দেশ

বাঘের ডেরায় এবার চিতা, দেশে প্রথম সহাবস্থানের পরীক্ষা বীরাঙ্গনা দুর্গাবতী ব্যাঘ্র সংরক্ষণাঞ্চলে

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রায় ৩০টি বাঘের আবাস মধ্যপ্রদেশের বীরাঙ্গনা দুর্গাবতী ব্যাঘ্র সংরক্ষণাঞ্চলে চিতা স্থানান্তর করতে চলেছে রাজ্যের বন দফতর।
  • এর মধ্য দিয়ে প্রথমবার বাঘ ও চিতার সহাবস্থানের পরীক্ষা হতে চলেছে।
  • রাজ্যের অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) এল কৃষ্ণমূর্তি বলেন, “চিতা স্থানান্তরের জন্য জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের (এনটিসিএ) অনুমতি চেয়েছে বন দফতর।” মধ্যপ্রদেশে বর্তমানে ৬০টি…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রায় ৩০টি বাঘের আবাস মধ্যপ্রদেশের বীরাঙ্গনা দুর্গাবতী ব্যাঘ্র সংরক্ষণাঞ্চলে চিতা স্থানান্তর করতে চলেছে রাজ্যের বন দফতর। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবার বাঘ ও চিতার সহাবস্থানের পরীক্ষা হতে চলেছে।

রাজ্যের অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) এল কৃষ্ণমূর্তি বলেন, “চিতা স্থানান্তরের জন্য জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের (এনটিসিএ) অনুমতি চেয়েছে বন দফতর।”

মধ্যপ্রদেশে বর্তমানে ৬০টি চিতা রয়েছে। এর মধ্যে ৫৭টি রয়েছে কুনো জাতীয় উদ্যানে। চার বছর আগে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রথম এখানেই চিতা আনা হয়েছিল। কুনো থেকে নিয়ে যাওয়া আরও তিনটি চিতা রয়েছে গান্ধীসাগর অভয়ারণ্যে। বীরাঙ্গনা দুর্গাবতী ব্যাঘ্র সংরক্ষণাঞ্চল হবে রাজ্যে চিতার তৃতীয় আবাস।

দক্ষিণ আফ্রিকার এক চিতা বিশেষজ্ঞের মতে, এই অভিজ্ঞতা চিতাদের জন্যও শেখার সুযোগ এনে দেবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, “দক্ষিণ আফ্রিকায় শুধু বেসরকারি সংরক্ষণাঞ্চলেই বাঘ ও চিতা একসঙ্গে থাকে। বন্য পরিবেশে তারা একসঙ্গে থাকে না। চিতা, চিতাবাঘ ও বাঘ—এই তিন মাংসাশী প্রাণীকে একসঙ্গে দেখার একটি ভাল পরীক্ষা হবে এটি। চিতাদের জন্যও এটি হবে শেখার অভিজ্ঞতা।”

‘মেটাপপুলেশন ইনিশিয়েটিভ’-এর সঙ্গে যুক্ত সুসান ই ইয়ানেট্টি বলেন, “সম্ভবত প্রায় একশো বছর আগে ভারতে শেষবার চিতা ও বাঘের সহাবস্থানের সুযোগ হয়েছিল, যখন দু’টি প্রাণীরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যা ছিল। এখন তারা কীভাবে একসঙ্গে থাকে, তা দেখা আগ্রহের বিষয় হবে। শক্তিতে চিতা অবশ্যই বাঘের সমকক্ষ নয়। বাঘের মুখোমুখি বিপদে পড়লে সম্ভবত চিতার পালানোর সহজাত প্রবৃত্তিই সক্রিয় হবে। লড়াই করার বদলে সে দৌড়ে পালাবে।”

ভারতে চিতা স্থানান্তরের সময় সংশ্লিষ্ট দলের নেতৃত্ব দেওয়া চিতা বিশেষজ্ঞ তথা ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন ডিন ওয়াই ভি ঝালা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন।

তিনি বলেন, “অবশ্যই, প্রথম দিকে বাঘের আক্রমণে আমাদের কিছু চিতা হারাতে হবে। কিন্তু চিতা অত্যন্ত বুদ্ধিমান প্রাণী। তারা বাঘের উপস্থিতি টের পেয়ে সরে যেতে পারে। প্রকল্পের সম্প্রসারণের জন্য বাঘ-সহ অন্য মাংসাশী প্রাণীর সঙ্গে সহাবস্থানে তাদের অভ্যস্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।”

তবে চিতাদের ঘেরাটোপে আটকে রাখার বিরোধিতা করেছেন ঝালা। তাঁর বক্তব্য, “চিতাদের বোমা বা ঘেরা আবাসে রাখা উচিত নয়। ইতিমধ্যেই চার বছর হয়ে গিয়েছে। এখন তাদের উন্মুক্ত এলাকায় ছেড়ে দিয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচতে দেওয়ার সময় এসেছে। নিরাপদ আবাসস্থল এবং পর্যাপ্ত শিকারপ্রাণীর সংস্থান ফিরিয়ে আনার পরেই চিতাদের অবাধ বিচরণ সম্ভব। প্রকল্পের সাফল্যের আসল পরীক্ষা এটাই।”

বীরাঙ্গনা দুর্গাবতী ব্যাঘ্র সংরক্ষণাঞ্চলের ফিল্ড ডিরেক্টর রজনীশ সিংহ বলেন, চিতা, বাঘ ও চিতাবাঘের সহাবস্থানের প্রচুর ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে।

তাঁর কথায়, “আগে এখানে এশীয় চিতা বাঘ ও চিতাবাঘের সঙ্গে থাকত। তাদের শিকারের ধরন একেবারেই আলাদা। চিতা নীলগাই ও হরিণের শাবক, চিতল এবং কৃষ্ণসার শিকার করে। বাঘের ক্ষেত্রে শিকার বেছে নেওয়ার এমন সীমাবদ্ধতা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “চিতা প্রধানত খোলা তৃণভূমিতে থাকে। অন্যদিকে বাঘ পছন্দ করে ঘন জঙ্গল। বীরাঙ্গনা দুর্গাবতী ব্যাঘ্র সংরক্ষণাঞ্চলের আয়তন অনেক বড় হওয়ায় তাদের মধ্যে সংঘাতের সম্ভাবনা খুবই কম থাকবে।”

রজনীশ সিংহ জানান, কুনো থেকে আনা দু’টি চিতাকে দু’টি বোমা বা ঘেরা আবাসে রাখা হবে। সব মিলিয়ে ৪৩৯ হেক্টর এলাকা জুড়ে চারটি পৃথক কোয়ারান্টিন কক্ষ এবং ধাপে ধাপে মুক্ত পরিবেশে ছাড়ার প্রস্তুতির জন্য পাঁচটি ঘেরা এলাকা তৈরি করা হয়েছে।

প্রায় ২,৩০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই ব্যাঘ্র সংরক্ষণাঞ্চলে প্রায় ৩০টি বাঘ রয়েছে। ভারতে এই প্রথম চিতা পাথুরে ভূখণ্ডেও বিচরণ করবে।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম আফ্রিকার চিতা ভারতে আনা হয়। নামিবিয়া থেকে আটটি, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ১২টি এবং বতসোয়ানা থেকে ন’টি চিতা স্থানান্তর করা হয়েছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles