আগে সিইসি সরুন, বিজেপিও যাবে; ২০২৯ পর্যন্ত অপেক্ষা নয় : মমতা

যা জানা জরুরি
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণকে বিরোধীদের আন্দোলনের প্রথম লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ২০২৯ সালের লোকসভা…
- বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে।
- তাঁর বক্তব্যের মূল সুর, বিরোধীদের একসঙ্গে লড়তে হবে এবং নির্বাচন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণকে বিরোধীদের আন্দোলনের প্রথম লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর, বিরোধীদের একসঙ্গে লড়তে হবে এবং নির্বাচন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।
মমতার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিজেপি উপনির্বাচনে জিততে পারে, কিন্তু সেই সুবিধা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। জ্ঞানেশকে কটাক্ষ করে তিনি ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলেন এবং অভিযোগ করেন, তাঁর আমলে গণতন্ত্রই উধাও হয়ে যাচ্ছে। প্রথমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিদায়, তার পরে নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার—এই অগ্রাধিকারের কথাই জানান তিনি।
বিজেপির বিদায় কত দ্রুত হতে পারে, তা বোঝাতে দুই, তিন বা ছয় মাসের সম্ভাবনার কথা তুললেও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমার নিশ্চয়তা দেননি মমতা। তিনি নিজেই জানান, তিনি জ্যোতিষী নন। তবে শীঘ্রই সুখবর আসবে বলে তাঁর বিশ্বাস। বিরোধী জোটের সিদ্ধান্ত মেনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আশ্বাসও দেন তিনি। আগের দিনের বৈঠকে দেশজুড়ে আন্দোলন এবং ৬ অক্টোবর কমিশনের দপ্তরে সাংসদদের মিছিলের পরিকল্পনা হয়েছে।
এই বক্তব্যের রাজনৈতিক পটভূমি বুধবারের ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে রাহুল গান্ধী জাতীয় স্তরে বিরোধীদের ঐক্যের উপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, কয়েকটি রাজ্যে শরিকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা কেন্দ্রীয় স্তরে সম্মিলিত লড়াইয়ের বাধা হওয়া উচিত নয়। জোটসঙ্গীদের পরস্পরের বিরুদ্ধে কথা বলা থেকেও বিরত থাকার প্রয়োজনের কথা ওঠে।
একই বৈঠকে মমতা বর্তমান জোটের বাইরেও যোগাযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি বিজেপিবিরোধী দল, নাগরিক সংগঠন ও বুদ্ধিজীবীদের একত্র করার কথা বলেছিলেন। সেই সূত্রে মমতা জানান, তিনি বিজেডি নেতা নবীন পট্টনায়কের সঙ্গে কথা বলেছেন। এনডিএ এবং ইন্ডিয়া—কোনও জোটেই নেই, এমন দলগুলির কাছেও পৌঁছনোর পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি।
বৈঠকের সূত্র উদ্ধৃত করে আরও জানা যায়, সবাইকে একত্র করতে পারলে কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীর পদ নিতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন মমতা। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে অবশ্য জানান, তাঁদের লক্ষ্য দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষা; ক্ষমতা বা প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে আলোচনা এখন প্রাসঙ্গিক নয়। ফলে নেতৃত্বের প্রশ্নের পাশাপাশি বিরোধীদের আলোচনায় জায়গা পেয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমাবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজন।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির খবর প্রকাশের পরে বিরোধীদের আক্রমণ তীব্র হয়েছে। কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক জোশী তাঁদের অজ্ঞাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে ওই খবরে দাবি করা হয়। কমিশন অবশ্য বলেছে, ক্যাবিনেট সচিবকে পাঠানো চিঠি ছিল ডেপুটেশনে থাকা এক আধিকারিকের কাজকর্ম নিয়ে, নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নয়। তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এসআইআরের মূল নির্দেশ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সময়সূচি সর্বসম্মতভাবেই অনুমোদিত হয়েছিল। ফলে বিরোধীদের রাজনৈতিক অভিযোগ এবং কমিশনের ব্যাখ্যা আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এর আগে পাল্টা দাবি করেছেন, রাজ্যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ সংক্রান্ত ২৭ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারি আধিকারিকদের নয়, বিচারবিভাগের। তাঁর অভিযোগ, মমতা নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করতে গিয়ে আদালতের ভূমিকাকেও প্রশ্ন করছেন। এসআইআর ঘিরে সরকার ও বিরোধীদের অবস্থানের ব্যবধান তাই এখনও স্পষ্ট।
মমতার বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে বৃহত্তর বিজেপিবিরোধী ঐক্যের ভিত্তি করতে চাইছেন তিনি। তবে ২০২৯ সালের আগেই কেন্দ্রের ক্ষমতায় পরিবর্তন কীভাবে ঘটবে, তার নির্দিষ্ট পথনকশা এই বক্তব্যে নেই। আপাতত তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য, জ্ঞানেশের অপসারণের দাবিতে যৌথ আন্দোলন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারের প্রশ্নে বিরোধীদের এক জায়গায় আনা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



