অ্যাসাঞ্জ ফিরলেন, চমক বাকি!

যা জানা জরুরি
- দু’বছরেরও বেশি বিরতির পরে সমাজমাধ্যম এক্সে ফিরলেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ।
- ২০২৪ সালের জুনে ব্রিটিশ কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এই প্রথম নিজের অ্যাকাউন্টে বার্তা দিলেন তিনি।
- তাঁর প্রত্যাবর্তনের কথা নিশ্চিত করেছেন স্ত্রী স্টেলা অ্যাসাঞ্জও।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দু’বছরেরও বেশি বিরতির পরে সমাজমাধ্যম এক্সে ফিরলেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ২০২৪ সালের জুনে ব্রিটিশ কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এই প্রথম নিজের অ্যাকাউন্টে বার্তা দিলেন তিনি। তাঁর প্রত্যাবর্তনের কথা নিশ্চিত করেছেন স্ত্রী স্টেলা অ্যাসাঞ্জও। জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে আরও খবর আসছে। ফলে অ্যাসাঞ্জের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
নিজের বার্তার পাশাপাশি উইকিলিকসের একটি ঘোষণাও শেয়ার করেছেন অ্যাসাঞ্জ। সেই পোস্টে সিডনির জর্জ স্ট্রিটে তাঁর প্রতিকৃতি আঁকা একটি দেওয়ালের সামনে তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। স্টেলা জানিয়েছেন, জুলিয়ানের আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট ফের সক্রিয় হয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহে কী ঘোষণা করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কারাগার থেকে মুক্তির পথ
অ্যাসাঞ্জের প্রত্যাবর্তনের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ বন্দিজীবন এবং জটিল আইনি সংঘাতের ইতিহাস। লন্ডনে ইকুয়েডরের দূতাবাসে প্রায় সাত বছর কাটানোর পর তাঁকে বেলমার্শ কারাগারে থাকতে হয়েছিল আরও পাঁচ বছরের বেশি সময়। আমেরিকায় প্রত্যর্পণ ঠেকাতে ব্রিটিশ আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত মার্কিন কৌঁসুলিদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে মুক্তির পথ খুলে যায়। অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবানিজও এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের ২৬ জুন সাইপানে মার্কিন আদালতে হাজির হন অ্যাসাঞ্জ। জাতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশের ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন তিনি। আদালত তাঁকে ৬২ মাসের কারাদণ্ড দেয়। ব্রিটেনে ইতিমধ্যেই ওই সময় কারাগারে কাটানোয় নতুন করে বন্দি থাকতে হয়নি তাঁকে। পরে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার অনুমতি পান।
অর্থাৎ, সমঝোতার শর্তে দোষ স্বীকারের ভিত্তিতেই মুক্তি পেয়েছিলেন অ্যাসাঞ্জ। আদালত সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন ঘোষণা করে তাঁকে খালাস দেয়নি।
যে নথি বদলে দিয়েছিল বিতর্কের ভাষা
মামলার কেন্দ্রে ছিল মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন গোয়েন্দা বিশ্লেষক চেলসি ম্যানিংয়ের দেওয়া বিপুল পরিমাণ নথি। ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধ, গুয়ান্তানামো বন্দিশিবির এবং মার্কিন কূটনৈতিক যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছিল উইকিলিকস। বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল সেই প্রকাশনায়।
মার্কিন বিচার দফতরের অভিযোগ ছিল, কিছু নথিতে তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন না করায় তাঁদের নিরাপত্তা বিপন্ন হয়েছিল। এর ফলে সরকারি গোপনীয়তা রক্ষা এবং জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশের সীমা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
অন্য দিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বিপজ্জনক বলে সমালোচনা করেছিল। সংগঠনটির বক্তব্য ছিল, সরকারি অন্যায় প্রকাশ করে এমন গোপন নথি প্রকাশের জন্য শাস্তি দিলে তার প্রভাব শুধু একজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং প্রকাশকেরাও এর ফলে চাপে পড়তে পারেন।
মুক্তির পরেও সাংবাদিকতার প্রশ্ন
মুক্তির পরও নিজের কাজকে সাংবাদিকতা হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন অ্যাসাঞ্জ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাউন্সিল অব ইউরোপের সংসদীয় সভায় তিনি বলেন, সাংবাদিকতা করার দায় স্বীকার করেই মুক্তি পেয়েছেন।
তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, আইনি সমঝোতা ব্যক্তিগত বন্দিত্বের অবসান ঘটালেও তথ্য প্রকাশের অধিকার নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কের অবসান ঘটায়নি।
দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার পরে স্বাভাবিক পারিবারিক জীবনেও ফিরতে চেয়েছিলেন অ্যাসাঞ্জ। মুক্তির সময় স্টেলা জানিয়েছিলেন, তাঁর স্বামী সমুদ্রে সাঁতার কাটতে, স্বাভাবিক বিছানায় ঘুমোতে এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চাইছেন। তাঁদের দুই সন্তানের কাছেও বাবার ঘরে ফেরা ছিল বড় পরিবর্তন।
এ বার কী করবেন অ্যাসাঞ্জ?
এই পটভূমিতে এক্সে অ্যাসাঞ্জের প্রত্যাবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ। যে ব্যক্তির কাজকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, গোপন তথ্য এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তিনি ফের নিজের বক্তব্য সরাসরি জানানোর একটি পথ খুললেন।
তবে সমাজমাধ্যমে সক্রিয় হওয়া আর নতুন অনুসন্ধান বা নথি প্রকাশের কর্মসূচি ঘোষণা করা এক বিষয় নয়। আগামী সপ্তাহের ঘোষণার আগে তাঁর পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই।
অ্যাসাঞ্জ ফিরেছেন। এখন নজর, পরের ঘোষণায়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



