হাইলাইটস:

  • আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কলকাতা সফরের আগে শহরজুড়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু।
  • রেড রোড এবং সংলগ্ন এলাকায় জোরকদমে চলছে সৌন্দর্যায়ন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।
  • মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন সম্পন্ন হওয়ার পর কলকাতা-সহ রাজ্যের পুরসভাগুলির নির্বাচন হবে।
  • সরকারের লক্ষ্য ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পুরভোট সম্পন্ন করা।
  • দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা পুর নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা।
  • ডিলিমিটেশনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

বাংলাস্ফিয়ার: আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কলকাতা সফরকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। তারই মধ্যে শহরজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান। একইসঙ্গে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে পুরসভা নির্বাচন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ হওয়ার পর আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পুর নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

শনিবার রেড রোডে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী মোদীর। সেই অনুষ্ঠানকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রস্তুতি চলছিল। তবে শেষ কয়েক দিনে সেই প্রস্তুতি আরও গতি পেয়েছে। কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন বিভাগ, সাফাই কর্মী, উদ্যান বিভাগ এবং আলোকসজ্জা কর্মীদের একযোগে নামানো হয়েছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে।

বিশেষ করে রেড রোড, ধর্মতলা, ময়দান চত্বর, চৌরঙ্গি, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সংলগ্ন অঞ্চল এবং বিমানবন্দর থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত সম্ভাব্য যাতায়াতপথে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাস্তার ধারে জমে থাকা আবর্জনা সরানো, নর্দমা পরিষ্কার, ভাঙা ফুটপাত মেরামত এবং সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।

প্রশাসনের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠান শুধু রাজনৈতিক বা সরকারি কর্মসূচি নয়; এটি আন্তর্জাতিক নজর কেড়ে নেওয়ার মতো একটি অনুষ্ঠান। ফলে শহরের সামগ্রিক চেহারা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও সরকার কোনও খামতি রাখতে চাইছে না।

এদিকে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর পুরভোট সংক্রান্ত মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতা পুরসভা-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভার নির্বাচন ঝুলে রয়েছে। নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রশাসক বা বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজকর্ম চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুর নির্বাচন আয়োজনের আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। জনসংখ্যার পরিবর্তন, নতুন বসতি এবং প্রশাসনিক বাস্তবতার ভিত্তিতে বহু ওয়ার্ডের সীমানা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।

সরকারি সূত্রের দাবি, ডিলিমিটেশনের কাজ শেষ করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তারপর ভোটার তালিকা সংশোধন, সংরক্ষণ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির মতো ধাপ রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ভোটগ্রহণ সম্ভব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এটাই হবে প্রথম বড় মাপের নগর স্থানীয় নির্বাচন। ফলে শাসক বিজেপি এবং বিরোধী তৃণমূল—উভয় পক্ষের কাছেই এই ভোট মর্যাদার লড়াই হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পুর নির্বাচন আসলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে জনমতের একটি বড় পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হবে। কলকাতা, হাওড়া, আসানসোল, শিলিগুড়ি, দুর্গাপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ নগর কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

তৃণমূলের চলমান সাংগঠনিক সংকটের মধ্যেও পুরভোটের সম্ভাবনা বিরোধী শিবিরকে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি চাইবে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর নগর প্রশাসনের ক্ষেত্রেও নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে।

প্রশাসনিক মহলের মতে, যোগ দিবসের প্রস্তুতি এবং পুরভোটের রূপরেখা—দুটি বিষয় আপাতদৃষ্টিতে আলাদা হলেও সরকারের কাছে উভয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কলকাতার ভাবমূর্তি তুলে ধরা, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করা—এই দুই লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে রাজ্য সরকার।

ফলে আগামী কয়েক মাস পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্যালেন্ডার অত্যন্ত ব্যস্ত হতে চলেছে। রেড রোডে যোগ দিবসের অনুষ্ঠান সেই ব্যস্ততার সূচনা মাত্র; তার পরেই শুরু হবে পুরভোটকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের লড়াই।