হেডের শতক ও পিকের ঝড়ে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: হারারে স্পোর্টস ক্লাবে ১৮ সেপ্টেম্বর জিম্বাবোয়েকে ৮৪ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজে ২–০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য এগিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া।
- সফরকারীদের ৩৫৬/৬ জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তাদের সর্বোচ্চ এক দিনের সংগ্রহ।
- ৮৪ বলে তাঁর ১১২ রানে শুরু থেকেই গতি ও ঝুঁকির ভারসাম্য ছিল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: হারারে স্পোর্টস ক্লাবে ১৮ সেপ্টেম্বর জিম্বাবোয়েকে ৮৪ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজে ২–০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য এগিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। সফরকারীদের ৩৫৬/৬ জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তাদের সর্বোচ্চ এক দিনের সংগ্রহ। জবাবে স্বাগতিকেরা ৪৮.৩ ওভারে ২৭২ রান করেছে।
ইনিংসের কাঠামো তৈরি করেন ট্র্যাভিস হেড। ৮৪ বলে তাঁর ১১২ রানে শুরু থেকেই গতি ও ঝুঁকির ভারসাম্য ছিল। অধিনায়ক মিচেল মার্শের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ১৩০ রান। প্রথম বলেই সুযোগ দিয়েছিলেন মার্শ, কিন্তু জীবন পাওয়ার পরে ৬৩ বলে ৫৩ করেন। হেডের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে আরও ৬০ রান যোগ করেন কুপার কনলি।
কনলির ৬৯ বলে ৭৮ তাঁর টানা তৃতীয় এক দিনের অর্ধশতরান। তরুণ ব্যাটারের ধারাবাহিকতা অস্ট্রেলিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দক্ষিণ আফ্রিকা সফর ও আগামী বিশ্বকাপের আগে দলটি পুরনো তারকাদের পাশে নতুন মধ্যক্রম গড়ছে। বড় স্কোরের ভিত্তি হেড দিলেও শেষের ধাক্কা আসে ২০ বছরের অলি পিকের ব্যাটে। তিনি ১৮ বলে অপরাজিত ৪১ করেন; শেষ ওভারে মারেন তিনটি ছক্কা।
জিম্বাবোয়ের ব্র্যাড ইভান্স তিন উইকেট নিয়েছেন, কিন্তু নয় ওভারে দিয়েছেন ৮৬ রান। তাঁর পরিসংখ্যান ম্যাচের নির্মম দ্বৈততা দেখায়—উইকেট নেওয়ার চেষ্টা সফল হলেও শেষের ওভারগুলিতে ভুল দৈর্ঘ্যের দাম বহুগুণ হয়েছে।
জবাবে জিম্বাবোয়ে ৫০ রানে পৌঁছতেই ১৪ ওভার নিয়েছে। ৩৫৭ তাড়া করতে হলে শুরুতে উইকেট বাঁচানোর সঙ্গে ওভারপ্রতি প্রয়োজনীয় রানও সামলাতে হত; সেই দ্বিতীয় কাজটি দ্রুত নাগালের বাইরে চলে যায়। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা সর্বোচ্চ ৪৫ এবং ব্রেন্ডন টেলর ৩৯ করেন। টেলর এই সিরিজের প্রথম ম্যাচেই শচীন তেন্ডুলকরকে পেরিয়ে সময়ের হিসাবে দীর্ঘতম এক দিনের আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের মালিক হয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণে উইকেট ভাগ হয়েছে। চোট কাটিয়ে ফেরা জশ হ্যাজেলউড নয় ওভারে ৪৮ রানে দুই উইকেট নেন। অ্যাডাম জাম্পা ৬২ রানে দুই উইকেট নিয়ে এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০০ উইকেটের সীমা অতিক্রম করেন। দ্রুত বোলার বিলি স্ট্যানলেক চোট পাওয়ার পরে খণ্ডকালীন বোলারদের ওভার করতে হয়েছে—বড় স্কোর হাতে থাকায় সেই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন বিপদে পরিণত হয়নি।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে ম্যাট রেনশর শতরান ও নাথান এলিসের পাঁচ উইকেটে অস্ট্রেলিয়া ৫৯ রানে জিতেছিল। শেষ ম্যাচ ২০ সেপ্টেম্বর। তারপর দল যাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় তিন ম্যাচের আরেক সিরিজ খেলতে।
বিশ্লেষণ: স্কোরবোর্ডে একতরফা সিরিজ হলেও জিম্বাবোয়ের ২৭২ সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ নয়। শক্তিশালী আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ ওভার ব্যাট করা এবং একাধিক ব্যাটারের শুরু পাওয়া ইতিবাচক। সমস্যা হল, কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি এবং প্রথম ১৫ ওভারে প্রয়োজনীয় গতি হারিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য জয়টির সবচেয়ে মূল্যবান অংশ হেডের শতরানের বাইরে কনলি ও পিকের অবদান। তবে স্ট্যানলেকের চোট এবং ইভান্সের শেষ ওভারের মতো ঘটনাই মনে করায়, ৩৫৬ সব মাঠে নিরাপত্তা দেবে না। দক্ষিণ আফ্রিকায় বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আক্রমণের সামনে অস্ট্রেলিয়ার নতুন ব্যাটিং গভীরতার আসল পরীক্ষা হবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



