রাজ্য

বাংলাদেশি সন্দেহে দু’মাস আটক, বহিষ্কারে স্থগিতাদেশ দিয়ে রাজ্যকে প্রশ্ন হাইকোর্টের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী সন্দেহে মুর্শিদাবাদের এক বাসিন্দাকে প্রায় দু’মাস আটক রাখার ঘটনায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট।
  • বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সাহিদুল শেখ নামে ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখেন।
  • আদালতের পর্যবেক্ষণ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে এত দিন আটকে রাখা যায় না।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী সন্দেহে মুর্শিদাবাদের এক বাসিন্দাকে প্রায় দু’মাস আটক রাখার ঘটনায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সাহিদুল শেখ নামে ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে এত দিন আটকে রাখা যায় না।

শুনানিতে বিচারপতি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, মামলার নিষ্পত্তির আগেই সাহিদুলকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হলে আদালতে তাঁর আবেদনের কার্যকারিতাই থাকবে না। তাই বহিষ্কারের আগে অভিযোগ সম্পর্কে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ পাওয়া জরুরি।

সাহিদুল মুর্শিদাবাদের দুবাপাড়া গ্রামের কৃষক। স্ত্রী দেজিনা বিবি এবং তিন সন্তানকে নিয়ে তাঁর সংসার। পরিবারের অভিযোগ, ৮ আগস্ট গভীর রাতে রানিনগর থানার পুলিশ তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর তাঁর আটক বেআইনি বলে দাবি করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন দেজিনা। পরিবারের আইনজীবীর অভিযোগ ছিল, আটকের পরে গ্রেপ্তারি স্মারক বা বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর তালিকাও তাঁদের দেওয়া হয়নি।

দেজিনার দাবি, তাঁর স্বামীর ভোটার কার্ড, আধার, প্যান, জমির দলিল এবং অন্যান্য নথি রয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময়ও তাঁরা প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছিলেন এবং বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, এত কিছুর পর হঠাৎ তাঁর স্বামীকে বাংলাদেশি বলা হচ্ছে কেন? অবশ্য এই বক্তব্য পরিবারের দাবি; নাগরিকত্ব নিয়ে আদালত এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

স্বামীর অনুপস্থিতিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও জানিয়েছেন দেজিনা। সাহিদুলই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। চাষবাসের পাশাপাশি কখনও অন্য কাজ করতেন। বন্যায় তাঁদের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। সন্তানদের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন জীবনেও বাবার অনুপস্থিতির প্রভাব পড়ছে বলে তাঁর অভিযোগ।

মামলার আগের শুনানিতে হাইকোর্ট রাজ্যকে আটকের নথি সাহিদুলের আইনজীবীর হাতে দিতে বলেছিল। রানিনগর পুলিশকে আটকের কারণ জানিয়ে হলফনামা এবং মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারকে গৃহীত পদক্ষেপের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তখনও কথিত স্বীকারোক্তি ঠিক কার সামনে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে অস্পষ্টতার কথা আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছিল।

বৃহস্পতিবার রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে বিশেষ অভিযানের সময় সংগৃহীত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের দাবি, সাহিদুল বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই তিনি বসবাস করছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

সাহিদুলের কাছে ভারতীয় পরিচয়পত্র কীভাবে এল, তা জানতে চান বিচারপতি। সরকারের বক্তব্য, জাল নথির সাহায্যে ভোটার কার্ড, আধার ও প্যান সংগ্রহ করা হয়েছিল। রাজ্য আরও জানায়, সাহিদুল যাঁকে নিজের বাবা বলে দাবি করেছেন, সেই কালাম শেখের স্ত্রী ও মেয়ে তাঁকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন।

আদালত অবশ্য প্রশ্ন তোলে, কয়েকজনের এই বক্তব্য থেকেই কি সাহিদুল বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত হওয়া যায়? বিদেশি নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের আটক সংক্রান্ত আদেশে সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট ভিত্তি থাকা প্রয়োজন বলে বিচারপতি মন্তব্য করেন। শুধু বাংলাদেশি বলে উল্লেখ করলেই যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে সাহিদুল নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ পাননি বলেও আদালত পর্যবেক্ষণ করে।

সত্তরের দশকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা মানুষের প্রসঙ্গও ওঠে শুনানিতে। বিচারপতি প্রশ্ন করেন, পরিবারের সদস্যদের কিছু বক্তব্যের ভিত্তিতে তাঁদের ফেরত পাঠানো সম্ভব কি না। আগামী ১৪ অক্টোবর উপযুক্ত বেঞ্চের সুবিধা অনুযায়ী মামলাটি সেখানে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই মুহূর্তে আদালতের হস্তক্ষেপের মূল বিষয় আটক ও বহিষ্কারের প্রক্রিয়া। স্থগিতাদেশকে সাহিদুলের নাগরিকত্বের চূড়ান্ত স্বীকৃতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আবার প্রশাসনের অভিযোগও এখনও আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তী শুনানিতে তাঁর বক্তব্য এবং সরকারি পদক্ষেপের ভিত্তি বিচার্য হবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles