Home খবর মৃত‍্যুর জন‍্য জুবিন গার্গ নিজেই দায়ী

মৃত‍্যুর জন‍্য জুবিন গার্গ নিজেই দায়ী

Big revelation in Singapore Court

Authored By পার্বণ
459 views 2 minutes read
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: জুবিন গার্গ ভয়ঙ্কর নেশাগ্রস্ত হয়ে এবং লাইফ সাপোর্ট নিতে অস্বীকার করে জলে সাঁতার কাটতে নেমেছিলেন। সেটাই তাঁর সলিল সমাধির কারণ। গতকাল ১৪ জানুয়ারি সিঙ্গাপুরের করোনার্স কোর্টে সিঙ্গাপুর পুলিশ এমন চাঞ্চল‍্যকর তথ‍্য পেশ করেছে।রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এবং অসমের জনতার প্রবল চাপে অসম পুলিশ যে ফৌজদারি মামলা শুরু করে, জুবিনের সঙ্গে থাকা চারজনকে গ্রেফতার করে জেলে পুড়েছে, সিঙ্গাপুর পুলিশের এই রিপোর্টের পরে তা আদালতে পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে যে চিত্র আঁকা হয়েছে, তা নাটকীয় নয়—বরং ধীরে ধীরে গড়িয়ে যাওয়া এক বিপর্যয়ের আবেগহীন বিবরণ।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি শুধু মদ্যপই ছিলেন না, সেই নেশা তাঁর আচরণ ও সিদ্ধান্তে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছিল। আশপাশে থাকা লোকজন ও ইয়টের কর্মীরা বিষয়টি বুঝতে পারছিলেন, এবং সেই কারণেই তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করেও দেওয়া হয়েছিল।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ট্র্যাজিক তথ্যটি হল, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে জুবিন গার্গের নিজস্ব অনীহা। আদালতে জানানো হয়েছে, প্রথমে তিনি লাইফ জ্যাকেট পরলেও পরে নিজেই তা খুলে ফেলেন। এরপর তাঁকে আবার লাইফ জ্যাকেট পরার অনুরোধ করা হয়, এমনকি অনুনয় করে বলা হয়েছিল যে সমুদ্রে নামার আগে এটি অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু তিনি স্পষ্টভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন। এটা কোনও বাদ-বিসম্বাদের কারণে মুহূর্তের ফল ছিল না। ছিল নেশাগ্রস্ত আত্মবিশ্বাস ও ঝুঁকিকে তুচ্ছ করে দেখার মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।

এরপর যা ঘটে, তা ভয়াবহ হলেও আকস্মিক নয়। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া তিনি জলে নামেন এবং কিছুক্ষণ সাঁতার কাটেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে। নেশার প্রভাবে তিনি দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন, নড়াচড়া এলোমেলো হয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে তিনি জলের ওপর নিজেকে ভাসিয়ে রাখতে ব্যর্থ হন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং সমুদ্র তাঁকে গ্রাস করে নেয়। তখন আশপাশে যারা ছিলেন, তারা বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

কোর্টে আরও জানানো হয়েছে দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসা ও জীবনরক্ষার প্রশ্নেও জুবিন গার্গ আগেই নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত যে মানসিকতা দেখিয়েছিলেন, তার সঙ্গে এই অস্বীকৃতির ধারাবাহিকতা ছিল। অর্থাৎ, বিপদের আশঙ্কাকে তিনি শুরু থেকেই গুরুত্ব দিতে চাননি। তদন্তের ভাষায়, এটি কোনও ষড়যন্ত্র বা তৃতীয় পক্ষের অপরাধমূলক হস্তক্ষেপের ফল নয়; বরং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, তীব্র নেশা এবং সমুদ্রের নির্মম বাস্তবতার সম্মিলিত পরিণতি।

সিঙ্গাপুর পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এই মৃত্যু একটি দুঃখজনক দুর্ঘটনা, যার পেছনে মানবিক দুর্বলতা ও ভুল সিদ্ধান্তই প্রধান ভূমিকা নিয়েছে। সিঙ্গাপুরের করোনার কোর্টের শুনানি সেই বাস্তবতাকেই ধীরে ধীরে অনাবৃত করছে। অর্থাৎ একজন জনপ্রিয়, বিস্ময়কর কণ্ঠের শিল্পী কীভাবে নিজের নিরাপত্তাকে অবহেলা করে, নেশার ঘোরে ঝুঁকিকে তুচ্ছ মনে করে শেষ পর্যন্ত এমন এক পরিণতির মুখোমুখি হলেন, যা আর ফেরানো যায়নি।

 

 

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles