নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ মামলা: আদেশ প্রত্যাহারের আর্জি খতিয়ে দেখবেন প্রধান বিচারপতি

যা জানা জরুরি
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত আইন নিয়ে মামলায় আগের আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট।
- বুধবার, ৭ অক্টোবর, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এই কথা জানিয়েছেন।
- প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আবেদনটির জরুরি শুনানির প্রসঙ্গ তুললে প্রধান বিচারপতি জানান, বিষয়টি পরীক্ষা করে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করা হবে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত আইন নিয়ে মামলায় আগের আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার, ৭ অক্টোবর, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এই কথা জানিয়েছেন। প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আবেদনটির জরুরি শুনানির প্রসঙ্গ তুললে প্রধান বিচারপতি জানান, বিষয়টি পরীক্ষা করে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করা হবে। তবে এদিন আদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন। এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। সেই মামলাগুলি বৃহত্তর সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানো প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা ভিন্নমত প্রকাশ করেন। বর্তমান আবেদনটি মূলত সেই বিভক্ত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই করা হয়েছে।
বিচারপতি দত্তের মত ছিল, প্রতিষ্ঠিত আইনি নীতির ভিত্তিতেই মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব। ফলে বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে বিচারপতি শর্মা মনে করেন, এখানে সংবিধানের ব্যাখ্যাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। তাই সংবিধানের ১৪৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে বিষয়টি বিবেচিত হওয়া উচিত। মতপার্থক্যের জেরে উপযুক্ত সংখ্যক বিচারপতির বেঞ্চ গঠনের জন্য বিষয়টি প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক বিবেচনায় পাঠানো হয়।
আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন মূল মামলার অন্যতম আবেদনকারী নমন শ্রেষ্ঠ। তাঁর আবেদনে বিচারপতি শর্মাকে ঘিরে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবেদনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিচারপতির ছেলে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। এই তথ্য আগে জানানো হয়নি বলে আবেদনকারীর অভিযোগ। বিচারপ্রক্রিয়ায় পক্ষপাতের যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা তৈরি হতে পারে—এই যুক্তিতেই আদেশ প্রত্যাহার চাওয়া হয়েছে।
আবেদনকারীর দাবি, মামলাটির শুনানি একাধিক দিনে হলেও এই পেশাগত সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে রায় ঘোষণার আগে সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকে মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানানোর সুযোগ তাঁরা পাননি। তবে এগুলি আবেদনকারীর উত্থাপিত অভিযোগ ও যুক্তি; সুপ্রিম কোর্ট এখনও সেগুলির সত্যতা বা আইনি গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সিদ্ধান্ত দেয়নি। বিচারপতি শর্মার মতামত এবং পরবর্তী যৌথ নির্দেশ প্রত্যাহারের আর্জি জানানো হলেও বিচারপতি দত্তের পৃথক মতামত প্রত্যাহারের দাবি করা হয়নি।
বুধবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা। শঙ্করনারায়ণন জানান, চলমান মামলার মধ্যেই নির্দিষ্ট নির্দেশ চেয়ে আবেদনটি করা হয়েছে। অন্য একটি পক্ষের কিউরেটিভ আবেদন দায়েরের কথাও আদালতে ওঠে। তবে সেই আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান। তাঁর ব্যাখ্যা, নিজেদের আবেদনটি একটি অন্তর্বর্তী আবেদন, যার উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট আদেশ ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো। এর আগে বিচারপতি দত্তের বেঞ্চে বিষয়টি তোলা হলে আইনজীবীকে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদনটি উল্লেখ করতে বলা হয়েছিল।
নিয়োগ আইনটি কেন বিতর্কিত, সেটিও এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ পটভূমি। আইন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের বাছাইয়ের কমিটিতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। এই ব্যবস্থায় দেশের প্রধান বিচারপতির কোনও স্থান নেই। অর্থাৎ তিন সদস্যের কমিটিতে সরকারের প্রতিনিধিই দুজন। নির্বাচন পরিচালনাকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব বাছাইয়ে এই কাঠামো কতটা স্বাধীনতা নিশ্চিত করে, সেই প্রশ্ন নিয়েই আদালতে চ্যালেঞ্জ উঠেছে।
বর্তমান পর্যায়ে আদালতের সামনে তাই দুটি পৃথক বিষয় রয়েছে। প্রথমটি, নিয়োগ আইনের বিরুদ্ধে মূল সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয়টি, সেই মামলা কোন বেঞ্চ শুনবে, তা নিয়ে দেওয়া আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন। বুধবারের মন্তব্য দ্বিতীয় বিষয়টির পরীক্ষা সংক্রান্ত। একে আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত অথবা আগের আদেশ ইতিমধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। এখন নজর থাকবে প্রধান বিচারপতির পরবর্তী সিদ্ধান্তে—আবেদনটির শুনানি কীভাবে এগোয় এবং মূল মামলার নিষ্পত্তির জন্য বেঞ্চ গঠনের প্রক্রিয়া কোন পথে যায়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



