খবর

৯/১১-র স্মরণেও নিজেই কেন্দ্রে, ট্রাম্পের বদলাতে থাকা বয়ান ঘিরে বিতর্ক

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ওয়াশিংটন: অনুষ্ঠান ছিল ১১ সেপ্টেম্বরের হামলায় নিহত উদ্ধারকর্মীদের শ্রদ্ধা জানানোর।
  • কিন্তু সেই মঞ্চেও নিজের অভিজ্ঞতার নাটকীয় বিবরণ সামনে আনলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
  • মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের কাছে আয়োজিত স্মরণসভায় তাঁর দাবি, ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়া একটি ভবনের কাছ থেকে দুই দমকলকর্মী তাঁকে প্রায় তুলে নিয়ে নিরাপদ…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ওয়াশিংটন: অনুষ্ঠান ছিল ১১ সেপ্টেম্বরের হামলায় নিহত উদ্ধারকর্মীদের শ্রদ্ধা জানানোর। কিন্তু সেই মঞ্চেও নিজের অভিজ্ঞতার নাটকীয় বিবরণ সামনে আনলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের কাছে আয়োজিত স্মরণসভায় তাঁর দাবি, ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়া একটি ভবনের কাছ থেকে দুই দমকলকর্মী তাঁকে প্রায় তুলে নিয়ে নিরাপদ জায়গায় সরিয়েছিলেন। এএফপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক।

ট্রাম্পের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার পরে তিনি নিজের নির্মাণকর্মীদের নিয়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসস্থলে গিয়েছিলেন। কাছের ইউএস স্টিল ভবন থেকে তখন অস্বাভাবিক শব্দ আসছিল। সেটি তাঁদের মাথার উপরে ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা হয়। তখন দুই সুঠাম দমকলকর্মী তাঁর দুই বাহু ধরে তুলে নিয়ে দৌড়তে শুরু করেন। নিজের ভারী চেহারার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, তাঁকে এভাবে সরানো সহজ কাজ ছিল না। তিনি তাঁদের বলেছিলেন, নিজেই দৌড়তে পারেন। ভবনটি অবশ্য ভাঙেনি।

তবে দমকলকর্মীদের সঙ্গে পালানোর গল্প একেবারে নতুন নয়। ‘পিপল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচনী প্রচারেও প্রায় একই ঘটনা বলেছিলেন ট্রাম্প। সেবার জানিয়েছিলেন, দুই দমকলকর্মী তাঁর বাহু ধরে ছিলেন এবং তাঁরা একসঙ্গে দৌড়েছিলেন। এবারের বর্ণনায় দমকলকর্মীরা তাঁকে তুলে নিয়ে দৌড়েছেন। ঘটনার এই বিবরণের পক্ষে প্রকাশ্য স্বাধীন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

উদ্ধারকাজে নিজের ভূমিকা নিয়েও বহু বছর ধরে দাবি করে এসেছেন ট্রাম্প। তথ্যযাচাই সংস্থা পলিটিফ্যাক্ট জানিয়েছে, ২০০১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাঁর শতাধিক কর্মী ঘটনাস্থলে কাজ করছেন, আরও কর্মী আসছেন। কিন্তু এমন কোনও দলের উদ্ধারকাজে যুক্ত থাকার নথি পাওয়া যায়নি। নিউ ইয়র্ক দমকলের তৎকালীন আধিকারিক রিচার্ড অ্যালেস জানিয়েছিলেন, কাজটি পুলিশ ও দমকলের তত্ত্বাবধানে চলছিল; এতজন শ্রমিক যোগ দিলে তার রেকর্ড থাকার কথা।

একই সঙ্গে পলিটিফ্যাক্টের অনুসন্ধানে একটি প্রয়োজনীয় পার্থক্যও রয়েছে। হামলার পরবর্তী দিনগুলিতে ধ্বংসস্থলের কাছাকাছি ট্রাম্পের উপস্থিতির ছবি ও সাক্ষাৎকার আছে। কিন্তু সেখানে উপস্থিত থাকা এবং সরাসরি উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া আলাদা বিষয়। দ্বিতীয় দাবিটির সমর্থনে প্রমাণ মেলেনি। অ্যালেসও ট্রাম্প কখনও ব্যক্তিগতভাবে সেখানে যাননি, এমন চূড়ান্ত দাবি করেননি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ব্যাখ্যা দেন ট্রাম্প। জানান, টাওয়ার ভাঙার দিন তিনি সেখানে ছিলেন না; নির্মাণকর্মীদের একটি বড় দল নিয়ে গিয়েছিলেন কিছুদিন পরে, আইনত যাওয়ার অনুমতি মিলতেই। সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পুরনো ভিডিও দেন। সংবাদমাধ্যমকে মিথ্যা খবর ছড়ানোর অভিযোগেও আক্রমণ করেন।

অনুষ্ঠানে মরণোত্তর সর্বোচ্চ মার্কিন অসামরিক সম্মান ‘প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ দেওয়া হয় ওয়েলস ক্রাউদারকে। চব্বিশ বছরের এই শেয়ার ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী সাউথ টাওয়ার থেকে মানুষকে বের করে আনতে গিয়ে প্রাণ হারান। মুখে লাল রুমাল বাঁধা থাকায় বেঁচে ফেরা মানুষদের স্মৃতিতে তাঁর পরিচয় হয়েছিল ‘লাল রুমালের মানুষ’। তাঁর মা ও বোন পদক গ্রহণ করেন। মঞ্চে রাখা ছিল সাউথ টাওয়ারের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা ইস্পাতের একটি বিম। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীদের সাহস এবং নিহতদের পরিবারের ত্যাগকে স্মরণ করতেই এই আয়োজন। ধ্বংসস্তূপের বিম আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরিয়ে আনা হয়েছে স্মৃতির প্রতীক হিসেবে। 

ক্রাউদারের কথা বলতে গিয়েও নিজের প্রসঙ্গ টানেন ট্রাম্প। হেসে মন্তব্য করেন, তিনি তাঁর চেয়েও বিখ্যাত হয়ে গিয়েছেন, যা তাঁর পছন্দ নয়।

এদিকে হামলার পঁচিশ বছর পূর্তিতে শুক্রবার নিউ ইয়র্কের মূল স্মরণানুষ্ঠানে থাকছেন না প্রেসিডেন্ট। তিনি যাবেন পেন্টাগনে। বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় তাঁর এই সিদ্ধান্ত—এমন সংবাদমাধ্যমের দাবি ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেছে। নিউ ইয়র্কে উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স এবং চার প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের উপস্থিত থাকার কথা। জাতীয় শোকের স্মরণমুহূর্তের আগে তাই ফের আলোচনায় ট্রাম্পের নিজের ভূমিকা নিয়ে তাঁরই বদলাতে থাকা বয়ান।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles