Home SportsFIFA World Cup 2026 ফিফার বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের বৃহত্তম অভিযোগ’ আনার অভিযান শুরু, নিশানায় জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

ফিফার বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের বৃহত্তম অভিযোগ’ আনার অভিযান শুরু, নিশানায় জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

by বাংলাস্ফিয়ার
0 comments 3 views 4 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • বিশ্বকাপ শুরুর এক সপ্তাহ আগে ফিফার বিরুদ্ধে বৃহৎ জন-অভিযোগ অভিযানের সূচনা।
  • অভিযানের নাম “রিবুট ফিফা”, নেতৃত্বে রয়েছে অ্যাডভোকেসি সংস্থা FairSquare
  • ফিফা সভাপতি Gianni Infantino-র বিরুদ্ধে নৈতিকতা বিধি ভঙ্গের অভিযোগ।
  • সমালোচকদের দাবি, ইনফান্তিনো রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘন করেছেন।
  • বিশ্বকাপের পর ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হবে।

বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। ঠিক এই সময়েই ফিফার বিরুদ্ধে “ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিযোগ” দায়ের করার লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযান শুরু হচ্ছে। সংগঠকদের দাবি, ফুটবলপ্রেমী, মানবাধিকারকর্মী এবং সাধারণ সমর্থকদের একত্রিত করে তারা এমন একটি গণ-অভিযোগ গড়ে তুলতে চান, যা ফিফা আগে কখনও দেখেনি।

এই উদ্যোগের নাম “রিবুট ফিফা” (Reboot FIFA)। বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছে ফুটবল প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা সংস্থা FairSquare।

বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশছোঁয়া মূল্য, সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ এবং ফিফার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান—সব মিলিয়ে ক্ষোভ জমেছে বহু ফুটবল সমর্থকের মধ্যে। সেই ক্ষোভকেই সংগঠিত রূপ দিতে চাইছে এই প্রচারাভিযান।

অভিযোগের কেন্দ্রে ইনফান্তিনো

অভিযানের মূল লক্ষ্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি করা।

ফেয়ারস্কোয়ার গত বছরের শেষ দিকে ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছিল যে ইনফান্তিনো চারটি পৃথক ঘটনায় ফিফার নৈতিকতা বিধির ১৫ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করেছেন। ওই ধারায় বলা হয়েছে, ফিফার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন ইনফান্তিনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর আয়োজিত একটি “শান্তি সম্মেলনে” যোগ দেন। পরে ট্রাম্পকে ফিফার “শান্তি পুরস্কার”ও দেওয়া হয়।

সমালোচকদের মতে, একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার প্রধান হিসেবে ইনফান্তিনোর এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার সীমা অতিক্রম করেছে।

‘ফুটবল সমর্থকদের ক্ষোভকে সংগঠিত করতে চাই’

ফেয়ারস্কোয়ারের পরিচালক Nick McGeehan বলেন,

“বিশ্বকাপের টিকিটের অস্বাভাবিক দাম থেকে শুরু করে এমন একজন ব্যক্তিকে শান্তি পুরস্কার দেওয়া, যিনি পরে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী একটি দেশের বিরুদ্ধে অবৈধ যুদ্ধ শুরু করেছেন—এসব কারণে মানুষ ক্ষুব্ধ এবং হতাশ। আমরা সেই ক্ষোভকে সংগঠিত করতে চাই, যাতে ফিফার ওপর প্রকৃত রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয় এবং অর্থবহ সংস্কার সম্ভব হয়।”

অভিযানকারীদের আশা, হাজার হাজার সমর্থক এই অভিযোগপত্রে নিজেদের নাম যুক্ত করবেন।

কী ধরনের সংস্কার চাইছে ‘রিবুট ফিফা’?

ফেয়ারস্কোয়ার শুধু অভিযোগ তুলেই থেমে থাকতে চায় না। তারা ফিফার কাঠামোগত সংস্কারেরও দাবি জানিয়েছে।

তাদের প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে—

  • সদস্য সংস্থাগুলিকে দেওয়া ফিফার বিপুল অর্থের ওপর আরও কঠোর নিরীক্ষা;
  • ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে তার নিয়ন্ত্রক ও প্রশাসনিক ভূমিকা থেকে আলাদা করা;
  • সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অধিক স্বচ্ছতা;
  • সংবাদমাধ্যম ও জনসাধারণের কাছে আরও বেশি জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

সমালোচকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিফা ক্রমশ একটি অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার কাঠামোয় পরিণত হয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো খুব সীমিত পরিসরে নেওয়া হয়।

নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনের সমর্থন

এই অভিযোগ নতুন গতি পেয়েছে নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনের সমর্থনে।

নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি Lise Klaveness, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ফিফা সংস্কারের পক্ষে সরব, প্রকাশ্যে এই অভিযোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন ইতিমধ্যেই ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে একটি সমর্থনপত্র পাঠিয়েছে।

বিশ্বকাপের উদ্দেশে নরওয়ে দলের যাত্রার প্রাক্কালে ক্লাভেনেস বলেন,

“আমরা চিঠিটি পাঠিয়েছি। এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। কিন্তু কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর আমরা বিষয়টি আরও এগিয়ে নিয়ে যাব, বৈঠকের দাবি জানাব এবং এই আন্দোলনের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করব।”

ট্রাম্পকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ইনফান্তিনো

অন্যদিকে ইনফান্তিনো নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরেননি।

শান্তি পুরস্কার চালু করার সময় তিনি বলেছিলেন, এই পুরস্কারের উদ্দেশ্য হল “যাঁরা মানুষকে একত্রিত করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আশা সৃষ্টি করেন, তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া।”

পরে ট্রাম্পকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা উঠলে তিনি তা জোরালোভাবে সমর্থন করেন।

এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন,

“বস্তুনিষ্ঠভাবে বিচার করলে, তিনি এই পুরস্কারের যোগ্য। বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করেছেন।”

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও তিনি কোনও রাখঢাক করেননি।

ইনফান্তিনোর বক্তব্য,

“একটি বিশ্বকাপ সফল করতে হলে আয়োজক দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বিশ্বকাপের আগে ফিফার জন্য অস্বস্তিকর মুহূর্ত

বিশ্বকাপের ঠিক আগে এই অভিযান শুরু হওয়ায় ফিফা নতুন এক বিতর্কের মুখে পড়েছে। একদিকে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর আয়োজনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে ফিফার জন্য সময়টা মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়।

ফেয়ারস্কোয়ার আশা করছে, বিশ্বকাপ চলাকালীন এবং তার পরবর্তী সময়ে আরও বেশি সমর্থক এই উদ্যোগে যোগ দেবেন। যদি তা ঘটে, তাহলে ফিফার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি বৈশ্বিক গণ-অভিযোগের মুখোমুখি হতে পারে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ফুটবল সংস্থাটি।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles