বলে পরিচিত এই মাঠে অসংখ্য ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচের সাক্ষী থেকেছে বিশ্ব। কিন্তু সোমবার সেই ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় লিখে দিল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। প্রথমবারের মতো লর্ডসে মহিলা টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়লেন তাঁরা। ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ভারত শুধু একটি ম্যাচ জেতেনি, বদলে দিয়েছে মহিলা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

এই জয়ের তাৎপর্য শুধু স্কোরবোর্ডে সীমাবদ্ধ নয়। বহু বছর ধরে মহিলা ক্রিকেটকে স্বীকৃতি, মর্যাদা ও সমান সুযোগের জন্য লড়াই করতে হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ক্রিকেটের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে ভারতের এই সাফল্য বিশ্ব ক্রিকেটে এক শক্তিশালী বার্তা বহন করছে। লর্ডস জয় প্রমাণ করে দিল, ভারতীয় মহিলা দল এখন কেবল প্রতিভাবান নয়, দীর্ঘ ফরম্যাটেও বিশ্বের সেরা দলগুলির অন্যতম।

এই ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে ছিলেন একাধিক নায়িকা। তবে দু’জনের নাম চিরস্থায়ী হয়ে গেল লর্ডসের অনার্স বোর্ডে।

ভারতের তরুণ পেসার ক্রান্তি গৌড় দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে প্রথম ভারতীয় মহিলা বোলার হিসেবে লর্ডসের বিখ্যাত বোলিং অনার্স বোর্ডে জায়গা করে নিলেন। নতুন বলে ধারাবাহিক সুইং, নিখুঁত লাইন-লেন্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট তুলে নিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের ব্যাটিংকে কার্যত ভেঙে দেন। তাঁর স্পেলই ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণভাবে ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।

অন্যদিকে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ইয়াস্তিকা ভাটিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে অসাধারণ শতরান করে ব্যাটিং অনার্স বোর্ডে নিজের নাম তুলে ফেলেন। চাপের পরিস্থিতিতে তাঁর ধৈর্য, টেকনিক এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতার দুর্দান্ত মিশ্রণ ভারতের ইনিংসকে বিশাল উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। সেই ইনিংসই ইংল্যান্ডের সামনে কার্যত অসম্ভব লক্ষ্য দাঁড় করিয়ে দেয়।

ভারতের এই জয়ে দলগত পারফরম্যান্সও ছিল প্রশংসনীয়। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই ভারত ছিল অনেক বেশি সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী। চার দিনের লড়াইয়ে কোনও পর্যায়েই ইংল্যান্ড ম্যাচে স্থায়ীভাবে ফিরে আসতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জয় ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের জন্য এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতের সাফল্য থাকলেও টেস্ট ক্রিকেটে এমন কর্তৃত্বপূর্ণ জয় দলের পরিণত মানসিকতার প্রমাণ।

লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম ওঠা ক্রিকেটারদের কাছে এক বিরল সম্মান। বিশ্বের বহু কিংবদন্তি ক্রিকেটারের নাম সেখানে খোদাই করা রয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল দুই ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটারের নাম। ভবিষ্যতের প্রজন্ম যখন লর্ডসের সেই বোর্ডের দিকে তাকাবে, তখন ক্রান্তি গৌড় এবং ইয়াস্তিকা ভাটিয়ার কৃতিত্ব ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের উত্থানের এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে থাকবে।

এই জয় ভারতের মহিলা ক্রিকেটে নতুন আত্মবিশ্বাসও এনে দিল। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ঘরোয়া কাঠামোর উন্নতি, খেলোয়াড়দের পেশাদার প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার যে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছিল, লর্ডসের এই সাফল্য তারই বাস্তব প্রতিফলন।

সব মিলিয়ে, ক্রিকেটের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে ভারতের এই ঐতিহাসিক জয় শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়। এটি এমন এক অর্জন, যা ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের বিকাশ, সংগ্রাম এবং সাফল্যের প্রতীক হয়ে বহু বছর স্মরণীয় হয়ে থাকবে। লর্ডস জয় করে ভারত জানিয়ে দিল— মহিলাদের টেস্ট ক্রিকেটেও তারা এখন ইতিহাস রচনার ক্ষমতা রাখে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles