রাজ্য

রাষ্ট্রপতির আপত্তিতে ফিরল ‘গুন্ডা দমন’ বিল

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: রাষ্ট্রপতির সম্মতি না-পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিলটি রাজ্য সরকারের কাছে পুনর্বিবেচনার জন্য ফিরে এসেছে।
  • ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে প্রকাশিত কেন্দ্রের আপত্তির মূল জায়গা মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ।
  • রাজ্যের প্রস্তাবিত আইনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিকেও ‘গুন্ডা’ সংজ্ঞার মধ্যে এনে আলাদা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: রাষ্ট্রপতির সম্মতি না-পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিলটি রাজ্য সরকারের কাছে পুনর্বিবেচনার জন্য ফিরে এসেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে প্রকাশিত কেন্দ্রের আপত্তির মূল জায়গা মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ। রাজ্যের প্রস্তাবিত আইনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিকেও ‘গুন্ডা’ সংজ্ঞার মধ্যে এনে আলাদা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। কেন্দ্র বলেছে, একই বিষয়ে ১৯৮৮ সালের বিশেষ কেন্দ্রীয় প্রতিরোধমূলক আটক আইন থাকায় সমান্তরাল রাজ্যব্যবস্থা সাংবিধানিক সংঘাত তৈরি করতে পারে।

আপত্তিটি পুরো বিলের নীতিগত প্রত্যাখ্যান নয়। কেন্দ্র নির্দিষ্ট ধারায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের উল্লেখ মুছে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের এক পদস্থ অফিসারের  ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংশোধন করে বিলটি আবার বিধানসভায় পেশ এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো যেতে পারে। সেই প্রক্রিয়া শেষ না-হওয়া পর্যন্ত এটি আইন নয়, পুলিশ বা জেলা প্রশাসন এই বিলের ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে না।

জুনে আনা বিলটিতে অসামাজিক কাজে যুক্ত বলে বিবেচিত কোনও ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট এলাকা বা একাধিক জেলা থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। জেলা শাসক, পুলিশ কমিশনার অথবা অনুমোদিত ডিআইজি-স্তরের কর্মকর্তা ভবিষ্যতে অসামাজিক কার্যকলাপের আশঙ্কা করলে চলাচল ও হাজিরার শর্ত আরোপ করতে পারবেন, এমন প্রস্তাবও আছে। বিরোধীরা আশঙ্কা করেছিল, অপরাধ প্রমানিত হওয়ার আগেই বিস্তৃত প্রশাসনিক ক্ষমতা রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অপব্যবহার না হওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

এখানে আরেকটি আইনি বিভ্রান্তি পরিষ্কার করা জরুরি। জুলাইয়ে পাশ হওয়া সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ আদায়ের সংশোধিত আইন এবং এই প্রতিরোধমূলক ‘গুন্ডা’ বিল এক নথি নয়। প্রথমটির নিয়ম ইতিমধ্যে বিজ্ঞাপিত হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে,দ্বিতীয়টি রাষ্ট্রপতির সম্মতি না-পাওয়ায় কার্যকর হয়নি। দুটি উদ্যোগকে একসঙ্গে ‘গুন্ডা দমন আইন চালু’ বলা ভুল।

আগস্টে কলকাতা হাইকোর্ট তিনটি জনস্বার্থ মামলা অপরিণত বলে খারিজ করেছিল, কারণ বিলটি তখনও আইন হয়নি। আদালত বলেছিল, সম্মতি ও প্রবর্তনের পরে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার অধিকার থাকবে। রাজ্যও আদালতে জানিয়েছিল সম্মতি বাকি। ফলে এর আগে বিল কার্যকর হয়েছে বলা রাজনৈতিক বক্তব্য প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

সংবিধানের ২৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী  রাজ্য ও কেন্দ্রের আইন পরস্পরবিরোধী হলে কেন্দ্রীয় আইন প্রাধান্য পায়; কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে রাজ্য আইন টিকে থাকতে পারে। কিন্তু একই কাজের জন্য দুটি আটকব্যবস্থা থাকলে কোন কর্মকর্তা কোন আইন ব্যবহার করবেন, আটক-পর্যালোচনা কীভাবে হবে এবং ব্যক্তির প্রতিকার কোথায়—এই প্রশ্নগুলি থেকেই কেন্দ্রের আপত্তির গুরুত্ব।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কোনও চলতি ফৌজদারি মামলার শাস্তি নয়। প্রশাসন ভবিষ্যৎ ঝুঁকির যুক্তিতে চলাচল বা স্বাধীনতা সীমিত করে বলে তার কারণ ও সময়সীমা বিচারযোগ্য হওয়া বিশেষ জরুরি। বিলের ‘অসামাজিক কাজ’ ও ‘অভ্যাসগত’ শব্দের সংজ্ঞা কতটা নির্দিষ্ট, পুরোনো অভিযোগ কিন্তু খালাস পাওয়া মামলা কীভাবে গণনা হবে এবং আদেশের আগে বক্তব্য শোনার সুযোগ থাকবে কি না,সংশোধিত বিলে এগুলিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

বিশ্লেষণ: আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজন বাস্তব, কিন্তু ‘ভবিষ্যতে অপরাধ করতে পারেন’ এমন অনুমানের উপর এলাকা-ছাড়া করার ক্ষমতা কঠোর প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা দাবি করে। লিখিত কারণ, দ্রুত শুনানি, স্বাধীন পর্যালোচনা, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং আদালতে কার্যকর আপিল না-থাকলে প্রশাসনিক আশঙ্কা শাস্তির বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। শুধু মাদক-ধারা বাদ দিলেই বাকি উদ্বেগ শেষ হবে না।

রাজ্যের সামনে এখন পরিষ্কার পথ: কেন্দ্রের আপত্তি হুবহু প্রকাশ, সংশোধিত বিল নিয়ে বিধানসভায়  বিতর্ক এবং কোন ক্ষমতা কেন প্রয়োজন তার তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ফলও হিংসার ঘটনা কমা ও আদালতে আদেশ টিকে থাকার হারে মাপতে হবে। ফিরিয়ে দেওয়া বিল পরাজয় নয়, তাড়াহুড়োর বদলে সাংবিধানিক ও নাগরিক সুরক্ষা ঠিক করার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles