প্রায় সাত বছর পরে ভারত সফরে এসে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। দুই নেতা বলেছেন, ভারত ও চিনকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত এবং মতপার্থক্যকে বিরোধে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। ২০২০ সালের পূর্ব লাদাখ সংঘাতের পরে সম্পর্কের তীব্র অবনতির প্রেক্ষাপটে এই ভাষা গুরুত্বপূর্ণ।

মোদী আলোচনায় ‘পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা এবং পারস্পরিক স্বার্থ’—এই তিন নীতির কথা বলেছেন। ভারত গত কয়েক বছর ধরে চিনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত হিসেবে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতার উপর জোর দিয়েছে। শি দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিতে সম্পর্ক দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে পূর্ব লাদাখের কয়েকটি সংঘাতস্থল থেকে সেনা পিছিয়ে নেওয়ার পরে ধীরে ধীরে সরাসরি বিমান, ভিসা, কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা এবং চিনা বিনিয়োগের কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়েছে। কিন্তু সেনা প্রত্যাহার ও সীমান্তবিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এক নয়। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার সব এলাকায় আগের টহল-অধিকার ফিরেছে কি না, সে প্রশ্নও পুরো মেটেনি।

দুই দেশের বাণিজ্য বিপুল হলেও ভারসাম্য চিনের পক্ষে। ভারত ওষুধ, বৈদ্যুতিন যন্ত্র, সৌরশক্তি, দূরসংযোগ এবং শিল্পের বিভিন্ন উপাদানের জন্য চিনা সরবরাহের উপর নির্ভরশীল। সীমান্তে রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও এই অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাতারাতি বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হয়নি।

আলোচনায় বাণিজ্য, মানুষে-মানুষে যোগাযোগ এবং সীমান্তে শান্তির কথা এসেছে। তবে কোনও যৌথ বিস্তারিত পথনির্দেশ বা সীমান্ত-সমাধানের সময়সীমা ঘোষণা হয়নি। শীর্ষ বৈঠকের সৌহার্দ্যকে তাই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক সম্পর্ক ধরে নেওয়া তাড়াহুড়ো হবে।

ভারতের উদ্বেগের মধ্যে চিন-পাকিস্তান সম্পর্ক, ভারত মহাসাগরে চিনা উপস্থিতি এবং ব্রহ্মপুত্রের উজানে বাঁধও রয়েছে। চিনের দৃষ্টিতে ভারতের আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কোয়াড সহযোগিতা সন্দেহের বিষয়। একটি বৈঠক এই কাঠামোগত মতভেদ দূর করে না।

তবু সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্ব কম নয়। দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশীর সেনা মুখোমুখি থাকলে ভুল বোঝাবুঝিও বড় সংঘাতে পরিণত হতে পারে। সামরিক কমান্ডার, কূটনীতিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিয়মিত যোগাযোগ সেই ঝুঁকি কমায়।

বৈঠকের সাফল্য মাপতে আগামী কয়েক মাসে তিনটি বিষয় দেখতে হবে: সীমান্তে নতুন সংঘর্ষ হয় কি না, ভিসা ও বিমান যোগাযোগ সত্যিই সহজ হয় কি না এবং বাণিজ্যের বাধা নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত আসে কি না। আপাতত দিল্লির ছবি সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা দেখিয়েছে; বিশ্বাস পুনর্গঠন এখনও অসমাপ্ত।