খবর

বেআইনি নির্মাণে দেশজুড়ে নির্দেশিকার ভাবনা সুপ্রিম কোর্টের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নয়াদিল্লি: দিল্লির সত্য নিকেতনে ছাত্রাবাস ভেঙে সাত জনের মৃত্যুর পরে বেআইনি ও বিপজ্জনক নির্মাণ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে নির্দেশিকা তৈরির ইঙ্গিত দিল সুপ্রিম কোর্ট।
  • মঙ্গলবার বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ জানায়, বিষয়টি সর্বভারতীয় পরিসরে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
  • দিল্লি হাই কোর্টে চলা সংশ্লিষ্ট মামলাটিও প্রয়োজনে নিজেদের কাছে স্থানান্তর করতে পারে শীর্ষ আদালত।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নয়াদিল্লি: দিল্লির সত্য নিকেতনে ছাত্রাবাস ভেঙে সাত জনের মৃত্যুর পরে বেআইনি ও বিপজ্জনক নির্মাণ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে নির্দেশিকা তৈরির ইঙ্গিত দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ জানায়, বিষয়টি সর্বভারতীয় পরিসরে বিবেচনা করা প্রয়োজন। দিল্লি হাই কোর্টে চলা সংশ্লিষ্ট মামলাটিও প্রয়োজনে নিজেদের কাছে স্থানান্তর করতে পারে শীর্ষ আদালত। আগামী বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, পরবর্তী শুনানি হবে।

আদালতের বক্তব্য, সত্য নিকেতনের বিপর্যয় ঘিরে হাই কোর্ট যে প্রশ্নগুলি বিবেচনা করছে, তার সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত বৃহত্তর মামলার মিল রয়েছে। আবাসিক এলাকায় অনুমতিহীন নির্মাণ, অগ্নিসুরক্ষার ঘাটতি এবং নিয়ম ভেঙে বসতবাড়িকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের বিষয়গুলি ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতের নজরে রয়েছে। তবে মঙ্গলবারের পর্যবেক্ষণকে চূড়ান্ত নির্দেশিকা বলে গণ্য করা যাবে না।

আদালতবান্ধব হিসেবে নিযুক্ত প্রবীণ আইনজীবী অজিত কুমার সিন্‌হা এ দিন জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানান। তাঁর দাবি, দিল্লির কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আশপাশে থাকা বেসরকারি ছাত্রাবাস, পেয়িং গেস্ট আবাসন এবং পড়ুয়াদের থাকার অনুরূপ প্রতিষ্ঠানগুলিতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পরিদর্শন ও নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হোক। আগে নির্ধারিত কয়েকটি এলাকার বাইরে এই পরীক্ষার পরিধি বাড়ানোর অনুমতিও চান তিনি।

সিন্‌হার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিদর্শনের সময় অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণ মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। বাড়িতে কতগুলি তলা রয়েছে, ভূগর্ভস্থ অংশে নির্মাণ বা পরিবর্তন হয়েছে কি না, জমির ব্যবহার অনুমোদন অনুযায়ী হচ্ছে কি না—এসবও যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি কাঠামোর স্থায়িত্ব, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ এবং বিপজ্জনক বা জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়গুলি পরীক্ষার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটি এর আগে লাজপত নগর, সাকেত ও মালব্য নগরের ভবনগুলি পরিদর্শনের দায়িত্ব পেয়েছিল। সেই তালিকায় সত্য নিকেতন ছিল না। সিন্‌হা জানিয়েছেন, পরীক্ষায় সৈদুলাজাব, সাকেত এবং লাজপত নগরের কয়েকটি বাড়ির অবস্থা বিপজ্জনক বলে ধরা পড়েছে। ওই পরিদর্শনের বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত হচ্ছে; তা শীঘ্রই আদালতে জমা দেওয়ার কথা।

এই কমিটিতে দিল্লি আইআইটির অধ্যাপক ও পুরনিগমের আধিকারিকেরাও রয়েছেন। এর আগে আদালত সতর্ক করেছিল, নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হতে পারে।

দিল্লি সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেন। নিহতদের পরিবার এবং পড়ুয়াদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বেঞ্চকে জানান, বিষয়টি নিয়ে দিল্লি হাই কোর্টে ইতিমধ্যেই একটি জনস্বার্থ মামলা চলছে। সোমবার হাই কোর্টের দেওয়া আদেশও তিনি শীর্ষ আদালতের সামনে তুলে ধরেন।

৬ সেপ্টেম্বর, রবিবার, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের কাছে সত্য নিকেতনে পাঁচতলা বাড়িটি ভেঙে পড়ে। সেখানে ছেলেদের বেসরকারি ছাত্রাবাস চলত। দীর্ঘ উদ্ধারকাজ শেষে সাত জনের মৃত্যু এবং পাঁচ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ঘটনায় বাড়ির মালিক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দিল্লি পুরনিগমের পাঁচ কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও তদন্তাধীন। আদালতবান্ধবের প্রতিবেদনে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার আগে বাড়িটির ভূগর্ভস্থ অংশে বা তার আশপাশে নির্মাণের কাজ চলছিল। সেখানে জল জমার খবরও ছিল। একই এলাকায় ২০২২ সালের এপ্রিলে আরেকটি বাড়ি ভেঙে দু’জনের মৃত্যু ও চার জনের আহত হওয়ার ঘটনাও আদালতের নজরে আনা হয়েছে।

এদিকে দিল্লি হাই কোর্ট পুরনিগমকে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ভবনটির নির্মাণের বৈধ অনুমতি ছিল কি না এবং নজরদারিতে কারও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। হাই কোর্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত ছাত্রাবাসের অভাব ও অনিরাপদ বেসরকারি আবাসনের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট পরিদর্শনের পরিধি বাড়ানো এবং দেশব্যাপী ব্যবস্থার প্রশ্ন বিবেচনা করবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles