হাইলাইটস

  • নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশক এ.জি. সালজবার্গার এআই সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন।
  • তাঁর অভিযোগ, অনুমতি বা পারিশ্রমিক ছাড়াই সংবাদমাধ্যমের লেখা ব্যবহার করা হচ্ছে।
  • এতে সাংবাদিকতার আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে।
  • ভবিষ্যতে মৌলিক সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকের সংখ্যা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা।

বাংলাস্ফিয়ার: ফ্রান্সের মার্সেই শহরে অনুষ্ঠিত ৭৭তম বিশ্ব সংবাদমাধ্যম কংগ্রেসে বক্তৃতা দিতে গিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশক ও চেয়ারম্যান এজি সালজবার্জারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, এআই শিল্পের বিকাশ অনেকাংশেই সংবাদমাধ্যমের মেধাস্বত্বের “নির্লজ্জ চুরি”-র উপর দাঁড়িয়ে আছে।

সালজবার্গারের বক্তব্য, বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি সংবাদপত্র ও সংবাদ ওয়েবসাইটগুলির বিপুল পরিমাণ কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করছে। শুধু তাই নয়, এর জন্য তারা কোনও অর্থও দিচ্ছে না। তাঁর কথায়, “প্রযুক্তি জায়ান্টরা সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট খুঁড়ে খুঁড়ে তথ্য তুলে নিচ্ছে, অথচ তার বিনিময়ে কিছুই দিচ্ছে না।”

‘সংবাদমাধ্যম খুব বেশি নীরব ছিল’

সালজবার্গার মনে করেন, এআই বিপ্লবের মুখে সংবাদমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট শক্তিশালী হয়নি। তাঁর অভিযোগ, সংবাদজগৎ দীর্ঘদিন ধরে “অতিরিক্ত নীরব, নিষ্ক্রিয় এবং বিভক্ত” অবস্থায় ছিল। ফলে প্রযুক্তি সংস্থাগুলি আরও বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।

এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ নিউ ইয়র্ক টাইমস ইতিমধ্যেই  ওপেন এআই এবং মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের মামলা করেছে। অভিযোগ, তাদের সংবাদ প্রতিবেদন ব্যবহার করে এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

‘বিশ্বস্ত সংবাদ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে’

সালজবার্গারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাঁর মতে, এআই সংস্থাগুলি মানুষের মনোযোগ ও তথ্যের উপর ক্রমশ বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। কিন্তু সেই ক্ষমতার সঙ্গে যে সামাজিক দায়িত্ব আসে—বিশ্বস্ত সংবাদ ও তথ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা—তা তারা পালন করছে না।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি বর্তমান প্রবণতা চলতে থাকে, তাহলে এমন এক ভবিষ্যৎ আসতে পারে যেখানে মৌলিক অনুসন্ধানী রিপোর্টিং করার জন্য সাংবাদিকের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাবে। কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও যাচাই একটি ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ কাজ। কিন্তু সেই কাজের আর্থিক ভিত্তিই যদি দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে সংবাদমাধ্যমের পক্ষে তা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

সংবাদমাধ্যমের সামনে নতুন সংকট

মার্সেইয়ের এই কংগ্রেসে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংবাদমাধ্যমের ব্যবসায়িক মডেলের ভবিষ্যৎ। একদিকে এআই-এর দ্রুত উত্থান, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তীব্র প্রতিযোগিতা—দুইয়ের চাপে ঐতিহ্যবাহী সংবাদমাধ্যম নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে।

সালজবার্গারের বক্তব্য সেই উদ্বেগকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তাঁর বার্তা ছিল সরাসরি—যদি সংবাদ তৈরির মূল উৎস, অর্থাৎ সাংবাদিকতা, আর্থিকভাবে টিকে না থাকে, তাহলে এআই-ও শেষ পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস হারাবে। কারণ নতুন খবর সৃষ্টি করে সাংবাদিকরা; এআই কেবল সেই তথ্য ব্যবহার করে।

সংক্ষেপে, নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশকের বক্তব্যে একটি বড় সতর্কবার্তা রয়েছে: এআই প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, সংবাদমাধ্যমের শ্রম ও মেধাস্বত্বের মূল্য না দিলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণতন্ত্র, জনপরিসর এবং তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা।