সংস্কৃতি ও বিনোদন

প্রথম সপ্তাহেই মুখ থুবড়ে ‘ডিগার’

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ল ‘ডিগার’।
  • টম ক্রুজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে এমন দুর্বল সূচনা খুব কম ছবিরই হয়েছে।
  • তার উপর স্বতন্ত্র স্টুডিয়ো হিসেবে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের পথচলার শেষ পর্বে এই ব্যর্থতা যোগ করল আরও এক তিক্ত অধ্যায়।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ল ‘ডিগার’। বিশ্বজুড়ে ছবিটির আয় মাত্র ২ কোটি ডলার। টম ক্রুজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে এমন দুর্বল সূচনা খুব কম ছবিরই হয়েছে। তার উপর স্বতন্ত্র স্টুডিয়ো হিসেবে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের পথচলার শেষ পর্বে এই ব্যর্থতা যোগ করল আরও এক তিক্ত অধ্যায়।

আলেহান্দ্রো জি ইনারিতুর ব্যঙ্গাত্মক ছবিটি মুক্তির পর থেকেই সমালোচকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছে। উত্তর আমেরিকায় ‘ডিগার’-এর আয় মাত্র ৮০ লক্ষ ডলার। সাধারণত বিদেশের বাজারে ক্রুজের ছবি ভালো ব্যবসা করলেও এ বার সেখানেও আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। উত্তর আমেরিকার বাইরে ৭৪টি বাজার মিলিয়ে ছবিটির আয় হয়েছে মাত্র ১ কোটি ২০ লক্ষ ডলার।

কমপক্ষে ১২ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার বাজেটে তৈরি ছবিটির জন্য এমন সূচনা বড় ধাক্কা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রকৃত নির্মাণব্যয় ১৫ কোটি ডলারের কাছাকাছি। বিপণনে আরও প্রায় ১০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে বলে অনুমান। সমালোচকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া এতটাই তীব্র ছিল যে, ওয়ার্নার ব্রাদার্স শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপনে দর্শকদের উদ্দেশে বলতে শুরু করে, ‘নিজেরাই বিচার করুন’। মুক্তির আগের সপ্তাহেই ছবিটির সম্ভাব্য বক্স অফিস আয় নিয়ে পূর্বাভাসও কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

অন্য দিকে, উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে প্রথম স্থান দখল করেছে অ্যামাজন এমজিএমের ‘ভেরিটি’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে ছবিটির আয় ৩ কোটি ২৬ লক্ষ ডলার। কলিন হুভারের লেখা অবলম্বনে তৈরি ছবিগুলির বক্স অফিস সাফল্যের ধারাও এতে অব্যাহত রইল।

মাইকেল শোওয়াল্টার পরিচালিত ‘ভেরিটি’-তে ডাকোটা জনসন এক লেখিকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়া এক লেখিকার হয়ে তাঁর বইয়ের সিরিজ লেখার দায়িত্ব পান তিনি। দ্বিতীয় লেখিকার ভূমিকায় রয়েছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে।

আসন্ন পুরস্কারের মরসুমে ‘ডিগার’ অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠতে পারে—এমন প্রত্যাশা থেকেই ছবিটিকে বড় করে তুলে ধরা হয়েছিল। গত বছর ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ যে সময় মুক্তি পেয়েছিল, প্রায় একই সময়ে প্রেক্ষাগৃহে আসে ‘ডিগার’। দু’টি ছবির মধ্যেই ছিল প্রবল রাজনৈতিক বক্তব্য। দু’ক্ষেত্রেই খ্যাতনামা পরিচালককে মৌলিক গল্পের ছবির জন্য দেওয়া হয়েছিল বিপুল বাজেট।

কিন্তু ফল একেবারেই আলাদা। ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ বিশ্বজুড়ে ২১ কোটি ৩২ লক্ষ ডলার আয় করেছিল। শুধু তাই নয়, অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে সেরা ছবির পুরস্কারও জিতেছিল সেটি।

‘ডিগার’-এর এই হতাশাজনক সূচনা এমন সময়ে, যখন ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ করছে প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স। গত বুধবার ১১ হাজার কোটি ডলারের এই চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন জেলা আদালত। প্যারামাউন্ট জানিয়েছে, মঙ্গলবার সংযুক্তিকরণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। এর পরেই ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হলিউডের সামগ্রিক ব্যবসার জন্য বছরটি ভালো গেলেও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের কোনও ছবিই এখনও যুক্তরাষ্ট্রে ১০ কোটি ডলারের ব্যবসা ছুঁতে পারেনি। যদিও ডিসেম্বরে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘ডিউন: পার্ট থ্রি’ সেই ঘাটতি অনায়াসে পূরণ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বক্স অফিসের হিসাব নিয়ে নিয়মিত নিউজলেটার প্রকাশ করেন চলচ্চিত্র পরামর্শদাতা ডেভিড এ গ্রস। তাঁর কথায়, “এই সপ্তাহান্তে ‘ডিগার’ ধসে পড়েছে। সংযুক্ত প্যারামাউন্ট ও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের নতুন পরিচালন নেতৃত্ব—ডেভিড এলিসন, জোশ গ্রিনস্টিন এবং ডানা গোল্ডবার্গ—শীঘ্রই ঠিক করবেন, ওয়ার্নার ব্রাদার্সের কাছ থেকে তাঁরা কী ধরনের ছবি চান।”

গ্রসের মতে, “পরিচালকের নিজস্ব সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাধান্য দিয়ে এই ধরনের বড় বাজেটের ছবি তৈরির সাম্প্রতিক নজির প্যারামাউন্টের নেই। মনে হচ্ছে, ওই কৌশলের পর্ব শেষ।”

অধিকাংশ সমালোচক ‘ডিগার’-কে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে জোর করে হাস্যরস তৈরির চেষ্টা বলে আক্রমণ করেছেন। তবে ক্রুজের অতিনাটকীয় অভিনয় তুলনামূলকভাবে বেশি প্রশংসা পেয়েছে। দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও খুব একটা আলাদা নয়। দর্শক মূল্যায়নব্যবস্থা সিনেমাস্কোরে ছবিটি পেয়েছে ‘সি প্লাস’।

গত এক দশকের বেশির ভাগ সময় ক্রুজকে দেখা গিয়েছে ‘মিশন: ইমপসিবল’ সিরিজ এবং ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’-এ। এই জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিই তাঁকে ষাটের কোঠাতেও প্রথম সারির অ্যাকশন তারকা হিসেবে ধরে রেখেছে।

৬৪ বছরের অভিনেতার আগের বড় বক্স অফিস হতাশা ছিল ২০১৭ সালের ‘দ্য মমি’। ১৯ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার বাজেটের ছবিটি বিশ্বজুড়ে আয় করেছিল ৪০ কোটি ৯২ লক্ষ ডলার।

এ দিকে, আগের সপ্তাহান্তে বক্স অফিসের শীর্ষে থাকা ‘অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেম: এনকোর’ এ বার নেমে এসেছে সপ্তম স্থানে। উত্তর আমেরিকায় ছবিটির আয় হয়েছে ৪৪ লক্ষ ডলার, বিদেশের বাজারে ১ কোটি ৪৪ লক্ষ ডলার।

তবে মার্ভেলের এই পুনর্মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহের ব্যবসাই ‘এন্ডগেম’-কে ফের ‘অ্যাভাটার’-এর উপরে তুলে দিয়েছে। মূল্যস্ফীতির প্রভাব বাদ দিলে, সর্বকালের সর্বাধিক আয় করা ছবির শিরোপা আবারও ‘এন্ডগেম’-এর দখলে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পুনর্মুক্তির সুবাদে দুই ছবিই একাধিক বার একে অপরকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করেছে। ‘এন্ডগেম’-এর মোট আয় এখন ২৯২ কোটি ৫৫ লক্ষ ডলার। ‘অ্যাভাটার’-এর আয় ২৯২ কোটি ৩৭ লক্ষ ডলার।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles