Home বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিএআই ও ভবিষ্যৎ ChatGPT, Gemini এবং JIO বিভ্রাট: ডিজিটাল দুনিয়ার ধাক্কা!

ChatGPT, Gemini এবং JIO বিভ্রাট: ডিজিটাল দুনিয়ার ধাক্কা!

রাত ৮টা ৪০-এর জোড়া বিভ্রাট: কয়েক মিনিটের অচলাবস্থায় সামনে এল এআই ও ইন্টারনেটের উপর ডিজিটাল দুনিয়ার চরম নির্ভরতা। হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে গেল সংবাদমাধ্যমের কাজ?

by পার্বণ
Published: Updated: 0 comments 39 views 4 minutes read
A+A-
Reset

সন্ধ্যার চূড়ান্ত কর্মব্যস্ত সময়। ঘড়িতে তখন ভারতীয় সময় (IST) রাত ৮টা বেজে ৪০ মিনিট। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রাইম টাইম শোয়ের প্রস্তুতি তুঙ্গে, আর ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের ডেস্কে চলছে সারাদিনের বড় খবরগুলো গুছিয়ে দ্রুত ওয়েবে আপডেটের তাড়াহুড়ো। কেউ চটজলদি খবরের অনুবাদের জন্য ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) খুলেছেন, কেউ আবার ভিডিওর স্ক্রিপ্ট দ্রুত নামিয়ে ফেলার জন্য গুগলের জেমিনাই (Google Gemini)-এর সাহায্য নিচ্ছেন। ঠিক সেই চরম ব্যস্ততার মুহূর্তেই হঠাৎ ল্যাপটপ আর মোবাইলের স্ক্রিন থমকে গেল।

শুধু যে এআই পরিষেবা স্তব্ধ হয়েছে তা-ই নয়, পরিস্থিতি আরও সঙ্গিন করে তোলে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা। এআই এবং রিলায়েন্স জিও (Reliance Jio)-র ইন্টারনেট পরিষেবায় এই জোড়া বিভ্রাট চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে—ডিজিটাল দুনিয়ার উৎপাদন ব্যবস্থা প্রযুক্তি ও সুনির্দিষ্ট পরিকাঠামোর উপর ঠিক কতটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এআই-এর ‘জোড়া ধাক্কা’: চ্যাটজিপিটি এবং জেমিনাই

প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন সমস্যাটি শুধু চ্যাটজিপিটি-তে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পষ্ট হয় যে, গুগলের এআই টুল ‘জেমিনাই’-ও অচল হয়ে পড়েছে। জেমিনাই ব্যবহারকারীরা নতুন কোনও প্রম্পট বা নির্দেশ দিলেই স্ক্রিনে ‘এরর ১০৭৬’ (Error 1076) এবং ‘এরর ১০৯৯’ (Error 1099)-এর মতো সতর্কবার্তা ভেসে উঠতে শুরু করে।

সন্ধ্যার ওই চরম ব্যস্ত সময়ে বিশ্বের দুটি বৃহত্তম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা একসঙ্গে থমকে যাওয়ায় সংবাদমাধ্যমের নিউজরুমগুলোতে আক্ষরিক অর্থেই অচলাবস্থা তৈরি হয়। খবরের শিরোনাম তৈরি, ডেটা বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের খসড়া—সব কাজই হঠাৎ করে গতি হারায়।

কী বলছে প্রযুক্তি সংস্থাগুলি? (অফিশিয়াল বিবৃতি)

সংবাদমাধ্যমের কাজ যখন কার্যত থমকে, তখন ব্যবহারকারীদের ক্ষোভের মুখে এই বিভ্রাট নিয়ে অফিশিয়াল বিবৃতি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি।

  • গুগল (Google): জেমিনাই-এর এই ব্যাপক বিভ্রাটের কথা স্বীকার করে গুগলের অফিশিয়াল ‘ওয়ার্কস্পেস স্ট্যাটাস ড্যাশবোর্ড’-এ একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে গুগল জানায়, “আমরা জেমিনাইয়ের ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং দল সমস্যাটি চিহ্নিত করেছে এবং তা প্রশমনের (mitigation) কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।”
  • ওপেনএআই (OpenAI): অন্যদিকে চ্যাটজিপিটি-র নির্মাতা সংস্থা ওপেনএআই তাদের অফিশিয়াল স্ট্যাটাস পেজে জানায়, “আমরা নিশ্চিত করছি যে, আমাদের তৃতীয় পক্ষের কোনও পরিষেবা প্রদানকারীর (Third-party service provider) নেটওয়ার্কে পরিকাঠামোগত ত্রুটির কারণেই এই সমস্যাটি তৈরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত আপডেট দেওয়া হবে।”
  • রিলায়েন্স জিও (Reliance Jio): এআই সার্ভার ডাউনের পাশাপাশি জিও-র ফাইবার এবং মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও ঠিক একই সময়ে বিঘ্নিত হয়। সামাজিক মাধ্যমে গ্রাহকদের প্রশ্নের উত্তরে জিও-র সাপোর্ট টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সার্ভারে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, অতিরিক্ত ট্রাফিক এবং নির্দিষ্ট কিছু সার্কেলে ফাইবার কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণেই এই সাময়িক নেটওয়ার্ক বিপর্যয় ঘটেছে। জিও-র অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়, “গ্রাহকদের সাময়িক এই অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত। আমাদের প্রযুক্তিবিদরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।”

সন্ধ্যার মিডিয়া ও ডিজিটাল পরিমণ্ডলে প্রভাব

কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যমগুলিতে এআই এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেটের ব্যবহার এখন সর্বব্যাপী। বিশেষ করে রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে, যখন খবরের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, তখন নিউজরুমগুলিতে কাজের গতি বজায় রাখতে এআই টুলের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়।

এই অবস্থায় রাত ৮টা ৪০ মিনিটে যখন চ্যাটজিপিটি, জেমিনাই এবং জিও-র ইন্টারনেট পরিষেবা একসঙ্গে থমকে যায়, তখন ডেস্কে কাজের গতি মারাত্মকভাবে কমে আসে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে সাংবাদিকরা না পারেন ইন্টারনেটে তথ্য খুঁজতে, না পারেন এআই-এর সাহায্য নিতে। যে কাজ কয়েক সেকেন্ডে হওয়ার কথা, তা ম্যানুয়ালি করতে গিয়ে ডেডলাইন রক্ষা করা বা প্রাইম টাইমে ব্রেকিং নিউজ পরিবেশন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা ও বিকল্প ব্যবস্থা

ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমগুলিতে এআই-এর ব্যবহার বাড়লেও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাটিকে একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে:

১. বিকল্প তৈরি রাখা: সন্ধ্যার প্রাইম টাইমের মতো জরুরি মুহূর্তে কোনও নিউজরুম যদি পুরোপুরি একটি নির্দিষ্ট এআই টুলের উপর নির্ভর করে থাকে, তবে বিভ্রাটের সময় পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া থমকে যেতে পারে। তাই চ্যাটজিপিটি এবং জেমিনাইয়ের পাশাপাশি ক্লড (Claude) বা অন্য বিকল্পের সঙ্গে পরিচিত থাকা প্রয়োজন।
২. একাধিক ইন্টারনেট পরিষেবা: শুধুমাত্র একটি ইন্টারনেট সংযোগের (ISP) উপর নির্ভর না করে অফিসে বিকল্প নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা (Backup network) চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি।
৩. মৌলিক দক্ষতা বজায় রাখা: এআই একজন দ্রুতগতির সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বা সম্পাদক নয়। সাংবাদিক বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিজস্ব বিশ্লেষণ এবং খবরের মূল্যায়ন করার মৌলিক ক্ষমতাটি কোনও অবস্থাতেই হারিয়ে ফেলা উচিত নয়।

শেষ পর্যন্ত মূল প্রশ্নটি কেবল এআই বা ইন্টারনেটের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে নয়। প্রশ্ন হলো, চূড়ান্ত ব্যস্ততার মুহূর্তে কোনও কারণে এই জোড়া প্রযুক্তি একসঙ্গে থমকে গেলে, সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য মানুষের বিকল্প প্রস্তুতি কতটা মজবুত।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles