হাইলাইটস:
- ছয় সাংসদ দলবদলের পর এবার আরও ১৪-র বেশি বিধায়ক উদ্ধব শিবসেনা ছাড়বেন বলে দাবি মন্ত্রী গুলাবরাও পাটিলের।
- বিধানসভায় দল ভাঙাতে প্রয়োজন ২০ জনের মধ্যে অন্তত ১৪ জন বিধায়কের সমর্থন।
- বিরোধী শিবিরের বৈঠকে ৬০ জনের মধ্যে ২৩ বিধায়কের অনুপস্থিতি ঘিরে জল্পনা।
- উদ্ধব ঠাকরের পাল্টা প্রচার অভিযান শুরু, দলত্যাগী সাংসদদের ‘বিদ্রোহী নয়, বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা।
- একই বিমানে সফর করলেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস ও উদ্ধব ঠাকরে, জল্পনা আরও তীব্র।
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শিবসেনা ভাঙনের পর্ব এখনও শেষ হয়নি—এমনই ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী গুলাবরাও পাটিল। তাঁর দাবি, ‘অপারেশন টাইগার ২.০’ শুরু হয়ে গিয়েছে এবং খুব শীঘ্রই উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি)-র ১৪-রও বেশি বিধায়ক একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় যোগ দেবেন।
কয়েক দিন আগেই উদ্ধব শিবসেনার নয়জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ছয়জন দল ছেড়ে শিন্ডে শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন দাবি রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তুলেছে।শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গুলাবরাও পাটিল বলেন, “আর একটু অপেক্ষা করুন। ১৪-রও বেশি বিধায়ক একনাথ শিন্ডের সঙ্গে আসবেন। শিন্ডে সাহেব বেশি কথা বলেন না। তিনি শুধু দাড়িতে হাত বোলান, আর তখনই ‘অপারেশন টাইগার’ সফল হয়। এই কথা তো আদিত্য ঠাকরেই একসময় বলেছিলেন।”
বিধানসভায় বর্তমানে উদ্ধব শিবসেনার ২০ জন বিধায়ক রয়েছেন। দলত্যাগ-বিরোধী আইন এড়িয়ে বৈধভাবে দল ভাঙাতে হলে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ১৪ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে পাটিলের দাবি সত্যি হলে উদ্ধব ঠাকরের জন্য তা বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হবে।এই জল্পনার মধ্যেই খবর ছড়ায় যে, বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালীন উদ্ধব শিবসেনার চার বিধায়ক একনাথ শিন্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং আরও কয়েকজনকে নিয়ে শিবির পরিবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে শিন্ডে শিবিরের মন্ত্রী উদয় সামন্ত দাবি করেন, বিরোধী শিবিরের বহু নেতাই নিজেরাই একনাথ শিন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। যদিও কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াডেট্টিওয়ারের শিন্ডে শিবিরে যোগ দেওয়ার জল্পনা তিনি উড়িয়ে দেন। সামন্ত বলেন, ওয়াডেট্টিওয়ার তাঁর এবং শিন্ডের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেও দলবদল নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। পরে ওয়াডেট্টিওয়ারও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি কংগ্রেসেই থাকছেন।
এদিকে দল ছেড়ে যাওয়া ছয় সাংসদের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করেছে উদ্ধব শিবসেনা। দলের নেতারা বলেন, তাঁদের বিদ্রোহী বলা উচিত নয়, তাঁরা বিশ্বাসঘাতক। এক নেতা অভিযোগ করেন, “ভগৎ সিং, রাজগুরু, সুখদেব বা চন্দ্রশেখর আজাদ ছিলেন বিদ্রোহী। এঁরা নন। দলীয় প্রতীকে জিতে এসে অন্য শিবিরে গিয়েছেন। নিজেদের নিলামে তুলেছেন। প্রত্যেকের দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা।”দলীয় সংগঠনকে চাঙ্গা করতে উদ্ধব ঠাকরে তিন দিনের রাজনৈতিক সফর শুরু করেছেন। নাগপুর থেকে শুরু হওয়া এই সফরে তিনি সেই সব লোকসভা কেন্দ্র ঘুরবেন, যেখানকার ছয় সাংসদ সম্প্রতি শিন্ডে শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে যবতমাল, ওয়াশিম, হিঙ্গোলি, পরভনি, ধারাশিব এবং শিরডি।এরই মধ্যে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস এবং উদ্ধব ঠাকরেকে একই বিমানে সফর করতে দেখা যায়। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত এবং আদিত্য ঠাকরেও। সেই বিমানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে, যদিও এই একসঙ্গে সফরের সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণের কোনও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।