International

ইয়েলোস্টোনে টুপি-রেকর্ড!

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রতিবেদন: ইয়েলোস্টোনে মানুষ প্রকৃতির বিস্ময় দেখতে যান, কিন্তু কেউ কেউ সেখানে নিজের টুপিও রেখে আসেন!
  • এ বছর জাতীয় উদ্যানটির উষ্ণ প্রস্রবণ ও ভূতাপীয় এলাকা থেকে রেকর্ড পরিমাণ আবর্জনা সরানো হয়েছে।
  • উদ্ধার হওয়া জিনিসের তালিকায় রয়েছে অন্তত ২৮০টি টুপি, ছয়টি দাঁতের রিটেনার, মুদ্রা, চশমা, ফোন এবং আরও নানা ব্যক্তিগত সামগ্রী।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রতিবেদন: ইয়েলোস্টোনে মানুষ প্রকৃতির বিস্ময় দেখতে যান, কিন্তু কেউ কেউ সেখানে নিজের টুপিও রেখে আসেন! এ বছর জাতীয় উদ্যানটির উষ্ণ প্রস্রবণ ও ভূতাপীয় এলাকা থেকে রেকর্ড পরিমাণ আবর্জনা সরানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জিনিসের তালিকায় রয়েছে অন্তত ২৮০টি টুপি, ছয়টি দাঁতের রিটেনার, মুদ্রা, চশমা, ফোন এবং আরও নানা ব্যক্তিগত সামগ্রী। কিছু জিনিস বাতাসে উড়ে গিয়ে পড়েছে বলে ধারণা, আবার কিছু দর্শক ইচ্ছা করেই ছুড়েছেন বলে কর্তৃপক্ষের অনুমান।

তবে ইয়েলোস্টোনের রঙিন প্রস্রবণ কোনও সাধারণ পুকুর নয়। অনেক জায়গায় জল ফুটন্তের কাছাকাছি তাপমাত্রায় থাকে, মাটি অত্যন্ত পাতলা এবং তার নীচেই থাকতে পারে অতিগরম জল বা কাদা। তাই পড়ে যাওয়া টুপি তুলতে কাঠের নির্ধারিত পথ ছেড়ে নামা ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে। একটি টুপির জন্য যেন মানুষকেই উদ্ধার করতে না হয়, সেটাই আসল কথা।

আবর্জনার সমস্যাও শুধু সৌন্দর্য নষ্ট করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিদেশি বস্তু প্রস্রবণের সরু জলপথ আটকে দিতে পারে, বদলে দিতে পারে জলপ্রবাহ ও তাপমাত্রা। এর ফলে খনিজ এবং বিশেষ ধরনের অণুজীবের ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি প্রস্রবণের স্বাভাবিক রঙেও প্রভাব পড়তে পারে। আর জলে মুদ্রা ছোড়া? ইচ্ছাপূরণের নিরীহ রীতি বলে চালিয়ে দেওয়ার উপায় নেই। ধাতু ও অন্যান্য আবর্জনা এই সংবেদনশীল ভূতাপীয় পরিবেশে জমা হয়।

এই আবর্জনা তুলতেও কম ঝক্কি নেই। পরিষ্কারকর্মীদের বিশেষ সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করতে হয়। কোনও কোনও বস্তু এমন জায়গায় পড়ে যেখানে সঙ্গে সঙ্গে সেটি উদ্ধার করাই নিরাপদ নয়। অর্থাৎ দর্শকের অসাবধানতায় ফেলা একটি টুপির পেছনে পার্ককে কর্মী, সময় এবং কখনও বৈজ্ঞানিক পরামর্শ পর্যন্ত খরচ করতে হয়।

টুপি এত বেশি পড়ায় বাতাসপ্রবণ এলাকায় মাথার পোশাক ভালো করে আটকে রাখার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফোন দিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে প্রান্তের উপর ঝুঁকে পড়াও বিপজ্জনক। আর ছয়টি দাঁতের রিটেনার কীভাবে সেখানে পৌঁছল? তার কোনও বৈজ্ঞানিক ‘রহস্য’ এখনও মেলেনি। সম্ভবত কথা বলতে, হাসতে কিংবা খাবারের সময় অসাবধানতাই যথেষ্ট।

কোনও জিনিস পড়ে গেলে অনেকেই নিজেরাই তা তুলতে চান। ইয়েলোস্টোনের পরামর্শ কিন্তু ঠিক উল্টো—জায়গাটি চিহ্নিত করে রেঞ্জারকে জানান এবং কোনও অবস্থাতেই নির্ধারিত পথ ছেড়ে নামবেন না। সব হারানো জিনিস উদ্ধার করাও সম্ভব নয়।

ইয়েলোস্টোনে মানুষ প্রকৃতির বিস্ময় দেখতে গিয়ে টুপি, চশমা, ফোন আর দাঁতের যন্ত্র রেখে আসছে—তালিকাটি নিঃসন্দেহে বেশ অদ্ভুত। মজাটা অবশ্য জিনিসগুলির সমাবেশে, সেগুলি তুলতে গিয়ে কর্মীদের ঝুঁকি নেওয়ায় নয়।

প্রতি বছর কত আবর্জনা কোথায় পাওয়া যাচ্ছে, তার হিসাব প্রকাশের পাশাপাশি কোন এলাকায় কী ধরনের জিনিস বেশি পড়ছে, তার মানচিত্রও দর্শকদের সচেতন করতে পারে। বাতাসপ্রবণ জায়গায় আগাম সতর্কতা এবং নিরাপদ ছবি তোলার ব্যবস্থা আরও কাজে আসতে পারে।

শেষ নিয়মটি অবশ্য খুব সহজ—উষ্ণ প্রস্রবণ ইচ্ছাপূরণের কূপ নয়, আর ইয়েলোস্টোন আপনার হারানো জিনিসের বাক্সও নয়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles