International

রাইফেল হাতে বিতর্কিত ছবি, তবু হোয়াইট হাউসে

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ২০২১ সালের একটি উৎসবের ছবিতে হাতে রাইফেল, গায়ে ‘Fuck Joe Biden’ লেখা টি-শার্ট।
  • সেই ছবির কয়েক বছর পরেই হোয়াইট হাউসের সহকারী প্রেস সচিবের পদে যোগ দিতে চলেছেন বেনি রে হারমনি।
  • বিতর্কিত অতীত সামনে আসার পরও তাঁর নিয়োগের পাশে দাঁড়িয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

২০২১ সালের একটি উৎসবের ছবিতে হাতে রাইফেল, গায়ে ‘Fuck Joe Biden’ লেখা টি-শার্ট। সেই ছবির কয়েক বছর পরেই হোয়াইট হাউসের সহকারী প্রেস সচিবের পদে যোগ দিতে চলেছেন বেনি রে হারমনি। বিতর্কিত অতীত সামনে আসার পরও তাঁর নিয়োগের পাশে দাঁড়িয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

শুক্রবার হারমনি জানান, তিনি ট্রাম্পের দফতরে যোগ দিচ্ছেন। অথচ মাত্র কয়েক দিন আগেও তিনি ট্রাম্পকে নিয়ে খবর করছিলেন ‘রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস’-এর সংবাদদাতা হিসেবে। দক্ষিণপন্থী এই সংবাদমাধ্যমটি একসময় প্রেসিডেন্টের প্রাক্তন উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননের ভিডিও পডকাস্টের মঞ্চ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল।

লিঙ্কডইনের প্রোফাইল অনুযায়ী, ২৪ বছরের হারমনি এর আগে কট্টর দক্ষিণপন্থী সংগঠন ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’-র সঞ্চালক জ্যাক পোসোবিয়েকের প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া রিপাবলিকান দলের দুই কট্টরপন্থী নেতা—অ্যারিজোনার কংগ্রেস সদস্য পল গোসার এবং ফ্লরিডার প্রাক্তন কংগ্রেস সদস্য ম্যাট গেটজের প্রেস সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। গোসারের দফতরে তাঁর কাজের অন্যতম ক্ষেত্র ছিল ‘সংকট মোকাবিলা’।

২০২১ সালে গোসার একটি অ্যানিমেটেড ভিডিও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেসকে হত্যা এবং জো বাইডেনকে আক্রমণের দৃশ্য দেখানো হয়েছিল। ওই ঘটনার পর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ আনুষ্ঠানিক ভাবে গোসারের নিন্দা করে। তখন নিজের ঊর্ধ্বতনের পক্ষে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি বক্তব্য রেকর্ড করেছিলেন হারমনি। সেটি গোসারের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছিল।

তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে ২০২১ সালের ওই ছবিটি। সেখানে হারমনি এবং তাঁর চেয়ে বয়সে বড় এক ব্যক্তিকে বড়দিনের সাজসজ্জার সামনে রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দু’জনের পরনেই একই ধরনের বাইডেন-বিরোধী টি-শার্ট।

জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের নভেম্বরে ছবিটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিলেন প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে কট্টর দক্ষিণপন্থী রিপাবলিকান প্রার্থী জেরোম বেল। ২০২২ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসে যাওয়ার চেষ্টা সফল হয়নি তাঁর।

‘ডেইলি মিরর’ প্রকাশিত পোস্টের স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ছবির সঙ্গে বেল লিখেছিলেন, ‘আমার প্রচার অভিযানের জনসংযোগ অধিকর্তা @beniraeharmony দুর্ধর্ষ। এ ভাবেই আমরা চলি।’

পরের মাসে ট্রাম্পের ‘মাগা’ আন্দোলনের বিরোধী সংবাদমাধ্যম ‘প্যাট্রিয়টটেকস’ ছবিটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় এবং হারমনি গোসারের সহকারী বলে উল্লেখ করে। সেই সময় হারমনির প্রতিক্রিয়াতেও ছবিটির সত্যতা অস্বীকার করার কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।

বরং পরের দিন ওই পোস্টের জবাবে নিজের আরও একটি ছবি প্রকাশ করেন হারমনি। একই জায়গায়, একই টি-শার্ট পরে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসছিলেন তিনি। ছবিতে থাকা বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে এক সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী ব্যঙ্গ করে জানতে চেয়েছিলেন, ‘মেয়ে, না প্রেমিকা?’ হারমনি জবাব দেন, ‘আঙ্কল।’

সেই সময় বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর একমাত্র মেয়াদে ওভাল অফিসে ছিলেন। ২০২১ সালের শরতে ন্যাসকারের একটি গাড়ির দৌড়ের আসরে ট্রাম্প-সমর্থকদের মুখে ‘Fuck Joe Biden’ স্লোগান শোনা যায়। পরে সেটিরই একটি ভিন্ন রূপ সমাজমাধ্যমে ভাইরাল মিম হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।

বিতর্কিত ছবিটি নিয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও হারমনি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস দফতর ডেপুটি প্রেস সচিব আনা কেলির একটি বিবৃতি পাঠিয়েছে। সেখানে সাংবাদিক হিসেবে ট্রাম্পের খবর করার সময়ও তাঁর ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’ আন্দোলনের পক্ষে সরব থাকার জন্য হারমনির প্রশংসা করা হয়েছে।

কেলি লিখেছেন, ‘হোয়াইট হাউসের সংবাদদাতা হিসেবে বেনি রে হারমনি মাগা আন্দোলনের এক নির্ভরযোগ্য কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন। সহকারী প্রেস সচিব হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসংযোগ দলে অসাধারণ সংযোজন হবেন।’

হারমনির নিয়োগ এমন সময়ে হল, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রেস দফতরের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদমাধ্যমকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। সমালোচকদের দাবি, প্রেসিডেন্টের চারপাশে এমন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের রাখা হচ্ছে, যাঁরা তাঁর পক্ষে ইতিবাচক প্রশ্ন করেন। অন্য দিকে, নির্দলীয় সংবাদমাধ্যমের যে সাংবাদিকেরা কঠিন প্রশ্ন করেন, তাঁদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হচ্ছে।

ট্রাম্প সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাউকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই সংবাদমাধ্যমগুলির খবর অতিরিক্ত নেতিবাচক। বর্তমানে প্রেসিডেন্টকে কোন সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন, তা অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর সহকারীরাই নির্ধারণ করেন। ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থকদের জন্য প্রশ্ন করার সুযোগও প্রায়ই নির্দিষ্ট রাখা হয়।

হারমনির আগে ‘রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস’-এর হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা ছিলেন ব্রায়ান গ্লেন। তাঁর সঙ্গিনী মার্জোরি টেলর গ্রিন ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে মাগা আন্দোলনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বলে অভিযোগ তোলার পর গ্লেনও ট্রাম্পের অনুগ্রহ হারান। তার পরেই ওই পদে আসেন হারমনি।

এর আগে ট্রাম্প তাঁকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিলে গ্লেনও প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক অবস্থানকে জোরালো করার মতো প্রশ্ন করতেন। ২০২৫ সালে ওভাল অফিসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, কেন তিনি স্যুট পরতে অস্বীকার করছেন। উত্তেজনাপূর্ণ সেই সাক্ষাৎকারে প্রশ্নটি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে।

গত মাসে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বাঁ হাতে একগুচ্ছ কাগজ নিয়ে তাঁদের দিকে এগিয়ে যান। সেই সময় হারমনি তাঁকে একের পর এক অনুকূল প্রশ্ন করেন। প্রশ্নগুলির ধরন দেখে মনে হয়েছিল, ট্রাম্পকে রাজনৈতিক সুবিধা করে দেওয়ার মতো করেই সেগুলি সাজানো।

শুক্রবার ‘টিএমজেড’ জানায়, ওই কথোপকথনের সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তোলা ছবিতে ট্রাম্পের হাতে থাকা প্রথম পাতার উপরে হারমনির নাম দেখা যায়। তা থেকে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট হয়তো হারমনিরই জীবনপঞ্জি হাতে রেখেছিলেন।

২০২৫ সালে দক্ষিণপন্থী সংবাদমাধ্যমের পরিসরে কিছুটা পরিচিতি পান হারমনি। ইলিনয়ের স্প্রিংফিল্ডের একটি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের সঞ্চালকের চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। এর আগে সম্প্রচারে প্রয়াত চার্লি কার্ককে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁকে নিজের কর্মজীবনের প্রথম দিকের ঊর্ধ্বতন ও পথপ্রদর্শক বলে বর্ণনা করেছিলেন।

হারমনির দাবি ছিল, ওই শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তবে চ্যানেলের সংবাদ বিভাগের অধিকর্তা সেই দাবি অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, হারমনি কখনও সংবাদ বিভাগের সদস্য ছিলেন না। বরং চ্যানেলের বিক্রয় বিভাগের পরিচালিত একটি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানে এমন গ্রাহকদের সাক্ষাৎকার দেখানো হত, যাঁরা টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য অর্থ দিতেন।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles