রাজ্য

৬৪ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যন্ত্রাংশ উধাও: কড়া ব‍্যবস্থা সরকারের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: কোভিড-পর্বে কেন্দ্রীয় অনুদানে কেনা চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ ৬৪টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে খুঁজে না-পাওয়ার অভিযোগে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর।
  • ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নির্দেশে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের বলা হয়েছে, কোনও জিনিস অনুপস্থিত বা চুরি হয়েছে ধরা পড়লেই স্থানীয় থানায় অভিযোগ করতে হবে।
  • প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় ৫০টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, ১৩টি ব্লক জনস্বাস্থ্য ইউনিট এবং একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: কোভিড-পর্বে কেন্দ্রীয় অনুদানে কেনা চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ ৬৪টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে খুঁজে না-পাওয়ার অভিযোগে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নির্দেশে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের বলা হয়েছে, কোনও জিনিস অনুপস্থিত বা চুরি হয়েছে ধরা পড়লেই স্থানীয় থানায় অভিযোগ করতে হবে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় ৫০টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, ১৩টি ব্লক জনস্বাস্থ্য ইউনিট এবং একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে।

সরঞ্জামগুলি পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের স্বাস্থ্য অনুদান থেকে কেনা এবং পশ্চিমবঙ্গ চিকিৎসা পরিষেবা নিগমের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল। ব্যাটারি, তারের বাক্স এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রের অংশ নিখোঁজ হওয়ার কথা সরকারি নির্দেশে রয়েছে। কিছু জায়গায় প্রয়োজনীয় অংশ না-থাকায় যন্ত্র বসানো ও চালু করা যায়নি বলে দফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে মোট ক্রয়মূল্য, প্রতিটি কেন্দ্রের ক্ষতির অঙ্ক এবং কোন তারিখে কী পৌঁছেছিল—সম্পূর্ণ কেন্দ্রভিত্তিক তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি।

প্রতিটি অভিযোগের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নাম, অনুপস্থিত সামগ্রীর বিবরণ, সরবরাহের তারিখ, ঘাটতি ধরা পড়ার তারিখ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত রক্ষকের নাম পাঠাতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ একই অভিযোগে সব কর্মীকে দায়ী করার বদলে হেফাজতের শৃঙ্খল শনাক্ত করার কথা রয়েছে। দফতর আরও বলেছে, তদন্তে অবহেলা প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হবে এবং চাকরির বিধি অনুমতি দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বেতন বা পারিশ্রমিক থেকে ক্ষতির পুরো অঙ্ক আদায় করা যেতে পারে।

এখানে তিনটি সম্ভাবনাকে আলাদা রাখা জরুরি—চুরি, আত্মসাৎ এবং নথি বা সংরক্ষণের অব্যবস্থা। কোনও যন্ত্র অন্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়ে থাকলেও স্থানান্তর খাতায় না লেখা হলে কাগজে সেটি ‘উধাও’ দেখা যেতে পারে। আবার বাক্স পৌঁছলেও ভেতরের অংশ অসম্পূর্ণ থাকলে গ্রহণকারী ও সরবরাহকারীর দায় পৃথক। এফআইআর তদন্তের শুরু; নির্দিষ্ট কর্মীর অপরাধ বা আর্থিক দায় প্রমাণের শেষ সিদ্ধান্ত নয়।

বেতন থেকে টাকা কাটা নিয়েও যথাযথ প্রক্রিয়া প্রয়োজন। কে সরকারি সম্পদের আনুষ্ঠানিক রক্ষক ছিলেন, তাঁর হাতে সত্যিই জিনিসটি দেওয়া হয়েছিল কি না, নিরাপদ ঘর বা প্রহরার ব্যবস্থা ছিল কি না এবং তাঁকে বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে কিনা এসব না দেখে দলগত কাটাকাটি করা যাবে না। পুলিশের ফৌজদারি তদন্ত এবং দফতরের শৃঙ্খলামূলক তদন্তের প্রমাণের মানও এক নয়।

ঘটনাটি শুধু অতীতের হিসাব নয়। যন্ত্রাংশ না-থাকায় বর্তমানে কোনও পরীক্ষা বা পরিষেবা বন্ধ থাকলে রোগীকে দূরে যেতে হচ্ছে। তাই অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি সাময়িক বিকল্প সরঞ্জাম দেওয়া, মেরামত এবং চালুর দিন নির্ধারণ প্রয়োজন। চুরি উদ্ধার না-হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা থামিয়ে রাখা রোগীর উপর প্রশাসনিক ব্যর্থতার বোঝা চাপায়।

নিগমের সরবরাহ-নথি এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গ্রহণ-খাতা মিলিয়ে একটি যন্ত্রের পথ পুনর্গঠন করা সম্ভব: কেনার আদেশ, গুদাম থেকে ছাড়, পরিবহণের চালান, গ্রহণকারীর স্বাক্ষর, স্থাপনের শংসাপত্র এবং পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ। কোন ধাপে নথি ভেঙেছে, তা না-দেখে শুধু শেষ রক্ষককে দায়ী করলে সরবরাহ বা পরিবহণের সম্ভাব্য অনিয়ম অদৃশ্য থাকবে। কেন্দ্রীয় অনুদানের ব্যবহার হওয়ায় ব্যয়ের ফল ও অব্যবহৃত সম্পদের হিসাব অর্থ কমিশন-সংক্রান্ত নিরীক্ষাতেও প্রাসঙ্গিক।

বিশ্লেষণ: কোভিডের জরুরি কেনাকাটায় দ্রুততা প্রয়োজন ছিল, কিন্তু জরুরি অবস্থা সম্পদের খাতা রাখার দায় সরায়নি। গ্রহণপত্র, ক্রমিক নম্বর, স্থাপন-প্রতিবেদন, ছবি এবং নিয়মিত ভৌত যাচাই একত্রে থাকলে বহু বছর পরে দায় খোঁজার প্রয়োজন কমত। এখন প্রতিটি জেলার ফল একই বিন্যাসে প্রকাশ করলে বোঝা যাবে কোথায় অপরাধ, কোথায় অবহেলা এবং কোথায় কাগজের ভুল।

পুনরুদ্ধারের অঙ্ক ও পরিষেবা পুনরায় চালুর তারিখ—দুটি সূচকই জনসমক্ষে রাখা উচিত। শুধু এফআইআরের সংখ্যা দেখালে কঠোরতার ছবি পাওয়া যায়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ঠিক হয়েছে কি না জানা যায় না। দায়ী ব্যক্তিকে প্রমাণের ভিত্তিতে শাস্তি দিতে হবে; একই সঙ্গে যে কেন্দ্রের রোগী যন্ত্রের সুবিধা পাননি, সেখানে দ্রুত কাজ শুরু করাই প্রশাসনের এখন সবচেয়ে জরুরি সংশোধন।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles