পাঁচ দশকেরও বেশি দেশ শাসন করা দলই এখন তাদের নির্বাচিত করা ব্যবস্থায় কারচুপির অভিযোগ তুলছে—খোলা চিঠিতে মন্তব্য প্রাক্তন বিচারপতিদের। নিশানায় ‘বেছে বেছে মামলা করার দীর্ঘ ইতিহাস’ থাকা সংগঠনগুলিও।

‘কায়েমি রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত এক পরিকল্পিত প্রচার’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন হাই কোর্টের ৪২ জন প্রাক্তন বিচারপতি। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করে তোলার সম্ভাব্য বিপর্যয়কর পরিণতি সম্পর্কে এই প্রচারে প্রায় কোনও বিবেচনাই নেই।

কোনও দলের নাম উল্লেখ না করে একটি খোলা চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, “যে দল পাঁচ দশকেরও বেশি এই দেশ শাসন করেছে, তারাই এখন দাবি করছে, যে ব্যবস্থা তাদের নির্বাচিত করেছিল, সেই ব্যবস্থাতেই কারচুপি হচ্ছে। তারা একা এই কাজ করছে না। বেছে বেছে মামলা করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, এমন আন্দোলনকারী সংগঠনগুলি এই দাবিগুলিকে আইনি বৈধতার আবরণ দিচ্ছে।”

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি হেমন্ত গুপ্ত ও পঙ্কজ মিথল এবং হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বি সি প্যাটেল, শুভ্রকমল মুখোপাধ্যায় ও প্রমোদ কোহলি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, “তারা একের পর এক আবেদন দাখিল করে। প্রমাণ পেশ করে কদাচিৎ। আদালতকক্ষ হয়ে ওঠে মঞ্চ। আর রায় ঘোষণার পরে, তা তাদের স্বার্থের অনুকূলে না গেলেই সমালোচনা করা হয়। এরপর সেই বিদ্বেষপূর্ণ আক্রমণকে আরও তীব্র করে বিপুল মাত্রায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সুপ্রতিষ্ঠিত এবং ব্যাপকভাবে আস্থাভাজন বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস ক্ষয় করাই এর সচেতন উদ্দেশ্য।”

‘ভোট চুরি’র অভিযোগ আদালতে না তুলে সাংবাদিক বৈঠকে তোলা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন বিচারপতিরা। তাঁরা লিখেছেন, “কমিশন যখন শপথপূর্বক ঘোষণাপত্র চায়, তখন তা জমা দেওয়া হয় না। কেবল পরাজয়ের পরেই ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্রকে দায়ী করা হয়। অথচ একই যন্ত্রে পাওয়া জয় নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠে না।”

তাঁদের বক্তব্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে আক্রমণ ন্যায্য সমালোচনার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। নির্বাচনী আধিকারিকদের প্রকাশ্যে অভিযুক্ত করা হচ্ছে এবং হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ কোনও আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলেও তাঁরা দাবি করেছেন।

ভারতের নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা এবং আইনবলে গঠিত সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে সমালোচনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রাক্তন বিচারপতিরা বলেছেন, এই ধরনের আচরণ প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি জনসাধারণের আস্থা দুর্বল করতে পারে।

ভোটার তালিকা সংশোধনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থেই এই প্রক্রিয়া চালানো হয়।

রাজনৈতিক দলগুলিকে নির্বাচন কমিশন ও আদালতের মাধ্যমে অভিযোগের প্রতিকার চাইতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতিরা। সংবাদমাধ্যমের প্রতি তাঁদের আবেদন, কোনও দাবি প্রকাশ করার আগে তা যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে নাগরিকদের তথ্য বিচার করে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। প্রতিবাদকারীদেরও শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের অধিকার প্রয়োগের আবেদন করা হয়েছে।