রাজ্য

মিলন প্রধানের জামিনে হস্তক্ষেপ নয়, নন্দীগ্রাম মামলায় রাজ্যের আবেদন নিষ্পত্তি সুপ্রিম কোর্টে

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিনে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট।
  • বুধবার, ৭ অক্টোবর, কলকাতা হাইকোর্টের জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের করা আবেদনের নিষ্পত্তি করেছে সর্বোচ্চ আদালত।
  • মঙ্গলবার নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণের পরদিন এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিনে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার, ৭ অক্টোবর, কলকাতা হাইকোর্টের জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের করা আবেদনের নিষ্পত্তি করেছে সর্বোচ্চ আদালত। মঙ্গলবার নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণের পরদিন এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলাগুলির অভিযোগের গুণাগুণ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি আদালত।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে, মিলন প্রধান ভবিষ্যতে অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে অথবা নিয়মিত জামিন চাইলে রাজ্য সরকার উপযুক্ত আদালতে সমস্ত আপত্তি জানাতে পারবে। ফলে বর্তমান জামিনে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ না করলেও পরবর্তী জামিনের শুনানিতে রাজ্যের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ বহাল থাকছে। আদালতের এই নির্দেশ সেই সুযোগ বন্ধ করে দেয়নি।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট মিলনকে তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। তার মেয়াদ ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর তাঁকে হলদিয়ার সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এই মুক্তির অনুমতি দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ বাতিল করাতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য।

মামলার পটভূমিতে রয়েছে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন এবং সেই সময়কার সংঘর্ষ ঘিরে দায়ের হওয়া একাধিক ফৌজদারি মামলা। মিলনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে। হাইকোর্টের শুনানিতে তাঁর আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে পুরনো মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাঁরা জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরে ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। মনোনয়ন দাখিলের সময় তিনি হেফাজতে ছিলেন না।

অন্যদিকে, রাজ্যের যুক্তি ছিল, নির্বাচনে প্রার্থী হলেই কোনও অভিযুক্ত বিশেষ সুবিধা হিসেবে জামিন দাবি করতে পারেন না। অন্য অভিযুক্তদের মতোই তাঁর আবেদন বিচার করা উচিত। হাইকোর্ট অবশ্য মিলনের পরিস্থিতির বিশেষ দিকগুলি বিবেচনা করে। বিশেষত, মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরে গ্রেফতার এবং প্রায় উনিশ বছরের পুরনো মামলায় পুলিশের আগে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকার বিষয়গুলি আদালতের বিবেচনায় আসে।

জামিনের সঙ্গে শর্তও আরোপ করেছিল হাইকোর্ট। প্রকাশিত নির্দেশে ২০ হাজার টাকার বন্ড এবং দু’জন জামিনদারের কথা বলা হয়েছে। তাঁদের একজনকে স্থানীয় বাসিন্দা হতে হবে। মিলনকে নিজের মোবাইল নম্বর নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে দিতে বলা হয়। তাঁর অবস্থান জানার জন্য পুলিশ দিনে দু’বার ফোন করতে পারবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ রাখার ব্যবস্থাও রাখা হয়।

এর আগে সোমবার, ৫ অক্টোবর, রাজ্যের আবেদন নিয়ে শুনানি ভোটের পরদিন পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেদিন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। আইনজীবী থাকাকালীন সংশ্লিষ্ট মামলার কয়েকজন পক্ষের হয়ে সওয়াল করার কারণেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। রাজ্যের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা পুরনো জামিন অযোগ্য পরোয়ানা কার্যকর না হওয়ার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। আদালতও এতদিন পুলিশের ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নির্বাচনের সময়ে হঠাৎ তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।

বুধবারের সিদ্ধান্তের তাৎপর্য মূলত বর্তমান অন্তর্বর্তী জামিনের সীমার মধ্যেই রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট মামলাগুলি খারিজ করেনি, মিলনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতিও দেয়নি। একইভাবে, রাজ্যের অভিযোগগুলিকে চূড়ান্তভাবে অগ্রাহ্য করা হয়েছে বলেও এই নির্দেশের অর্থ করা যাবে না। বেঞ্চ অভিযোগের সত্যতা বা আইনি ভিত্তি বিচার না করেই হাইকোর্টের সাময়িক জামিনের নির্দেশে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নন্দীগ্রামের ভোটপর্ব শেষ হলেও মিলন প্রধানের আইনি লড়াই তাই শেষ হয়নি। পরবর্তী সময়ে তিনি আরও জামিন চাইলে সেই আবেদনের শুনানিতে রাজ্য নিজের আপত্তি জানাতে পারবে। আপাতত বহাল থাকল হাইকোর্টের দেওয়া নির্দিষ্ট মেয়াদের অন্তর্বর্তী জামিন এবং তার সঙ্গে যুক্ত শর্তগুলি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles