তৃতীয় দিনে রাজঘাটে ‘ইন্ডিয়া’র প্রতিবাদ, পরবর্তী লক্ষ্য রাষ্ট্রপতি ভবন

যা জানা জরুরি
- মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিন দিল্লির রাস্তায় নামল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট।
- বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থল রাজঘাটে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে যোগ দেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং বিভিন্ন বিরোধী দলের…
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এবং কথিত ‘ভোট চুরি’র বিরুদ্ধে আন্দোলনের পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে রাষ্ট্রপতি ভবনের নাম।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিন দিল্লির রাস্তায় নামল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থল রাজঘাটে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে যোগ দেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং বিভিন্ন বিরোধী দলের সাংসদেরা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এবং কথিত ‘ভোট চুরি’র বিরুদ্ধে আন্দোলনের পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে রাষ্ট্রপতি ভবনের নাম।
শুক্রবার সংসদ চত্বরে জড়ো হয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধীদের। তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিশ্চিত হয়নি। জোট সূত্রে জানানো হয়েছে, সাক্ষাতের অনুমতি মিললে নির্বাচিত কয়েকজন প্রতিনিধি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন। অনুমতি না মিললেও প্রতিবাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা থাকলেও সাক্ষাৎ নিশ্চিত হয়েছে বলে জানায়নি বিরোধী শিবির।
বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি শুরু হয় কনট প্লেসের মোয়েটস রেস্তরাঁয় মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে। খাড়গের আমন্ত্রণে সেখানে বিরোধী নেতারা মিলিত হন। পরে বাসে করে তাঁরা রাজঘাটের উদ্দেশে রওনা দেন। সঙ্গে ছিলেন দলীয় কর্মী ও সমর্থকেরা। জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন সংগঠনের পতাকা নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে এগোন তাঁরা। রাজঘাটে পৌঁছে নেতারা গান্ধীর প্রতি পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন এবং নীরবে বসেন।
আগের দু’দিনের পুলিশি বাধা ও আটকের তুলনায় বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ। রাজঘাটের প্রার্থনাস্থলে শুধু সাংসদদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তাঁরা সেখানে প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট কাটান। প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কর্মসূচিতে যোগ দেন। তবে উপস্থিত সাংসদের সংখ্যা আগের তুলনায় কম ছিল বলে জানিয়েছে ইকনমিক টাইমস। সমাজবাদী পার্টির মাত্র একজন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
রাহুলের অভিযোগ, প্রায় তিনশো সাংসদ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে চাইলেও মঙ্গলবার তাঁদের নির্বাচন কমিশনের দফতরের কাছে আটকে দেওয়া হয়েছিল। বুধবার যন্তরমন্তরে যেতেও বাধা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত এবং জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বিকৃত করার অভিযোগ তোলেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির মুখে দাঁড় করানোর অঙ্গীকারও করেন। এগুলি বিরোধী নেতার অভিযোগ।
খাড়গে বলেন, সরকার যাতে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া বন্ধ করে, সেই শুভবুদ্ধির জন্যই গান্ধীর সমাধিস্থলে প্রার্থনা করেছেন তাঁরা। তাঁর বক্তব্য, স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করাই এই প্রতিবাদের উদ্দেশ্য। গান্ধী, জওহরলাল নেহরু ও সর্দার বল্লভভাই পটেলের সংগ্রামের প্রসঙ্গও টানেন তিনি। রাজঘাটের নীরব অবস্থান থেকে বিরোধীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন।
দিল্লির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন রাজ্যেও প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়েছে কংগ্রেস। বুধবার রাজধানীতে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবহারের প্রতিবাদে রাজ্য, জেলা ও ব্লক স্তরে বিক্ষোভ হয়। ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি জানানো হয় সেখানেও।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ চাওয়ার বিষয়ে কংগ্রেসের সংগঠন সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল জানান, প্রথম চিঠি পাঠানো হয়েছিল ২ অক্টোবর। রাষ্ট্রপতি ভবন প্রতিনিধিদের নাম চাইলে ৫ অক্টোবর সেই তালিকাও দেওয়া হয়। সাক্ষাতের জন্য চাওয়া হয়েছিল ৭, ৮ অথবা ৯ অক্টোবরের সময়। বৃহস্পতিবারও উত্তর না আসায় শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষার কথা জানান তিনি। প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা পনেরো থেকে দশে নামাতেও সম্মত হয়েছে বিরোধী শিবির।
শুক্রবার বিকেল তিনটেয় সংবিধান সদনের সেন্ট্রাল হলে মিলিত হওয়ার কথা জোটের সাংসদদের। রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ না মিললে প্রতিবাদের অন্য বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে। এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের আপত্তির খবর আন্দোলনে নতুন মাত্রা দিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, আলোচনায় মতপার্থক্য স্বাভাবিক; তাদের নির্দেশগুলি আইনসম্মত এবং নির্ধারিত বিধি মেনেই জারি করা হয়েছে। বিরোধীরা অবশ্য জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে অনড়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



