হাইলাইটস
- রজনীকান্তের বহুল প্রতীক্ষিত ১৭৩তম ছবির নাম ‘ধর্মন’।
- ছবির প্রযোজক কমল হাসান, পরিচালনায় অশ্বথ মারিমুথু।
- তিনবার পরিচালক বদলের পর চূড়ান্ত হল প্রকল্প।
- কমলের দাবি, এই ছবির ভাবনা শুরু হয়েছিল ৪০ বছর আগে।
- রজনীকান্তের সঙ্গে পাঁচ দশকের বন্ধুত্বের স্মৃতিও ভাগ করে নিলেন কমল।
- পরিচালক অশ্বথের মতে, ‘ধর্মন’ রজনীকান্তের ক্লাসিক ছবিগুলির আবহ ফিরিয়ে আনবে।
রজনীকান্তের নতুন ছবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জোর জল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হল তাঁর ১৭৩তম ছবির নাম—‘ধর্মন’। ছবিটি প্রযোজনা করছেন দক্ষিণের আর এক কিংবদন্তি অভিনেতা কমল হাসান। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, বহু আলোচিত এই ছবির পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন তরুণ পরিচালক অশ্বথ মারিমুথু। তিন দফা পরিচালক পরিবর্তনের পর শেষ পর্যন্ত তাঁর হাতেই উঠল এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
চেন্নাইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ছবির ঘোষণা করতে গিয়ে কমল হাসান জানান, এই প্রকল্পের বীজ রোপিত হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে। তাঁর কথায়, এক বিমানের যাত্রাপথেই তিনি ও রজনীকান্ত ভবিষ্যতে একসঙ্গে একটি ছবি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। নানা কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে এত দীর্ঘ সময় লেগে গেল। মঞ্চে দাঁড়িয়ে রজনীকান্তকে উদ্দেশ করে কমল হাসান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আপনি এতদিন ধরে দর্শকের হৃদয়ে এবং এই শিল্পে টিকে ছিলেন বলেই আজ আমি এই ছবি তৈরি করতে পারলাম। এর জন্য আপনাকে এবং গোটা চলচ্চিত্র জগতকে ধন্যবাদ।” তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
কমল আরও স্মরণ করেন তাঁদের প্রায় পাঁচ দশকের বন্ধুত্বের কথা। তিনি বলেন, রজনীকান্ত প্রথম জীবনে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় শুরু করলেও মাত্র তিন বছরের মধ্যেই তিনি এমন উচ্চতায় পৌঁছে যান যে দু’জনই সমান জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। সেই দীর্ঘ বন্ধুত্বের এক নতুন অধ্যায়ই হতে চলেছে ‘ধর্মন’। নবনিযুক্ত পরিচালক অশ্বথ মারিমুথুও ছবি নিয়ে প্রবল আশাবাদী। তাঁর দাবি, ‘ধর্মন’-এ দর্শক সেই চেনা, ক্যারিশম্যাটিক রজনীকান্তকেই ফিরে পাবেন, যাঁকে ঘিরে একসময় একের পর এক কালজয়ী ছবি তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, এই ছবি শুধু একটি নতুন গল্প নয়, বরং রজনীকান্তের অনুরাগীদের জন্য এক বিশেষ উদযাপন।
‘ধর্মন’ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। একদিকে রজনীকান্ত, অন্যদিকে প্রযোজক হিসেবে কমল হাসান—দুই কিংবদন্তির এই যুগলবন্দি যে বক্স অফিসে বিরাট প্রত্যাশা তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দর্শকদের অপেক্ষা ছবির শুটিং, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের তালিকা এবং মুক্তির দিন ঘোষণার। ৪০ বছরের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ভারতীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।