Home অর্থ ও বাণিজ্য ‘বাবুরা ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের ক্ষতি করছেন’

‘বাবুরা ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের ক্ষতি করছেন’

ইএসওপি করনীতির বিরুদ্ধে সরব ভারতীয়-মার্কিন উদ্যোক্তা

Authored By Diptyajit Roy Chowdhury
13 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

• ভারতের ইএসওপি (ESOP) করব্যবস্থা স্টার্টআপ কর্মীদের সম্পদ সৃষ্টির পথে বড় বাধা বলে দাবি উদ্যোক্তা চিন্ময় সিংহের।
• উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও অসমের ছোট শহর-গ্রামের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে গড়া দলকে ইকুইটি দিতে না পারার আক্ষেপ।
• করের বোঝার কারণে স্টার্টআপ কর্মীরা শেয়ার থেকে প্রকৃত লাভ পান না বলে অভিযোগ।
• ভারতের প্রযুক্তি প্রতিভাকে ধরে রাখতে নীতিগত সংস্কারের দাবি।


ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে বিশ্বমানের করে তোলার কথা প্রায়ই বলা হয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা যদি সরকারি নীতিই হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে কী হবে? এমনই প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন উদ্যোক্তা Chinmay Singh। তাঁর অভিযোগ, ভারতের ইএসওপি বা এমপ্লয়ি স্টক অপশন প্ল্যান সংক্রান্ত করব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে স্টার্টআপগুলি তাদের কর্মীদের প্রকৃত অর্থে সম্পদ তৈরির সুযোগ দিতে পারে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) করা একটি পোস্টে সিংহ তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাঁর মার্কিন-ভিত্তিক স্টার্টআপ iWish পরিচালনার সময় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বড় অংশকে তিনি নিয়োগ করেছিলেন উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং অসমের ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চল থেকে। সচেতনভাবেই তিনি বেঙ্গালুরু বা গুরগাঁওয়ের মতো প্রচলিত প্রযুক্তি কেন্দ্রের বাইরে প্রতিভা খুঁজেছিলেন।

সিংহের দাবি, এই তরুণদের অনেকেই অসাধারণ দক্ষতার অধিকারী ছিলেন। তাঁদের বেতনও তিনি দেশের বড় প্রযুক্তি শহরগুলির সমপর্যায়ের রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু একটি জায়গায় এসে তিনি আটকে যান—কর্মীদের কোম্পানির অংশীদারিত্ব বা ইকুইটি দেওয়া।

বিশ্বের সফল প্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে ইএসওপি কর্মীদের সম্পদ সৃষ্টির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। কোম্পানি বড় হলে বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে কর্মীরাও সেই বৃদ্ধির অংশীদার হন। যুক্তরাষ্ট্রে গুগল, ফেসবুক, অ্যামাজন বা অসংখ্য স্টার্টআপের হাজার হাজার কর্মী এই পথেই কোটিপতি হয়েছেন। কিন্তু ভারতের কর কাঠামো সেই সুযোগকে কঠিন করে তুলেছে বলে অভিযোগ সিংহের।

বর্তমান ব্যবস্থায় কর্মী যখন ইএসওপি ব্যবহার করে শেয়ার হাতে পান, তখনই অনেক ক্ষেত্রে করের দায় তৈরি হয়। অথচ সেই শেয়ার এখনও নগদ অর্থে রূপান্তরিত হয়নি। অর্থাৎ কর্মী কাগজে-কলমে লাভবান হলেও বাস্তবে তাঁর হাতে কোনও টাকা আসেনি। ফলে অনেকের পক্ষেই কর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। স্টার্টআপের শেয়ার বিক্রির সুযোগও সীমিত হওয়ায় সমস্যা আরও বাড়ে।
সিংহের মতে, এই নীতির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন মফস্বল বা গ্রামাঞ্চল থেকে উঠে আসা মেধাবী প্রযুক্তিকর্মীরা। বড় শহরের উচ্চবিত্ত কর্মীদের তুলনায় তাঁদের কাছে নগদ সঞ্চয় কম থাকে। ফলে ইএসওপি থাকলেও তা কাজে লাগানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ভারতের আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা এখনও স্টার্টআপ অর্থনীতির বাস্তবতা পুরোপুরি বুঝতে পারেনি। তাঁর ভাষায়, নীতিনির্ধারকেরা প্রায়শই কর্মীদের সম্পদ সৃষ্টির সুযোগকে সন্দেহের চোখে দেখেন, ফলে এমন নিয়ম তৈরি হয় যা উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা সংস্কৃতির পরিপন্থী।

ভারত সরকার গত কয়েক বছরে স্টার্টআপ-বান্ধব নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু স্টার্টআপের ক্ষেত্রে ইএসওপি কর প্রদানে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। তবুও উদ্যোক্তাদের একাংশের মতে, সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি। এখনও বহু সংস্থা এবং কর্মী জটিল করব্যবস্থার কারণে বিপাকে পড়েন।

চিন্ময় সিংহের মন্তব্য নতুন করে সেই বিতর্কই সামনে নিয়ে এসেছে। ভারতের প্রযুক্তি শিল্প আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে সফটওয়্যার উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের সুনাম রয়েছে। কিন্তু তাঁদের শ্রমের প্রকৃত আর্থিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হলে ইএসওপি-সহ স্টার্টআপ সংক্রান্ত নীতিগুলিকে আরও বাস্তবসম্মত এবং কর্মীবান্ধব করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

স্টার্টআপ অর্থনীতির মূল শক্তি কেবল প্রতিষ্ঠাতা নন, কর্মীরাও। আর সেই কর্মীদের কোম্পানির সাফল্যের অংশীদার করতে না পারলে ভারতের উদ্ভাবনী অর্থনীতির সম্ভাবনা পূর্ণতা পাবে না—চিন্ময় সিংহের বক্তব্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles