তেলাপোকার দুধে ইগ নোবেল!

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: তেলাপোকার ‘দুধ’, মাটির স্বাস্থ্য মাপতে মাটির নীচে অন্তর্বাস পুঁতে রাখা, চুম্বনের বিবর্তন, এমনকি নাক ঝাড়ার বিজ্ঞান—গবেষণার বিষয় হতে পারে প্রায় সবই!
- ২০২৬ সালের ইগ নোবেল পুরস্কারে এমনই দশটি অদ্ভুত গবেষণাদল স্বীকৃতি পেয়েছে।
- অনুষ্ঠানটিও এবার একটু অন্যরকম—প্রথম বার আমেরিকার বাইরে, সুইজারল্যান্ডের জুরিখে বসেছিল এই বিচিত্র পুরস্কারের আসর।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: তেলাপোকার ‘দুধ’, মাটির স্বাস্থ্য মাপতে মাটির নীচে অন্তর্বাস পুঁতে রাখা, চুম্বনের বিবর্তন, এমনকি নাক ঝাড়ার বিজ্ঞান—গবেষণার বিষয় হতে পারে প্রায় সবই! ২০২৬ সালের ইগ নোবেল পুরস্কারে এমনই দশটি অদ্ভুত গবেষণাদল স্বীকৃতি পেয়েছে। অনুষ্ঠানটিও এবার একটু অন্যরকম—প্রথম বার আমেরিকার বাইরে, সুইজারল্যান্ডের জুরিখে বসেছিল এই বিচিত্র পুরস্কারের আসর। ২০২৭ সালে অনুষ্ঠান হবে বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্পে।
ইগ নোবেলের মূল মন্ত্রটাই হল—যে গবেষণা প্রথমে হাসায়, পরে ভাবায়। এটি অবশ্য আসল নোবেল পুরস্কারের কোনও শাখা নয়। ‘অ্যানালস অব ইমপ্রোবেবল রিসার্চ’ এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে। মজার ব্যাপার, অনেক সময় প্রকৃত নোবেলজয়ীরাই মঞ্চে উঠে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
এবারের আলোচিত গবেষণার একটি তেলাপোকার ‘দুধ’। নামটা শুনে সকালের চায়ের সঙ্গে নতুন উপকরণ খোঁজার দরকার নেই। এটি আসলে একটি নির্দিষ্ট জীবজ বংশবর্ধনকারী প্রজাতির শাবকের জন্য তৈরি স্ফটিকের মতো পুষ্টিকর পদার্থ। গবেষণাটি মানুষের পানীয় হিসেবে তেলাপোকার দুধ বাজারে আনার অনুমতিপত্র নয়। এর পুষ্টিগুণ, সংগ্রহের বাস্তবতা এবং নিরাপত্তা—সবই আলাদা প্রশ্ন।
আর মাটির নীচে অন্তর্বাস? শুনতে কৃষিবিজ্ঞানের চেয়ে বেশি দুষ্টুমি মনে হলেও পদ্ধতিটির যুক্তি আছে। সুতির অন্তর্বাস মাটিতে পুঁতে নির্দিষ্ট সময় পরে সেটি কতটা পচেছে দেখা হয়। তুলোর ক্ষয়ের মাত্রা থেকে মাটির জীবাণু-সক্রিয়তা সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পাওয়া যায়। কৃষকদের মাটির জীববৈচিত্র্য বোঝানোর সহজ উপায় এটি। অবশ্য পূর্ণাঙ্গ মাটি পরীক্ষা বা রাসায়নিক বিশ্লেষণের বদলি নয়।
এবার নাকও বাদ যায়নি। প্রয়াত জাপানি চিকিৎসক তোকুজি উন্নো নাক ঝাড়ার শারীরবিদ্যা নিয়ে গবেষণার জন্য মরণোত্তর স্বীকৃতি পেয়েছেন। নাক ঝাড়া এতটাই দৈনন্দিন কাজ যে তাকে নিয়ে বিজ্ঞান করার কথা শুনে হাসি পেতে পারে। কিন্তু বায়ুপ্রবাহ, চাপ এবং স্বাস্থ্যগত প্রভাব মাপা যথেষ্ট বৈধ চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রশ্ন। কোনও কাজ আমরা প্রতিদিন করি বলেই সেটি বিজ্ঞানের বাইরে চলে যায় না।
অনুষ্ঠানের আর একটি পরিচিত দৃশ্য ছিল কাগজের বিমান ওড়ানো। তবে এবার তার সঙ্গে ছিল ভেন্যু বদলের গল্পও। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের আমেরিকার ভিসা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই অনুষ্ঠান আমেরিকার বাইরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে অদ্ভুত গবেষণার এই উৎসবেও আন্তর্জাতিক যাতায়াতনীতির একেবারে বাস্তব ছায়া পড়েছে।
ইগ নোবেলের আসল মজা অবশ্য গবেষককে নিয়ে হাসাহাসিতে নয়। বরং আমরা কোন প্রশ্নকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আর কোনটিকে ‘হাস্যকর’ বলে ভাগ করি, সেই অহংকারে একটু খোঁচা দেওয়া। মহাবিশ্বের রহস্য নিয়ে গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নাক ঝাড়া নিয়ে প্রশ্ন করলেই তা অর্থহীন—এমন ধারণার কোনও বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই।
তবে পুরস্কার পাওয়া মানেই কোনও গবেষণার ফল চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত বা ব্যবহারিক প্রয়োগের জন্য প্রস্তুত—এমনও নয়। শিরোনাম দেখে হাসার পর তাই গবেষণার পদ্ধতি, প্রমাণ এবং সীমাবদ্ধতাও দেখা দরকার।
তেলাপোকার ‘দুধ’ হয়তো সকালের চায়ে ঢোকার জন্য নয়। কিন্তু তার জীববিদ্যা যে মানুষের কৌতূহলের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে, সেটাই ইগ নোবেলের আসল কৃতিত্ব।
সব গবেষণাই যে গম্ভীর মুখে করতে হবে, বিজ্ঞান সম্ভবত সেই ভুলটাই ভাঙতে চায়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



