সংস্কৃতি ও বিনোদন

ডাক্তার বাবা, ডাক্তার ছেলে

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • একই পেশা, একই পরিবার—তবু জীবন দেখার চোখ আলাদা।
  • সেই দূরত্বেই চিকিৎসা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর ক্ষমতার গল্প বলেছে পাভেলের ‘ডাক্তার কাকু’।
  • প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও ঋদ্ধি সেন অভিনীত ছবিটি ১৮ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

একই পেশা, একই পরিবার—তবু জীবন দেখার চোখ আলাদা। সেই দূরত্বেই চিকিৎসা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর ক্ষমতার গল্প বলেছে পাভেলের ‘ডাক্তার কাকু’। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও ঋদ্ধি সেন অভিনীত ছবিটি ১৮ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে। পর্দায় বাবা-ছেলের ভূমিকাতেও দেখা যাচ্ছে এই দুই অভিনেতাকে। ছবির প্রচারের পাশাপাশি তাঁদের কাজের সম্পর্ক এবং চিকিৎসার আদর্শ নিয়ে আলোচনাও সামনে এসেছে।

প্রকাশিত কাহিনি-পরিচিতি অনুযায়ী, স্ত্রীকে হারানোর পর চিকিৎসক দিলীপ সাহা একাই ছেলে পুশকিনকে বড় করে তোলেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব নেন পচা এবং তার বোন চুমকিরও। সময়ের সঙ্গে পুশকিন ও পচা দু’জনেই চিকিৎসক হয়ে ওঠে। কিন্তু প্রভাবশালী এক হাসপাতাল-মালিকের মেয়ে শীতলের সঙ্গে পুশকিনের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর বদলে যায় পরিস্থিতি। ক্ষমতা, গোপনীয়তা এবং কঠিন সিদ্ধান্তের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে পরিবারটি।

তাই ছবির সংঘাত শুধু বাবা-ছেলের মতের অমিল নয়। একজন চিকিৎসক যখন নিজের পেশার দায়িত্ব এবং সন্তানের প্রতি দায়িত্ব—দুই দিকই সামলাতে চান, তখন কোনটিকে আগে রাখবেন? দিলীপ সাহার সামনে সেই প্রশ্নই ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে। প্রসেনজিৎ ও ঋদ্ধির সঙ্গে ছবিতে অভিনয় করেছেন এনা সাহা, রজতাভ দত্ত, তুলিকা বসু এবং পাভেল। প্রকাশিত প্রদর্শন-তথ্য অনুযায়ী, ছবিটির দৈর্ঘ্য দু’ঘণ্টা ১৫ মিনিট।

আনন্দবাজারকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ঋদ্ধি জানিয়েছেন, শুধু প্রসেনজিতের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তাঁকে ছবিতে রাজি করায়নি। গল্পের বিষয়বস্তুই তাঁকে প্রথমে টেনেছিল। নিজের বেড়ে ওঠা, বিশ্বাস এবং আদর্শের সঙ্গে কাহিনির যোগ খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর মতে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো বিষয়কে ঘিরে মানুষের অভিযোগ, ক্ষোভ ও অভিমান ছবিতে বিনোদনের ভাষায় উঠে এসেছে।

প্রসেনজিতের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও ঋদ্ধির কাছে আলাদা। দীর্ঘদিনের পরিচয় থাকলেও শুটিংয়ের সেটে সহঅভিনেতা হিসেবে তাঁকে নতুন করে দেখেছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, বড় তারকা হয়েও প্রসেনজিৎ সেটে অপ্রয়োজনীয় লোকজনের ভিড় রাখেন না এবং নিজের উপস্থিতিকে অন্যের কাজের বাধা হতে দেন না। বরং সহঅভিনেতাদের কাজ সহজ করে দেন। চরিত্রের মধ্যে থাকার এই শৃঙ্খলাকেই নিজের শেখার জায়গা হিসেবে দেখেছেন ঋদ্ধি।

কাজ বাছাই নিয়েও তাঁর বক্তব্য বেশ বাস্তব। বাংলা ছবির সংখ্যা কম, পেশায় অনিশ্চয়তা বেশি। ফলে অভিনেতার পক্ষে সবসময় ‘একেবারে মনের মতো’ ছবির অপেক্ষায় বসে থাকা সম্ভব নয়। তবু নিজের বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত কোনও কাজে যুক্ত না হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। সেই জায়গা থেকেই ‘ডাক্তার কাকু’ তাঁর কাছে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

ছবির গল্পের কেন্দ্রে থাকা বাবা-ছেলের দ্বন্দ্ব আসলে আরও পরিচিত একটি প্রশ্ন তোলে—সন্তানকে মানুষ করা কি শুধু তাকে প্রতিষ্ঠিত করে তোলার নাম, নাকি তার সিদ্ধান্তের মধ্যেও নিজের মূল্যবোধের ছাপ দেখতে চাওয়া? চিকিৎসার মতো পেশায় প্রশ্নটি আরও কঠিন। কারণ ব্যক্তিগত সাফল্যের সঙ্গে এখানে জড়িয়ে থাকে রোগীর প্রয়োজন এবং অন্য মানুষের জীবনের দায়।

তার উপর দিলীপের পিতৃত্ব শুধু নিজের সন্তানকে ঘিরে নয়। পচা ও চুমকির দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে পরিবারকে রক্তের সম্পর্কের বাইরেও দেখা হয়েছে। কে কাকে জন্ম দিয়েছে, তার পাশাপাশি কে কার পাশে দাঁড়িয়েছে—সেটিও হয়ে ওঠে সম্পর্কের মাপকাঠি। পরে প্রত্যেকে নিজের মতো সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করলে সেই পুরনো স্নেহ ও দায়িত্বের সম্পর্ক কীভাবে বদলায়, গল্পে তারও জায়গা তৈরি হয়।

পেশাগত নীতি আর পরিবারের প্রতি টান যখন মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন বাইরে থেকে সঠিক সিদ্ধান্তটি যত সহজ দেখায়, নিজের জীবনে সেটি নেওয়া ততটাই কঠিন। এই দ্বন্দ্বই ‘ডাক্তার কাকু’-র গল্পকে শুধু হাসপাতালের গল্প না করে পরিবার এবং মূল্যবোধের গল্প করে তুলেছে।

কারণ বাবা-মা সন্তানের সাফল্য চান, আবার সেই সন্তান নিজের মতো করে পথ বেছে নিলে অস্বস্তিও হয়। এই চেনা দ্বিধাকে হাসপাতালের পরিসরে বসিয়েছে ছবিটি। প্রসেনজিৎ-ঋদ্ধির যুগল উপস্থিতি তাই শুধু পর্দার বাবা-ছেলের সম্পর্ক নয়—দুই প্রজন্মের দুই ধরনের বিশ্বাসের মুখোমুখিও।

শেষ পর্যন্ত ‘ডাক্তার কাকু’ কতটা গভীর প্রশ্ন তুলতে পেরেছে, তার উত্তর দর্শকের কাছেই। আপাতত বাবা-ছেলে দু’জনেরই স্টেথোস্কোপ হাতে—তবে রোগটা শরীরের নয়, সম্পর্কের।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles