দেশ

যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বাধার অভিযোগ, আবেদন শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • দিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে দায়ের করা আবেদন শুনানির তালিকায় তুলতে সম্মত হল সুপ্রিম কোর্ট।
  • সোমবার, ৫ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে বিষয়টি উল্লেখ করেন আবেদনকারীর আইনজীবী।
  • তাঁর অভিযোগ, রাজধানীতে ছাত্রছাত্রী, সাধারণ নাগরিক এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদেও অনুমতি দিচ্ছে না দিল্লি পুলিশ।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

দিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে দায়ের করা আবেদন শুনানির তালিকায় তুলতে সম্মত হল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার, ৫ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে বিষয়টি উল্লেখ করেন আবেদনকারীর আইনজীবী। তাঁর অভিযোগ, রাজধানীতে ছাত্রছাত্রী, সাধারণ নাগরিক এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদেও অনুমতি দিচ্ছে না দিল্লি পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের প্রতি প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলতে থাকা বিক্ষোভের মধ্যেই এই আবেদন সর্বোচ্চ আদালতের সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন রাজনৈতিক নেতা ও আইনজীবীরা। সেই আবহে প্রতিবাদের অনুমতি ঘিরে বিরোধটি আদালতে পৌঁছেছে। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এদিন কোনও সিদ্ধান্ত দেয়নি বেঞ্চ।

আবেদনকারীর আইনজীবী জানান, সমস্যাটি কোনও একটি সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের পদাধিকারী এবং সাংসদেরাও শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখানোর সুযোগ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে আদালতের হস্তক্ষেপ চান। আবেদনের মূল দাবি, যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে দেওয়ার জন্য দিল্লি পুলিশকে নির্দেশ দিক সুপ্রিম কোর্ট।

প্রধান বিচারপতি জানতে চান, আবেদনকারী কে, আদালতের কাছে ঠিক কী প্রতিকার চাওয়া হচ্ছে এবং আবেদনটি জনস্বার্থ মামলা কি না। আইনজীবী দাবিগুলি ব্যাখ্যা করার পরে প্রধান বিচারপতি জানান, একই ধরনের অন্য কোনও মামলা ইতিমধ্যে বিচারাধীন রয়েছে কি না, তা দেখা হবে। আবেদনটি তালিকাভুক্ত হলে আইনজীবী নিজের বক্তব্য পেশ করতে পারবেন। অর্থাৎ, বিস্তারিত যুক্তি শোনার বিষয়টি পরবর্তী পর্যায়ের জন্য রাখা হয়েছে।

এদিনের ঘটনাকে প্রতিবাদের অনুমতি পাওয়ার চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আদালত আবেদনটি বিবেচনার জন্য তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দিতে পুলিশকে এখনই কোনও নির্দেশ দেওয়ার কথা প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়নি। শুনানির নির্দিষ্ট দিনও সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য বিচারিক নির্দেশ সম্পর্কে সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তী শুনানির অপেক্ষা করতে হবে।

এই আবেদনের সাংবিধানিক পটভূমি হল মতপ্রকাশ ও সমবেত হওয়ার অধিকার। সংবিধানের ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ নাগরিকদের বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দেয়। ১৯(১)(খ) অনুচ্ছেদে রয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে এবং নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার অধিকার। অন্যদিকে, ১৯(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা অথবা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে এই সমাবেশের অধিকারের উপর আইনের মাধ্যমে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপ করা যায়। তাই সাংবিধানিক কাঠামোয় অধিকার এবং তার সীমা, দুটিই বিবেচ্য।

এই কাঠামোয় বিতর্কের তাৎপর্য স্পষ্ট: কোনও সমাবেশ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন থাকলে তার সঙ্গে নাগরিকের প্রতিবাদের সুযোগের সামঞ্জস্য কীভাবে রাখা হবে? জনশৃঙ্খলা রক্ষার যুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ জমায়েতের দাবি আদালতে কতটা সমর্থন পাবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও বক্তব্যের উপর। আবেদনকারীর অভিযোগকে বিচারিক সিদ্ধান্ত ধরে নেওয়া যেমন ঠিক হবে না, তেমনই শুনানির তালিকায় ওঠাকে নিছক আনুষ্ঠানিক ঘটনাও বলা যায় না। অভিযোগগুলি বিচারিক বিবেচনার সামনে আনার পথ তৈরি হয়েছে।

মামলাটির গুরুত্ব তাই যন্তর মন্তরে একটি কর্মসূচির অনুমতির বাইরেও বিস্তৃত। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ে আপত্তি জানাতে নাগরিক কতটা প্রকাশ্য পরিসর পাবেন, সেই প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত। কারণ, প্রতিবাদের প্রশ্নে যে প্রশাসনিক মানদণ্ড প্রয়োগ করা হবে, তার প্রভাব শুধু বর্তমান আন্দোলনে নয়, ভবিষ্যতে অন্য দাবি নিয়ে পথে নামা ছাত্রছাত্রী, শ্রমিক বা সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। তবে সেই বৃহত্তর প্রশ্নে আদালত এখনও কোনও নতুন নীতি ঘোষণা করেনি। আপাতত সুপ্রিম কোর্টের পদক্ষেপ হল আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণের পথে এগোনো। পরবর্তী পর্যায়ে কী যুক্তি পেশ হয় এবং বেঞ্চ কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles