স্বাস্থ্য

বিশ্রামেও মিনিটে ১২০! হৃদ্‌স্পন্দন কি বলছে?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • স্মার্টওয়াচে হঠাৎ ধরা পড়ল অস্বাভাবিক হৃদ্‌স্পন্দন।
  • সেই সতর্কবার্তাই শেষ পর্যন্ত ২৩ বছরের এক তরুণের হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দের সমস্যা ধরতে সাহায্য করল।
  • বিশ্রামের সময় হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে গেলে কখন সতর্ক হবেন?

বিস্তারিত প্রতিবেদন

স্মার্টওয়াচে হঠাৎ ধরা পড়ল অস্বাভাবিক হৃদ্‌স্পন্দন। সেই সতর্কবার্তাই শেষ পর্যন্ত ২৩ বছরের এক তরুণের হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দের সমস্যা ধরতে সাহায্য করল। বিশ্রামের সময় হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে গেলে কখন সতর্ক হবেন? আর স্মার্টওয়াচের দেখানো সংখ্যাই বা কতটা ভরসার? জেনে নিন।

বিশ্রামে বসে আছেন, অথচ হৃদ্‌স্পন্দন ছুটছে মিনিটে ১২০ বার। কোনও ব্যায়াম নেই, দৌড়ঝাঁপ নেই, এমনকি স্পষ্ট কোনও কারণও নেই। ২৩ বছরের এক তরুণের ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটেছিল। তাঁর স্মার্টওয়াচ অস্বাভাবিক হৃদ্‌স্পন্দনের সতর্কবার্তা দেওয়ার পর তিনি হাসপাতালে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে মাঝেমধ্যেই বুক ধড়ফড় করছিল তাঁর। কখনও এমনও মনে হত, বুঝি জ্ঞান হারিয়ে ফেলবেন। প্রথম দিকে এই উপসর্গগুলির সঙ্গে স্মার্টওয়াচে ধরা পড়া হৃদ্‌স্পন্দনের যোগসূত্র স্পষ্ট ছিল না। পরে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে, তাঁর রয়েছে ‘অ্যাট্রিওভেন্ট্রিকুলার নোডাল রি-এন্ট্রি ট্যাকিকার্ডিয়া’ বা এভিএনআরটি।

এটি হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দের একটি সমস্যা। এর ফলে আচমকাই হৃদ্‌স্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে যেতে পারে।

ছন্দের গোলমাল

সমস্যার উৎস খুঁজতে চিকিৎসকেরা করেন ‘ইলেক্ট্রোফিজিয়োলজি স্টাডি’। এর মাধ্যমে হৃদ্‌যন্ত্রের কোথা থেকে অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি হচ্ছে, তা চিহ্নিত করা হয়।

এর পর ‘রেডিয়োফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন’ পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়। রক্তনালির মধ্যে দিয়ে সরু ক্যাথেটার বা নল ঢুকিয়ে হৃদ্‌যন্ত্রের নির্দিষ্ট অংশে পৌঁছন চিকিৎসকেরা। সেখানে নিয়ন্ত্রিত তাপ প্রয়োগ করে অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরির পথটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। চিকিৎসার পর তরুণটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। পরে নিয়মিত পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নয়াদিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালের কার্ডিয়োথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট চিকিৎসক বরুণ বনসল বলেন, হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা সব সময় বুকে ব্যথা বা খুব প্রকট উপসর্গ দিয়ে শুরু হয় না। কখনও কখনও হৃদ্‌স্পন্দনের মতো আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ একটি পরিবর্তনই প্রথম ইঙ্গিত হতে পারে—বিশেষত তার সঙ্গে অন্য কোনও উপসর্গ থাকলে।

১২০ মানেই বিপদ?

হৃদ্‌স্পন্দনের হার সব সময় একই থাকে না। ব্যায়াম, দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ, জ্বর কিংবা শরীরে জলের ঘাটতিতে তা বেড়ে যেতে পারে। ক্যাফিন বা কিছু ওষুধের প্রভাবেও সাময়িক ভাবে হৃদ্‌স্পন্দন বাড়তে পারে।

তবে বিশ্রামে থেকেও যদি হৃদ্‌স্পন্দন অস্বাভাবিক ভাবে বেশি থাকে, বিশেষ করে তার কোনও স্পষ্ট কারণ না থাকে, তখন বিষয়টি নজরে রাখা জরুরি।

হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে গেলে কারও বুক ধড়ফড় করতে পারে, মনে হতে পারে বুকের ভিতর হৃদ্‌যন্ত্র জোরে ধাক্কা দিচ্ছে। কারও আবার কাঁপুনি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট বা বুকে অস্বস্তি হতে পারে। কখনও অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন কেউ। আবার উপসর্গ এতটাই সামান্য হতে পারে যে তা সহজেই উপেক্ষা করা যায়।

তাই এক বার স্মার্টওয়াচে ১২০ বা তার বেশি সংখ্যা দেখালেই হৃদ্‌যন্ত্রে সমস্যা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর কারণ নেই। বরং গুরুত্বপূর্ণ হল—কতক্ষণ হৃদ্‌স্পন্দন বেশি থাকছে, বারবার এমন হচ্ছে কি না, কোন পরিস্থিতিতে হচ্ছে এবং তার সঙ্গে অন্য কোনও উপসর্গ রয়েছে কি না।

এই তথ্যগুলিই চিকিৎসকের কাছে সমস্যাটির ধরন বোঝার ক্ষেত্রে বেশি কাজে আসে।

বয়স কম, তবু?

হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার কথা উঠলেই সাধারণত বেশি বয়স, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, কোলেস্টেরল, ধূমপান বা পারিবারিক ইতিহাসের মতো ঝুঁকির কথা সামনে আসে। কিন্তু বয়স কম হলেই হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দের সমস্যা হবে না—এমন নিশ্চয়তা নেই।

এভিএনআরটি-র মতো হৃদ্‌ছন্দের সমস্যা অল্পবয়সিদেরও হতে পারে। হঠাৎ হৃদ্‌স্পন্দন খুব দ্রুত হয়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা বা মাথা ঘুরে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

তাই স্মার্টওয়াচে নিজের স্বাভাবিক সীমার বাইরে হৃদ্‌স্পন্দনের হার ধরা পড়লে প্রথমেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু একই ঘটনা বারবার ঘটলে, বিশেষ করে বিশ্রামের সময়, বিষয়টি চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। বুক ধড়ফড়ের সঙ্গে মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, বুকে অস্বস্তি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে আরও গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখা দরকার।

ঘড়ি কতটা জানে?

স্মার্টওয়াচ হৃদ্‌স্পন্দনের পরিবর্তন নজরে আনার কাজটি অনেক সহজ করে দিয়েছে। দিনভর হৃদ্‌স্পন্দনের হার নথিবদ্ধ করার পাশাপাশি অস্বাভাবিক ভাবে বেশি বা কম হার ধরা পড়লে অনেক যন্ত্র ব্যবহারকারীকে সতর্কও করে।

তবে ঘড়ির পর্দায় ভেসে ওঠা সংখ্যাটি চূড়ান্ত রোগনির্ণয় নয়, বরং একটি সূত্র।

স্মার্টওয়াচ চিকিৎসকের পরীক্ষার বিকল্প নয়। শুধু হৃদ্‌স্পন্দনের হার দেখে কেন সেটি বেড়েছে, তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না। শরীরের নড়াচড়া, ঘড়িটি কব্জিতে ঠিক ভাবে বসানো হয়েছে কি না এবং আরও কিছু কারণেও যন্ত্রের মাপ প্রভাবিত হতে পারে।

অর্থাৎ, স্মার্টওয়াচের সতর্কবার্তাকে ভয় পাওয়ার কারণ নেই—আবার একেবারে উড়িয়েও দেওয়া ঠিক নয়। বারবার একই ধরনের পরিবর্তন ধরা পড়লে বা তার সঙ্গে শারীরিক উপসর্গ থাকলে, সেই তথ্য চিকিৎসকের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

স্বাস্থ্য সতর্কতা: এটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। পরীক্ষা বা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিবন্ধিত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিন।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles