খবর

মৃত্যুর হিসাবে ‘গরমিল’, সত্য নিকেতনে বিক্ষোভের মধ্যেই ঘর ছাড়ছেন পড়ুয়ারা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নয়াদিল্লি: সত্য নিকেতনে ছাত্রাবাসের বাড়ি ধসে মৃত্যুর সংখ্যা সঠিকভাবে জানানো হচ্ছে না—এই অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের বিক্ষোভ শুরু করেছেন প্রায় দেড়শো পড়ুয়া।
  • তাঁদের দাবি, হতাহতের সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
  • অন্যদিকে বিপজ্জনক ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযানের মধ্যে জিনিসপত্র নিয়ে এলাকা ছাড়ছেন শত শত ছাত্রছাত্রী।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নয়াদিল্লি: সত্য নিকেতনে ছাত্রাবাসের বাড়ি ধসে মৃত্যুর সংখ্যা সঠিকভাবে জানানো হচ্ছে না—এই অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের বিক্ষোভ শুরু করেছেন প্রায় দেড়শো পড়ুয়া। তাঁদের দাবি, হতাহতের সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করতে হবে। অন্যদিকে বিপজ্জনক ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযানের মধ্যে জিনিসপত্র নিয়ে এলাকা ছাড়ছেন শত শত ছাত্রছাত্রী। ফলে বাড়ি ধসের পরে একই সঙ্গে সামনে এসেছে মৃত্যুর হিসাব নিয়ে বিতর্ক এবং নিরাপদ বাসস্থানের সঙ্কট।

দ্য হিন্দুর প্রকাশিত সারাংশ অনুযায়ী, আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা প্রকাশিত মৃত্যুর হিসাবের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে মৃতের সংখ্যা ঘোষিত হিসাবের চেয়ে বেশি, এমন দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। পুলিশের বক্তব্য উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, রবিবারের দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। পড়ুয়াদের পূর্ণ তথ্য প্রকাশের দাবি এবং পুলিশের দেওয়া সংখ্যার মধ্যে এই পার্থক্যই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। অভিযোগের সমর্থনে অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের কাছে ভেঙে পড়ে ‘হস্টেল ডেজ’ নামে পরিচিত পাঁচতলা বাড়িটি। সেখানে ছেলেদের ভাড়ার আবাসন চলত। দুর্ঘটনার সময় বাড়িতে মেরামতির কাজ হচ্ছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুরনো ভবনে অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং সংস্কারের বিষয় উঠে এসেছে। তবে ধসের চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ তদন্তসাপেক্ষ। দিল্লি সরকার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের খোঁজে একাধিক রাজ্যে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ বলে জানা গিয়েছে।

দুর্ঘটনার পরে আশপাশের ভবনগুলির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নির্দেশে ধসে পড়া বাড়ির পাশের একটি জরাজীর্ণ ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুরনিগম। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, দমকলকর্মীরা ভবনটির ভিতর থেকে ছাত্রছাত্রীদের জিনিসপত্র নিরাপদে সরিয়ে আনছেন। প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পড়ুয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে। বেআইনি নির্মাণের নজরদারির দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুরকর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এই অভিযানের মধ্যেই ভাড়ার আবাসন ছেড়ে চলে যাচ্ছেন বহু পড়ুয়া। কলেজের কাছে থাকার সুবিধার জন্য এত দিন সত্য নিকেতন বেছে নিয়েছিলেন তাঁরা। এখন সেই পরিচিত ঠিকানা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় খুঁজতে হচ্ছে। বিপজ্জনক বাড়ি খালি করার প্রয়োজনের পাশাপাশি তাই জরুরি হয়ে উঠেছে বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা। এলাকা ছাড়ার দৃশ্য বুঝিয়ে দিচ্ছে, দুর্ঘটনার অভিঘাত কেবল ধসে পড়া ভবনের আবাসিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ছাত্রাবাসের ঘাটতি এই সমস্যাকে আরও জটিল করেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯১টি কলেজের মধ্যে ৭১টিতে ছাত্রাবাস নেই। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ মিলিয়ে ছাত্রাবাসে আসন আনুমানিক সাত হাজার। অথচ শিক্ষার্থীদের বড় অংশ দিল্লির বাইরে থেকে আসেন। ফলে দক্ষিণ ক্যাম্পাসের সত্য নিকেতনের মতো এলাকায় বেসরকারি আবাসনের উপর নির্ভরতা ব্যাপক। কলেজে ভর্তি হওয়ার পরেও থাকার জায়গা নিশ্চিত হয় না বহু শিক্ষার্থীর।

এর মধ্যেই উদ্ধারস্থলে মোবাইল ফোনের যোগাযোগ বন্ধ করতে যন্ত্র বসানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের বক্তব্য, পুলিশ, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং দমকল মোবাইল ফোনেই নির্বিঘ্নে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করেছে। সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষও সেখান থেকে সরাসরি সম্প্রচার করেছেন। পুলিশের এই ব্যাখ্যা অবশ্য মোবাইল যোগাযোগ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে; মৃত্যুর হিসাব নিয়ে আন্দোলনকারীদের প্রশ্নের সরাসরি জবাব হিসেবে সেটিকে ধরা যায় না।

মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী এমসে গিয়ে আহত পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ সরকার বহন করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বাড়ি ধসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও সংবাদসংস্থা আইএএনএস জানিয়েছে। প্রশাসন বিপজ্জনক ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, কিন্তু ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসা পড়ুয়াদের সামনে আপাতত সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন—এর পরে তাঁরা কোথায় থাকবেন। পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা চাইছেন দুর্ঘটনায় হতাহতের পূর্ণাঙ্গ হিসাব।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles