ফের ‘কারপুল’ মোদী-পুতিনের

যা জানা জরুরি
- শীর্ষ বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই পাশাপাশি গাড়িতে চেপে বসলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
- কিরঘিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সেরে দুই নেতা একই গাড়িতে রওনা দেন বিশকেক এরিনার দিকে।
- সেখানে ষষ্ঠ বিশ্ব যাযাবর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
তিয়ানজিনের পর আবারও একই গাড়িতে মোদী-পুতিন। শীর্ষ বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই পাশাপাশি গাড়িতে চেপে বসলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিরঘিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সেরে দুই নেতা একই গাড়িতে রওনা দেন বিশকেক এরিনার দিকে। সেখানে ষষ্ঠ বিশ্ব যাযাবর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এক বছর আগে চিনের তিয়ানজিনেও দেখা গিয়েছিল প্রায় একই দৃশ্য। তাই ফের চর্চায় মোদী-পুতিনের ‘কারপুল কূটনীতি’।
বিশকেকে সোমবার মুখোমুখি বৈঠকে বসেন দুই নেতা। শুরুতেই একে অপরকে আলিঙ্গন করেন তাঁরা। আলোচনা শেষ হওয়ার পর অবশ্য আলাদা সরকারি গাড়ি তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছিল। কিন্তু সেই প্রথা ভেঙেই একই গাড়িতে ওঠেন মোদী ও পুতিন।
রাষ্ট্রপ্রধানদের সফরে কড়া নিরাপত্তাবিধি এবং নির্দিষ্ট প্রোটোকলের কারণে এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না। ফলে কয়েক মিনিটের এই যাত্রাকেও ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ব্যক্তিগত উষ্ণতা এবং দুই নেতার পারস্পরিক আস্থার দৃশ্যমান বার্তা হিসেবেই দেখছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।
ঘটনাটি অবশ্য এই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের সময় রুশ প্রেসিডেন্টের সাঁজোয়া অরাস লিমুজিনে চড়েই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জায়গায় গিয়েছিলেন মোদী। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সেদিন মোদীর জন্য প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষাও করেছিলেন পুতিন। পরে গাড়ির ভিতরেই প্রায় ৫০ মিনিট একান্তে কথা বলেন দুই নেতা।
সেই সফরে পুতিন মোদীকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। মোদীও বলেছিলেন, কঠিন সময়েও ভারত ও রাশিয়া একে অপরের পাশে থেকেছে।
এর কয়েক মাস পর, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পুতিনের ভারত সফরেও ফের দেখা যায় সেই ‘কারপুল’ মুহূর্ত। দিল্লির পালাম বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন পর্যন্ত একই গাড়িতে গিয়েছিলেন দুই নেতা। বিশকেকের যাত্রা সেই ধারার তৃতীয় উল্লেখযোগ্য পর্ব।
তবে গাড়ির ভিতরের সৌহার্দ্যের ছবির আড়ালে বৈঠকের আলোচনায় ছিল যথেষ্ট কঠিন আন্তর্জাতিক রাজনীতি। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মোদী পুতিনকে বলেন, “অন্তহীন যুদ্ধ থেকে আমাদের যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে।” যুদ্ধ যত দিন চলবে, মানবসভ্যতা ততই পিছিয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শান্তি প্রতিষ্ঠার সব উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করবে—এই অবস্থানও ফের স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রী।
পুতিনও জানান, রাশিয়া শান্তির পথে এগোতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে মস্কো এবং কিয়েভের অবস্থানের ফারাক এখনও বিস্তর। ফলে দুই নেতার বৈঠকে শান্তির বার্তা থাকলেও বাস্তবে যুদ্ধ থামার রাস্তা এখনও কঠিন।
আলোচনায় জায়গা পেয়েছে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাও। মোদীর ব্যক্তিগত মনোযোগ দুই দেশের ‘বিশেষ ও সুবিধাপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’কে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মন্তব্য করেন পুতিন।
অন্য দিকে, সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে হতে চলা ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য পুতিনকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান মোদী। প্রধানমন্ত্রীর আশা, রুশ প্রেসিডেন্টের আসন্ন ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
তাই বিশকেকের সেই একই গাড়িতে চড়ার দৃশ্যকে নিছক সৌজন্য বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন। ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়াকে ঘিরে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও মস্কোর সঙ্গে নিজস্ব সম্পর্ক বজায় রাখার যে কৌশল নয়াদিল্লি অনুসরণ করছে, মোদী-পুতিনের ‘কারপুল কূটনীতি’ তারই এক ঝলমলে দৃশ্যমান প্রতীক।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



