‘ভোট চুরি থেকে আইন চুরি!’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি রাহুল গান্ধীর

যা জানা জরুরি
- ভোট প্রক্রিয়ায় কারচুপি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
- বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ভোটের প্রাতিষ্ঠানিক রক্ষক, অথচ সেই প্রতিষ্ঠানই আজ প্রশ্নের মুখে।
- রাহুলের ভাষায়, ভোটচুরি থেকে শুরু হয়ে তা ক্রমে আইনচুরি, তারপর প্রতিষ্ঠানচুরিতে পরিণত হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ভোট প্রক্রিয়ায় কারচুপি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ভোটের প্রাতিষ্ঠানিক রক্ষক, অথচ সেই প্রতিষ্ঠানই আজ প্রশ্নের মুখে। রাহুলের ভাষায়, ভোটচুরি থেকে শুরু হয়ে তা ক্রমে আইনচুরি, তারপর প্রতিষ্ঠানচুরিতে পরিণত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে পরবর্তী সব নির্বাচনই কারচুপি করে করা হয়েছে, এবং এর সপক্ষে তাঁর কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানার উদাহরণ টেনে রাহুল বলেন, এই রাজ্যগুলিতে দশকের পর দশক ধরে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে, কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যেন সেই প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া আশ্চর্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাচ্ছে। এই প্রবণতাকে তিনি আখ্যা দেন এক গভীর ও অমীমাংসিত প্রশ্ন হিসেবে।
রাহুল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে তদন্তেরও দাবি জানান, অভিযোগ করেন যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে তাঁদের ভূমিকা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের কথাও তুলে ধরেন তিনি। সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী গত দশ মাসে অন্তত চোদ্দোবার কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি নথিভুক্ত করেছেন, মূলত ভোটার তালিকার কেন্দ্রীভূত ডেটাবেস তৈরি ও তার পরিবর্তন নিয়ে। রাহুলের দাবি, কংগ্রেস মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় ভোটচুরির প্রশ্ন তোলার পরই এই দুই কমিশনার মুখ্য কমিশনারের বিরোধিতা শুরু করেন। প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে রাহুল আরও বলেন, যদি ভোট চুরি হয়ে থাকে এবং সংসদে বসে থাকা সাংসদেরা সেই চুরি হওয়া ভোটের ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়ে থাকেন, তবে তাঁদের প্রণীত যে কোনও আইনই অবৈধ বলে গণ্য হওয়া উচিত। এই যুক্তিতেই তিনি গোটা প্রতিষ্ঠানিক কাঠামোর বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের সামনে একটি পুরনো ও অস্বস্তিকর প্রশ্নও ফিরে এসেছে — যে নির্বাচনব্যবস্থাকে তারা কারচুপির বলে অভিহিত করছে, সেই একই ব্যবস্থার অধীনে বারবার অংশ নিয়ে তারা কি নিজেরাই সেই ব্যবস্থাকে বৈধতা দিচ্ছে না। সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে রাহুলের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনও উত্তর মেলেনি, অথচ উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, গোয়া ও মণিপুরের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন, হাতে সময় মেরেকেটে পাঁচ মাস। কমিশন অবশ্য পাল্টা আক্রমণ শানাতে ছাড়েনি। রবিবারের সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার ভোটার তালিকার ত্রুটির দায় রাজনৈতিক দলগুলির ওপরই চাপিয়ে দিয়েছিলেন, এবং সেই সঙ্গে রাহুলের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন প্রমাণ বা ক্ষমা চাওয়ার।
কর্নাটকের আলান্দ কেন্দ্র ঘিরেও নতুন করে অভিযোগ তুলেছেন রাহুল। তাঁর দাবি, কংগ্রেস-শাসিত এই রাজ্যে ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বহু ভোটারের নাম গণহারে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। কমিশন অবশ্য এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ভুল বলে খারিজ করেছে। সব মিলিয়ে জ্ঞানেশ কুমার ও রাহুল গান্ধীর এই সংঘাত এখন কেবল একটি ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং তা ভারতের নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এক গভীরতর প্রশ্নের রূপ নিয়েছে, যার ফয়সালা আগামী দিনের একাধিক নির্বাচনের ফলাফলেই স্পষ্ট হবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



