রাজ্য

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বহু জেলায় বৃষ্টি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে উপকূলের দিকে এগোনোয় পশ্চিমবঙ্গের বহু জেলায় বৃষ্টি, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।
  • ২২ সেপ্টেম্বর কলকাতার আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্র বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের কিছু অংশে কমলা সতর্কতা দেয়।
  • সেখানে মাঝারি বজ্রঝড়, তীব্র বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা জানানো হয়।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে উপকূলের দিকে এগোনোয় পশ্চিমবঙ্গের বহু জেলায় বৃষ্টি, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। ২২ সেপ্টেম্বর কলকাতার আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্র বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের কিছু অংশে কমলা সতর্কতা দেয়। সেখানে মাঝারি বজ্রঝড়, তীব্র বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা জানানো হয়।

কলকাতা, পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, মালদহ, নদিয়া, হুগলি এবং দুই চব্বিশ পরগনায় হলুদ সতর্কতা ছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে শুক্রবার পর্যন্ত ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা দেওয়া হয়। ঝাড়গ্রাম, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পংয়েও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল। এই তালিকা সময়ভিত্তিক; স্থানীয় সর্বশেষ বুলেটিনই সিদ্ধান্তের প্রধান ভিত্তি।

মঙ্গলবার সকালে নিম্নচাপটি পশ্চিম-মধ্য ও সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ছিল। ছয় ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রায় ১৭ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে সরে গিয়ে সেটি গোপালপুরের দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। পূর্বাভাস ছিল, এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের মধ্যে বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মধ্যবর্তী উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ–দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

সিস্টেমটির কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে না-ঢুকলেও বাইরের মেঘপুঞ্জ ও আর্দ্র বায়ু রাজ্যে বৃষ্টি বাড়াতে পারে। তাই ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি আঘাত না-থাকা এবং ঝুঁকি না-থাকা এক কথা নয়। বজ্রপাত, অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি, নিচু এলাকায় জল জমা এবং দুর্বল গাছ বা অস্থায়ী কাঠামোর ক্ষতি স্থানীয়ভাবে ঘটতে পারে। আবার সতর্ক জেলার প্রতিটি ব্লকে একই পরিমাণ বৃষ্টি হবে—এমন নিশ্চয়তাও পূর্বাভাস দেয় না।

সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কায় শুক্রবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সাগরে না-যেতে এবং যাঁরা গিয়েছেন তাঁদের ফিরে আসতে বলা হয়েছে। পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬৫ কিলোমিটার, দমকায় ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে সতর্কতা ছিল। এই নির্দেশ নৌকার আকার বা অভিজ্ঞতার উপর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; সমুদ্রের সরকারি সতর্কতা অনুসরণ করাই নিরাপদ।

স্থলভাগে আবহাওয়া কেন্দ্র খোলা মাঠ, একা গাছ ও জলাশয়ের কাছে বজ্রঝড়ের সময় না-থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বজ্রপাতের আশঙ্কায় পাকা ঘরে আশ্রয় নেওয়া উচিত। কৃষকের ক্ষেত্রে কাটা ফসল ঢেকে রাখা, বৈদ্যুতিক পাম্প ব্যবহারে সতর্কতা এবং স্থানীয় কৃষি দফতরের বার্তা দেখা প্রয়োজন। বিদ্যালয় বা পরিবহণ বন্ধের সিদ্ধান্ত আলাদা প্রশাসনিক নির্দেশে হবে; আবহাওয়া সতর্কতা নিজে থেকে ছুটি ঘোষণা নয়।

পূর্বাভাসে ঘটনার সময়ও বদলাতে পারে। নিম্নচাপের পথ কয়েক দশ কিলোমিটার সরে গেলে কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হবে, তার মানচিত্র পাল্টে যায়। তাই মঙ্গলবারের বুলেটিন বৃহস্পতিবারের যাত্রার একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না। জেলা প্রশাসন ও আবহাওয়া দফতরের তাৎক্ষণিক বার্তা মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। নদীর জলস্তর বাড়লে সেচ দফতর পৃথক সতর্কতা দেবে; আবহাওয়ার ভারী বৃষ্টির বার্তা নিজে থেকে বাঁধ ভাঙা বা বন্যার নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়। দুটি তথ্য একত্র করে ভয় ছড়ানোও অনুচিত।

বিশ্লেষণ:  রঙিন সতর্কতার সবচেয়ে বড় ভুলপাঠ হল কমলাকে নিশ্চিত বিপর্যয় এবং হলুদকে নিরাপদ বলে ধরে নেওয়া। রং সম্ভাব্য প্রভাব ও প্রস্তুতির স্তর বোঝায়; বাড়ি, রাস্তা, নদী ও কাজের ধরন অনুযায়ী ঝুঁকি বদলায়। একই জেলার শহর ও গ্রামেও জলনিকাশি বা নদীর অবস্থার কারণে ফল আলাদা হতে পারে।

প্রশাসনের সাফল্য কেবল পূর্বাভাস প্রকাশে নয়, সেটিকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরিতে। মৎস্যজীবীর ফেরার বন্দর, শ্রমিকের নিরাপদ আশ্রয়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের যোগাযোগ এবং জল জমার রাস্তার বিকল্প তথ্য আগে পৌঁছানো দরকার। বর্তমান খবরটি সম্ভাব্য ঝুঁকির সতর্কতা; পরবর্তী বাস্তব ক্ষতি বা বৃষ্টির পরিমাণ আলাদা পর্যবেক্ষণে নিশ্চিত করতে হবে।

পুরনো বন্যার ছবি দিয়ে নতুন সতর্কতা প্রচার করলে মানুষের আস্থা কমে; সময়মুদ্রিত সরকারি মানচিত্র ব্যবহার করাই নিরাপদ।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles