পরীক্ষার প্রশ্ন নয়, এবার পরীক্ষক সংস্থাকেই দেখতে যেতে চান বিচারপতিরা

যা জানা জরুরি
- জাতীয় পরীক্ষক সংস্থা বা এনটিএর সংস্কার নিয়ে শুনানির মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট তার নতুন সদর দপ্তর সরেজমিনে দেখার আগ্রহ জানিয়েছে।
- ১৮ সেপ্টেম্বর বিচারপতি পি এস নরসিমহা ও বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ বলেছে, দিল্লির মিন্টো রোডে সংস্থাটির নতুন কার্যালয়ের পরিকাঠামো, কর্মী এবং কাজের ব্যবস্থা নিজেরা…
- কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
জাতীয় পরীক্ষক সংস্থা বা এনটিএর সংস্কার নিয়ে শুনানির মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট তার নতুন সদর দপ্তর সরেজমিনে দেখার আগ্রহ জানিয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর বিচারপতি পি এস নরসিমহা ও বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ বলেছে, দিল্লির মিন্টো রোডে সংস্থাটির নতুন কার্যালয়ের পরিকাঠামো, কর্মী এবং কাজের ব্যবস্থা নিজেরা দেখতে চান। কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।
এটি কোনও আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন-আদেশ বা অনুসন্ধান কমিশন নয়। সফরের তারিখও এখনও নির্ধারিত হয়নি। বিচারপতিরা শুনানির সময়ে বলেছেন, দেশের কয়েক কোটি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার নিজস্ব স্থায়ী দপ্তর এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্থায়ী কর্মী থাকা দরকার। বেঞ্চের মত, মোট কর্মীর অন্তত অর্ধেক স্থায়ী হওয়া উচিত।
এনটিএর কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ হল, বিপুল পরীক্ষার দায়িত্ব থাকলেও সংস্থাটি চুক্তিভিত্তিক কর্মী, বাইরের প্রযুক্তি-সরবরাহকারী এবং অস্থায়ী পরীক্ষাকেন্দ্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে পরিবহণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা, পরীক্ষাকেন্দ্র বাছাই ও ফল প্রকাশ—প্রতিটি স্তরে বহু সংস্থা যুক্ত থাকলে ভুল বা জালিয়াতির দায় নির্দিষ্ট করা কঠিন হয়।
নিট–ইউজি পরীক্ষার অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পরে এনটিএ পুনর্গঠনের আবেদনগুলি সুপ্রিম কোর্টে আসে। আবেদনকারীদের মধ্যে চিকিৎসক সংগঠন ও সাংসদ সুধাকর সিং রয়েছেন। তাঁদের প্রস্তাবে প্রশ্নপত্রের ডিজিটাল তালা, পরীক্ষাকেন্দ্রের উন্নত নজরদারি, কেন্দ্রভিত্তিক ফল প্রকাশ এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে কম্পিউটার-নির্ভর পরীক্ষা নেওয়ার কথা রয়েছে।
আদালত কেন্দ্রকে দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি হলফনামা দিতে বলেছে। সেখানে নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বাধীন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কার্যদলের কাজ, পরীক্ষাব্যবস্থার প্রযুক্তিগত সংস্কার এবং সুপারিশ বাস্তবায়নের সময়সীমা জানাতে হবে। কার্যদলের প্রতিবেদন সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ আসার কথা। প্রতিবেদন এখনও জমা না-পড়ায় সম্ভাব্য সুপারিশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলা যাবে না।
কম্পিউটার-নির্ভর পরীক্ষা নিয়ে সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা দুই-ই আছে। প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও পরিবহণের ঝুঁকি কমানো যায় এবং উত্তর দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব। কিন্তু পর্যাপ্ত যন্ত্র, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, নিরাপদ সংযোগ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরীক্ষার্থীদের ডিজিটাল পরিচিতি না-থাকলে নতুন বৈষম্য তৈরি হতে পারে। পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর নজরদারিও জরুরি।
কেন্দ্রভিত্তিক ফল প্রকাশ অস্বাভাবিক নম্বরের গুচ্ছ শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে ছোট কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর পরিচয় অনুমান করা গেলে ব্যক্তিগত গোপনতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফল প্রকাশের বিন্যাস তাই উপাত্ত-সুরক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা প্রয়োজন।
বিচারপতিদের কার্যালয় দেখার আগ্রহ প্রতীকী হলেও গুরুত্বপূর্ণ। কাগজে কর্মীসংখ্যা ও নিরাপত্তা-প্রটোকল দেখা যায়; বাস্তবে কে কোন কাজ করেন এবং সিদ্ধান্তের দায় কোথায়, তা সরেজমিনে স্পষ্ট হতে পারে। তবে এক দিনের সফর কোনও প্রযুক্তিগত নিরীক্ষার বিকল্প নয়।
এনটিএ সংস্কারের সাফল্য নতুন ভবন দিয়ে মাপা যাবে না। পরীক্ষার আগে স্বাধীন নিরাপত্তা-পরীক্ষা, ঘটনার পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত, সরবরাহকারীর দায় এবং পরীক্ষার্থীকে দ্রুত প্রতিকার—এই চারটি ফল প্রকাশ করা প্রয়োজন। স্থায়ী কর্মী থাকলেও জবাবদিহি অস্পষ্ট হলে পুরনো দুর্বলতা নতুন দপ্তরেই থেকে যাবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



