খবর

বাবুঘাট থেকে মায়াপুর, নদীপথে হাইব্রিড ফেরির পরিকল্পনা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: কলকাতার বাবুঘাট থেকে মায়াপুর পর্যন্ত হাইব্রিড বৈদ্যুতিক ফেরি চালানোর পরিকল্পনা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
  • প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ১৫ মাসের মধ্যে পরিষেবা শুরু করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
  • ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি গঙ্গার তীরবর্তী ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলিকে জলপথে যুক্ত করা এবং সড়কের চাপ কমানো প্রকল্পটির উদ্দেশ্য।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: কলকাতার বাবুঘাট থেকে মায়াপুর পর্যন্ত হাইব্রিড বৈদ্যুতিক ফেরি চালানোর পরিকল্পনা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ১৫ মাসের মধ্যে পরিষেবা শুরু করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি গঙ্গার তীরবর্তী ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলিকে জলপথে যুক্ত করা এবং সড়কের চাপ কমানো প্রকল্পটির উদ্দেশ্য।

হাইব্রিড ফেরিতে সাধারণত বৈদ্যুতিক শক্তির সঙ্গে অন্য একটি জ্বালানি বা শক্তির উৎস থাকে। নদীপথ ও নৌযানের আকার অনুযায়ী প্রযুক্তি বদলায়। রাজ্য সরকারকে তাই ব্যাটারির ক্ষমতা, সহায়ক ইঞ্জিনে কী জ্বালানি ব্যবহৃত হবে, একবার চার্জে কত দূর চলবে এবং ঘাটে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকল্পপত্র প্রকাশ করতে হবে।

বাবুঘাট থেকে মায়াপুরের পথ সাধারণ শহুরে ফেরির তুলনায় অনেক দীর্ঘ। যাত্রার সময়, মাঝপথের ঘাট, রাতের নৌচলাচল এবং বর্ষায় নদীর স্রোত বিবেচনা করা জরুরি। ধর্মীয় পর্যটক ছাড়াও নদীতীরের বাসিন্দারা পরিষেবাটি ব্যবহার করতে পারবেন কি না, ভাড়ার কাঠামো থেকে তা বোঝা যাবে।

বাংলার পরিবহণে নদীপথ একসময় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সড়ক ও রেলের প্রসারের পরে বহু যাত্রাপথ হারিয়ে গেছে। জলপথ পুনরুজ্জীবন সড়কের যানজট ও দূষণ কমাতে পারে, কিন্তু ঘাট পর্যন্ত পৌঁছনোর সংযোগ দুর্বল হলে যাত্রী শেষ পর্যন্ত গাড়ির উপরেই নির্ভর করবেন। বাস, মেট্রো ও লোকাল ট্রেনের সময়ের সঙ্গে ফেরির সমন্বয় দরকার।

নিরাপত্তা প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রতিটি যাত্রীর জন্য জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেট, রাতের দিকনির্দেশ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, অতিরিক্ত যাত্রী আটকানোর ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষিত কর্মী বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। নদীতে কুয়াশা, ঝড় বা হঠাৎ জলস্তর বদলের জন্য পরিষেবা বন্ধের স্পষ্ট নিয়ম প্রয়োজন।

বৈদ্যুতিক নৌযানকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দূষণমুক্ত বলা যায় না। বিদ্যুৎ কোন উৎস থেকে আসছে, ব্যাটারি কোথায় তৈরি ও পরে নিষ্পত্তি হবে এবং নদীর জীববৈচিত্র্যে জেটি নির্মাণের প্রভাব কী—পূর্ণ পরিবেশগত হিসাব সেখানে থাকবে। তবে ডিজেলচালিত পুরনো ফেরির তুলনায় স্থানীয় ধোঁয়া ও শব্দ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

ধর্মীয় পর্যটনের সঙ্গে নদীতীরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও যুক্ত। অতিরিক্ত দর্শক এলে প্লাস্টিক, নিকাশি ও ঘাটের চাপ বাড়বে। মায়াপুর এবং মাঝপথের গন্তব্যগুলিতে পরিচ্ছন্নতা ও জনসুবিধা বাড়ানো না হলে ফেরি শুধু সমস্যাকে দ্রুত পৌঁছে দেবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গঙ্গাকে শহরের পিছনের সীমানা নয়, চলাচলের প্রধান পথ হিসেবে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু ১৫ মাসের লক্ষ্যকে বিশ্বাসযোগ্য করতে খরচ, দরপত্র, নৌযানের সংখ্যা ও ভাড়ার তথ্য এখন থেকেই প্রকাশ করা প্রয়োজন।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles